 |
ঢাকা: একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা সংবিধান লংঘনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনকে জাতীয় সংসদের স্পিকার আব্দুল হামিদের রুলিংয়ের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
অভিজ্ঞ এই পার্লামেন্টারিয়ান বলেছেন, ‘স্পিকারের রুলিংয়ের আলোকে ব্যবস্থা নিন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আরও কার্যকর করুন। সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী বিচারপতিদের জবাবদিহিতা সংসদের কাছে। শুধু একটি ঘটনার জন্য নয়, আরও শৃঙ্খলার জন্য এ কাউন্সিল করা হবে বলে আশা করি।’
বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় নাগরিক সংসদ আয়োজিত
‘নিরপেক্ষ নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহবান জানান।
এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আরও বলেন, ‘স্পিকার যেভাবে রুলিং দিয়েছেন তা সঠিকভাবেই দিয়েছেন। একজন বিচারক সংবিধান লংঘন করেছেন। এখন এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকেই উদ্যোগ নিতে হবে।’
‘প্রধান বিচারপতি কি ব্যবস্থা নেন জাতি তা দেখতে চায়’ দাবি করে মওদুদ বলেন, ‘কার্যকর ব্যবস্থা নিলে সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।’
‘নইলে বিশৃঙ্খলা আরো বাড়ার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের পবিত্রতাও নষ্ট হবে’ বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন অভিজ্ঞ এ আইনজীবী।
আসন্ন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, ‘সরকারের এ বাজেট নিম্নমুখী, উর্দ্ধমুখী নয়। এ বাজেট সাড়ে তিন বছরে গড়া কালো টাকা সাদা করতেই করা হয়েছে বলে মনে হয়। নয়টি নতুন ব্যাংকে চারশ’ কোটি সাদা টাকা লাগবে। ওই টাকার প্রয়োজনেই বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে।’
বিএনপি শাসনামলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের সময়ও এ সুযোগ ছিলো। কিন্তু খাত নির্দিষ্ট করা ছিলো। এবার এ সুযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট খাত রাখা হয়নি।’
উন্মুক্ত খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি কোন নির্দিষ্ট সেক্টরে এ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হতো তাহলে অন্তত কয়েকশ’ শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা হতো।’
আগামী ২৮ জুনের মধ্যে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার উন্মুক্ত প্রস্তাব সংশোধনেরও দাবি জানান তিনি।
‘রাষ্ট্র থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে’ মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, ‘একগুঁয়েমির কারণে গণতন্ত্র ব্যর্থ হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আওয়ামী লীগ। যতো যাই হোক, বর্তমান সরকারকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে।’
রাজনীতিকে গতিশীল বিজ্ঞান আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যে কোন মুহূর্তে যে কোন পরিবর্তন আসতে পারে। হঠাৎ তারা দেখবেন তারা ক্ষমতায় নেই। কিন্তু ততোক্ষণে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।’
মওদুদ বলেন, ‘ক্ষমতায় যেতে নয়, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতেই নির্দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচন দাবি করছি। কে জিতবে সেটা বড় কথা নয়। জনগণের ইচ্ছায় জনগণের পছন্দের দল ক্ষমতায় বসবে এটাই আমাদের চাওয়া।’
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদপত্রগুলো সব সরকারে পক্ষে বলে জানতাম। এখন এগুলোতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে পক্ষে লেখা হচ্ছে।’
‘বিভক্ত জাতি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে পারে না’ বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশেরই একটি শক্তি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে না পারলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে না।’
জাতীয় নাগরিক সংসদ সভাপতি খালেদা ইয়াসমীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, শিক্ষক নেতা অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, এলডিপি নেতা শাহাদৎ হোসেন সেলিম, স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৩ ঘণ্টা, জুন ২০, ২০১২
এসকেএস/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর