১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শুক্রবার মে ২৪, ২০১৩ ১২:২৫ পিএম BDST banglanew24
08 Oct 2012   04:13:43 PM   Monday BdST
E-mail this

অনুপ আইচ-এর গল্প

অভিশপ্ত যৌনাচার


অনুপ আইচ
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
অভিশপ্ত যৌনাচার অনুপ আইচ-এর গল্প

ঘুম থকে উঠে ঠিক কি করা উচিৎ, কি করা যেতে পারে এই ধরনের ভাবনায় তার মতদ্বৈততা শুরু হয়। আজকের সকাল শুরু হলো পানিহীন দু’পেগ উত্তেজক ভদকা দিয়ে। শরীরে উষ্ণতা পেয়ে এক ধরনের শীতলতাও তার মাঝে কাজ করতে শুরু করে। কপালের আয়তন সমতল ভূমির ন্যায় ফেরত আসলে ধরে নেই তার নাম মাহাবুব কামাল; যাকে হয়তো আমরা কামাল নামে চিহ্নিত করতে পারি। তাকে যুবক বলা সমীচীন, বিয়ে করেছে বছর দেড়েক হলো। ওই তো দেখুন না, ও যেখানটাতে বসে মদ খাচ্ছে তার পিছে এক অগোছালো মায়াবিনী শুয়ে আছে- ব্লাউজের বোতাম খোলা থাকার কল্যাণে তার বাম স্তন চেয়েছিলো মদের গ্লাসের দিকে। মাহাবুব কামাল ৩য় পেগ নিয়ে বিষ খাওয়ার ভঙ্গি করে, মুখ কুচকিয়ে খেলো যা তার না খেলেই নয়। কিন্ত আজ একটু মাত্রা ছাড়া, ভিন্ন মাত্রায় তার স্ত্রীর প্রতি হঠাৎ করেই খুব বিতৃষ্ণা জেগে ওঠে। স্ত্রীকে আমরা রাশেদা নাম কল্পনা করে আগাতে পারি, কিংবা যে, যে- ভাবে পাঠোদ্ধার করবে তারা তাদের মতো নাম রেখে, চেখেও দেখতে পারে! কামাল ঠিক বুঝে উঠতে পারে না তার কি করা উচিৎ! স্ত্রীর মাথার কাছ থেকে সিগারেটের প্যাকেট টান দিতেই বেড়িয়ে আসে একটি কনডমের ইনট্যাক্ট প্যাকেট। কামাল কনডমের প্যাকেটটি হাতে ধরে এপাশ-ওপাশ ঘুরায়; অকস্মাৎ ছুড়ে মারে সেটি জানালার দিকে। হাওয়ায় হাওয়ায় দুলতে দুলতে কনডমের আনকোরা প্যাকেটটি বাড়ির বাইরে, কার্ণিশে কিম্বা ঘরের মধ্যেই হয়তো পরেছে কোথাও... আরেক পেগ ভদকা এবার একটু জল সহকারে একটি সচিত্র গ্লাসে ঢেলে বাথরুমে চলে যায় মাহাবুব কামাল। বাথরুমের দরজা খোলা থাকার সুবাদে কামাল কমোডে বসে আরামের সহিত আরেকটু চুমুক দিলে, মল বর্জনের শব্দে রাশেদা জামানের ঘুম ভাঙে। দিনের শুরুটা যদি এমনি করে কোনো মানুষের হয়, সেটা কি পরিমান সহনীয় এমনতর ক্রোধে রাশেদা বাথরুমের দিকে ধেয়ে আসে।

-    টয়লেট করবার সময় কি দরজাটা আটকিয়ে নেয়া উচিৎ না। অপদার্থ একটা...
-    (মস্তক ধীরলয়ে নিচ হতে রাশেদার মুখের দিকে চেয়ে অধিক নির্লিপ্ততার সাথে) আমি কি তোমার মুখে হাগতে বসছি!
-    তোমার যা অবস্থা, তুমি তাও করতে পার।
-    না পারি না। কারণ তোমার মুখটা অনেক বেশি নোংরা। অর চে এই কমোড, ঢের ভালো। যাও, দূর হও।
-    ওহ, ইউ আর আ মাদারফাকার...

গট গট করে হেটে চলে যায় রাশেদা জামান তার বেডরুম সংশ্লিষ্ট বিছানার কাছে। শোয় কিন্তু ঘুম আসে না। ফলত বিছানা হইতে পুনরায় উঠিয়া সে আয়নার সন্নিকটে গেলে পরে তার দৃষ্টি নিক্ষেপ হয় হুকখোলা ব্লাউজের দিকে। সে একবার লাগাতে গিয়ে পরক্ষণেই কি যেন কি মনে করিয়া খুলে ফেলে অর্ধ বিবস্র রূপে ধরা দেয় আয়নার প্রকোষ্ঠে। কি যেন কি নিরিখ করে চলে, তার নিজ শরীরের মাঝে। বাইরে রোদ্দুরের ছটা নামে। রাশেদা একমুঠো ওষুধ মুখে নিয়ে এক গ্লাস জল শেষ করে নিমিষের মাঝে। কাকের অসহনীয় চিৎকারে আরও কিছু ধূলা ওড়ে পথে ও প্রবাসে। তাতে অবশ্য মাহাবুব কামালের বিশেষ কিছু এসে যায় না। কিন্তু যখন মদের বোতলটা বাথরুম হতে ফিরে এসে পাচ্ছিলো না, তখন কিন্তু তার মস্তিষ্কে ফের রাশেদার প্রতি নতুন এক ক্রোধসম্বলিতসন্দেহ তৈরি হয়। দ্রুততার সাথে শোবার ঘরের দিকে রওয়ানা দিলে কি জানি কি একটা ধাক্কা লেগে পরে গেলে পর ভাঙ্গনের সাবলীল শব্দ শোনা যায়।

-    এই বেয়াদব মহিলা, আমার মদ কই?
অপর প্রান্ত হতে কোনও সারাশব্দ আসে না, তাই রাশেদা খাটের খুব কাছে চলে এসে পুনরায়
-    আমি জানতে চাচ্ছি আমার মদ কই। দাও।
-    (আধাভাঙ্গা ঘুম থেকে উঠে) তুমি সত্যি একটা পারভারট...
-    আমি একটা পারভারট। ওকে। তুমি একটা পাইরেট। হলো। এবার মানে মানে মদটা দাও তো। ওটা তোমার প্রপিতামহ দিয়ে যান নাই।
-    এই সমস্যাটা কী?(রাশেদা এবার আক্রমণাত্মক উদ্যমে বিছানায় উঠে বসে) যা ইচ্ছা তাই শুরু করছ। আজই শেষ... এনাফ।
-    ওকে, বাবা যাও। আমার নেশাটা জমতে আরও তিন পেগ লাগবে। মালটা দাও তো... এরপর যা খুশি কর...
-    সাইকো,(জানালার পাশে একটা টেবিলের কোনায় অ্যাস্ট্রে ও মদের বোতলটি দেখিয়ে) মাতাল একটা। উই যে তোর ওষুধ। খা। অসুস্থ কোথাকার।
-    থ্যাঙ্ক ইউ।

কামাল ঘর হতে বের হয়ে যায় হাতে বোতল ও সিগারেট নিয়ে আর সশব্দে বেডরুমের দরজা আটকিয়ে দেয় রাশেদা। এতক্ষণে কামাল বুঝতে পারে তার একধরনের ঝা ঝা নেশা তৈরি হয়েছে। হাঁটতে হাঁটতে কামাল তার বাসার কোনও এক ব্যালকনিতে গিয়ে দাড়ায়। গ্লাস আনতে ভুলে গেছে তাই বোতলের ছিপির মাঝে ঢেলেই, দ্রুত গলার মাঝে চালান করে দিলো। হাতের আঙুল বেয়ে কয়েকফোটা র’মদ মাটিতে পরলে কামালের হঠাৎ পিপড়ার কথা মনে পরে। কিন্তু তার মাঝে আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে সিগারেট খাওয়ার বাসনা তৈরি হয়। কিন্তু যে মানুষ নিজের মদের বোতল হারিয়ে ফেলে ঘরের মাঝে; সামান্য কিছু সিগারেট কি সেই ব্যক্তির মনে থাকা স্বাভাবিক হে শ্রোতৃমণ্ডলী... কিন্তু রাশেদাকে কি পুনর্বার ডাকা ঠিক হবে? এই ধরনের ভাবনা যখন ভাবছে কামাল তখনতো তিনি সদর দরজায় তালা দিয়ে সিগারেট কেনার জন্য টলায়মান অবস্থায় তালা ও চাবির রাসায়নিক ক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত। এরপর একটা একটা সিঁড়ি ভেঙে তার মনে হতে থাকে পাহাড় ধ্বসের কথা। মনে হয় নিচে নেমে গেলে পর সেও এক পাহাড়ি ধ্বসে থ্যাতলানো অর্ধগলিত লাশ হবে। আর তার প্রতি পদক্ষেপে খেলা করে মতদ্বৈততার আহাজারি। যেন কি এক খোঁজার উদ্দেশ্যে তার পথ একেকবার একেক দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেকক্ষণ পর তার মনে পরে সে আসলে সিগারেট কিনতে বের হয়েছে। কিন্তু সে আসলে একই স্থানে দাঁড়িয়ে থেকে বিভিন্ন স্থান পরিব্রাজন করিয়াছে বলে তার ধারণা হলে, পিছনে তাকিয়ে নিজের বাসা দেখে সে বুঝে ফেলে সকাল সকাল ডোজটা একটু বেশিই পরে গেছে। অকস্মাৎ তার চিন্তা হয় রাশেদাকে ঘরের মাঝে রেখে তালা মেরে আসা কি ঠিক হল? যদি কোনও অঘটন ঘটে যায়!
নিজেকে মানুষ সর্বদাই এক ধরনের সুবিধাজনক মানদণ্ডে দাঁড় করিয়ে বিচার করে, যখন তার এক ধরনের আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা থাকে। তাই আমাদের গল্পের মানুষ কামাল সাহেব নিজেকে এই বলে বুঝ দেয় যে

-    ও মনে হয় ঘুমাচ্ছে। থাক ভালোই হয়েছে, ডিস্টার্ব তো আর করা হলো না।
আবার তার সাথে সাথেই কামালের মগজে কি যেন কি টনক দিয়ে ওঠে, ভাবে- ওর প্রতি কথাকেই গুরুত্ব দেবার কি আছে! রিক্সার ক্রমাগত হর্ন তাকে আচানক পথ চলতে সাবধান করে। সে কতটুকু সাবধান হতে পারে তা কেবল তার পার্শ্ববর্তী পথচারীরাই জানে। এক দম্পত্তি হাত ধরাধরি করে তার সামনে দিয়ে রাস্তা পার হবার সময় খুব দ্রুত একটা পিকআপ ভ্যান চলে গেলে পর কামাল দেখে মেয়েটি বিস্ময়কর নেত্রে চেয়ে আছে পথের দিকে। ছেলেটির মাথা থেতলে কালো রাস্তার হলুদ রোদ্দুরে মিশেছে। লাল রক্ত আর সাদা ঘিলুর কিছু তরতাজা অংশের জীবন যেনও এখনও কিছুটা রয়ে গেছে। কামালের নেশা এমতো অবস্থায় খানিক হ্রাস পেলে তার মনে হতে থাকে
-    রাশেদার ঘুম যদি ভেঙ্গে যায় আর সে যদি টের পায় ঘরে তালা দেয়া। উফ। আজ লাইফটা একদম হেল হয়ে যাবে।

আর রাশেদা অনেকগুলো ঘুমের বড়ি খেয়েও ঘুমাতে পারলো না। বিছানা ছেড়ে উঠে রাশেদা স্নানের জন্য শরীরে কেবল একটা টাওয়াল জড়িয়ে তার বাথরুমের দিকে যায়। সুন্দর একটা আলো ও খানিকটা বাতাস এসে পরেছে খোলা জানালার শিক গলে। নির্নিমেষে টাওয়ালটা খুলে ফেললে রাশেদার ঝলমলে শরীরের উপর আলো এসে মূর্ছা যায়। শহুরে ঝরণার জলে শরীর থেকে সারারাতের শেষে ভোরের ক্লান্তি মেটানোর চেষ্টা করে রাশেদা। আশপাশে বেশ কিছু বাড়ি থাকার কারণে রোদ্দুরও যেন তির্যক ভাবে ঢুকে পরছে এই স্নানকালীন সমারোহে। আরও দুটো চক্ষু আবিষ্কার করে রাশেদা পাশের কোনও এক বাসার সতীর্থ বাথরুমের ঝুলন্ত কাঁচের মাঝ দিয়ে। ছেলেটিকে রাশেদা চেনে; শবনম ভাবীর একমাত্র ছেলে পরশ- ক্লাস নাইনে পড়ে। রাশেদা দেখেও না দেখার ভান করে বরঞ্চ এমন শরীরী প্রদর্শনে স্নানশৃঙ্গার পর্বের অবতারণা ঘটায়, যাতে কি না পরশের হস্তমৈথুনহীন আর কোনও অবকাশ থাকে না। বিষয়টা অল্পক্ষণের মাঝেই রাশেদা বুঝে ফেললে হঠাৎ তার দৃষ্টি যায়, একটু দূরের আরেক অন্ধ ঘরের মাঝে। যার পর্দাটা যথেষ্ট আতঙ্কিত ভাবে কাঁপছে। একটি বয়স্ক লোক কেবল তার দৃষ্টি ঢেলে দিয়েছে, এ অপরূপ যৌন ভাণ্ডারের দিকে। সমস্ত গ্লানি ভুলে মাথা নিচু করে হাসতে হাসতে বাথরুমের মেঝেতে গড়িয়ে পরে সে। তারপর হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়, দ্রুত ফিরে আসে এক মাঝারি সাইজের আয়না নিয়ে। জল পরে তার শরীর বেয়ে আর সে ধীরে আয়নাটা তার শরীরের দিকে উঠাতেই একই  আয়নায় বন্দী হয়ে ওঠে তৃষ্ণার্ত বুড়ো আর পরশের কেঁপে ওঠার মুহূর্ত। দুজনায় অপ্রস্তুত হয়ে গেলে পর রাশেদার জানালা আটকে যায়।

আতকে ওঠে মাহাবুব কামাল- পিছন থেকে এক রিক্সা এসে তার শরীরের সাথে ধাক্কা লাগালে। সে কি করবে বুঝে উঠতে পারে না! অথচ রিক্সাচালক খুব বিনম্রতার সাথে বলে “সার, যাইবেন”। যেনও কেউ কাউকে কোথাও নিয়ে যেতে হলে এক ধরনের ধাক্কার দরকার আছে। কামাল কোনও কথা না বলে বাধ্য ছাত্রের ন্যায় রিক্সায় উঠে পরলে রিক্সাচালকও জানার প্রয়োজন বোধ করে না- লোকটি কই যাবে! রিক্সা চলতে থাকে। চালক ও যাত্রী উভয়ই চলতে থাকে। দৃশ্যসকল এক ধরনের গতির অবতারণা করে। অনেক প্রকার রঙ ও শব্দ রাস্তা জমাট করে রিক্সার চাকার সাথে আগাতে থাকে, পথ-পরিক্রমায়। রোদ্দুরের ঝাঁঝ বেড়ে যাবার সাথে সাথেই রিক্সাচালকের জামা ঘামে ভিজে ওঠে। কামাল সিগারেট এর ধুয়া ছাড়তে ছাড়তে ওই ঘর্মাক্ত মানুষটির দিকে চায়। বিগত রাতের কথা মনে পরে যায়। সেও ঘেমেছিল। রাশেদা চায় নি গতরাতে। কিন্তু কামাল আবার জেনে ফেলেছে না চাওয়া থেকে কি করে চাওয়ার আকাঙ্খাকে আরও তীব্র করা যায়। ফলত এই চাওয়া আর না চাওয়ার মধ্যে দিয়ে তারা উভয়ই গতরাতে খুব ঘেমে গিয়েছিলো একপর্যায়। কিন্তু চাহিদার অধিকতর উপভোগ করতে যাবার ফলে মাঝরাতেও রাশেদার সাথে তার একপ্রকার সংঘাত হয়। যা হয়ে আসছে বহুদিন ধরে। রিক্সাচালক ঘাড় ঘুড়িয়ে পিছে তাকালে দেখে তার অতি মদ্যপ যাত্রী চোখ বুঝে অবসন্ন শরীর ছেড়ে দিয়ে রেখেছে পাতালের দিকে। যেনও তিনি বা তারা বা আর যারা রয়েছেন সকলেই পাতালমুখী। আর কেনই বা হবেন না! আপনি কি নিশ্চিত যে মাহাবুব কামাল এখন রিক্সার উপরেই পরিভ্রমণ করছেন? কিন্তু আপনার নিশ্চয়তা, অনিশ্চয়তা তার কাছে এখন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং তিনি এখন অনেক উচু এক পাহাড় সংলগ্ন জলাধারের পাশে বসে মনের সুখে হাত মারছে। মৃদুমন্দ বাতাসে অতিতাশ্রয়ী হয়ে তার এখন শরীরকে খেলাতে এক ধরনের নিরবিচ্ছিন্ন সুখ লাগে। সুখের চূড়ান্তে কোনও এক অপরিচিত পাতার পরে তার আন্দোলিত বীর্য লাফিয়ে পরলে- চোখ বন্ধ করে তিনি শুয়ে পরেন।

কতক্ষণ সময় এমনি করে অতিবাহিত হয় তা মাহাবুব কামাল কিম্বা আমরা কেউই জানি না। তবে তার ঘুম ভাঙে প্রচণ্ড বজ্রবিদ্যুতের সশব্দে। শরীর ভেদ করে মেঘ নেমে যাচ্ছে যেনও শতকোটি মাইল পিছনে, আর তার সামনে যা আসছে- তা বর্ণনাযোগ্য নয়। তিনি এবার ভীতু, পলায়নপর। দৌড়চ্ছে। মাহাবুব কামাল কেবল দৌড়াতে থাকে; আর যত সে দৌড়ায় তত সে বুঝতে পারে তার পিছে এক একটা মনুমেন্ট, সভ্যতা, ইতিহাস পরিণত হচ্ছে ধ্বংসস্তুপে। শুরু হতে থাকে অন্ধকারময় পথের সূচনা। এ পথের কোনও দরজা নেই। কোনও জানলা নেই। আবার হে শ্রোতৃমণ্ডলী, এর কোনও দেয়ালও নেই! নিস্তরঙ্গ আঁধারের ঘনঘটা নিয়ে কামাল কোনও এক জঙ্গলা ভূমিতে পরে যান। আধো চোখ খুলে দেখে এক নেকড়ে তার সামনে অতি উজ্জ্বলকায় এক দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে আছে। কামালের একই সাথে ভয় ও ভালোলাগা উভয় বোধ কাজ করা শুরু করে। নেকড়েটি খুব সন্তর্পণে তার নিকট আসে এবং গন্ধ শুকতে থাকে। কামালের নিঃশ্বাস ভারী হয়। নেকড়েটির একটি হাত পরে এসে কামালের পিঠে। ইতস্তত কামাল কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেও একটি হাত রাখে নেকড়ের শরীরে। মুহূর্তের মাঝে তারা পরস্পর পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে। বালিশের পাশে রাখা রাশেদার প্রিয় আইফোন হাতের ধাক্কায় মাটিতে পরে গেলে- সঙ্গমকালীন বিরতি ঘটে। এবং তাদের অভিশপ্ত যৌনাচারের প্রসঙ্গ নিয়ে কে, কাকে কতটুকু দোষী সাব্যস্ত করতে পারে এই নিয়েই তারা বিস্ফারিত হয় পুনর্বার। আর সেই জানালার পর্দা লুকানো বুড়ো মন খারাপ করে অতি সাউন্ড দিয়ে টেলিভিশন-এর চ্যানেল ঘোরাতে থাকে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০১ ঘণ্টা, ০৮ অক্টোবর, ২০১২
সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস mjferdous0@gmail.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

শিল্প-সাহিত্য

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান