 |
ঢাকা: জনসমর্থন বাড়াতে ঈদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে কাজে লাগাতে চায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।
এসব দলের নেতা-কর্মীরা ঈদের দিন ছাড়াও আগের ও পরের সরকারি ছুটির দিনগুলো পরিবারের সদস্যদের চেয়ে নিজ নিজ এলাকার সাধারণ মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
সূত্রমতে, এ পরিকল্পনা ১৮ দলের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার কাছ থেকেই এসেছে। সোদি আরব যাওয়ার আগেই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে ঈদের ছুটিকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেন তিনি।
বিএনপি প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, জোট নেতারা ঈদের দু’তিন দিন আগ থেকেই এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। এ সময়টা অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে কাটাচ্ছেন তারা। এমনকি ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গরীব ও অসহায়দের আর্থিক সহযোগিতাও দিচ্ছেন জোট নেতারা।
সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের উসিলায় মূলত সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনেরই চেষ্টা চালাবেন ১৮ দলীয় জোট নেতারা।
বসে থাকবেন না বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়াও। ঈদের দিন বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন তিনি। সন্ধ্যায় গুলশান অফিসে তাকে শুভেচ্ছা জানাবেন বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা।
ঈদের পরদিনও তিনি ব্যস্ত থাকবেন নেতাকর্মীদের নিয়ে।
মোদ্দা কথা, এবারের ঈদে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলারই কৌশল নিয়েছে ১৮ দল।
এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রাম-মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার ঈদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মির্জা ফখরুল বাংলানিউজকে বলেন, “ঈদের দিন বিএনপি তথা ১৮ দলের নেতারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে ঈদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতে চান।”
একই সঙ্গে দেশ রক্ষা করতে ও দেশের মানুষকে এ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে সাধারণ মানুষের কাছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশররফ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, “ঈদের পরের দিন এলাকায় যাবো। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ওই দিনটি কাটাবো।”
একইভাবে ঈদের দিন ঢাকায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। ঈদের পরদিন তার নিবার্চনী এলাকা কাউখালী ভান্ডারিয়ার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।
এদিকে ঈদের তিন দিন আগে নিজ জেলা পটুয়াখালীর বাউফলে গেছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর কমিটির সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
বাংলানিউজকে তিনি বলেন, “বছরের বেশির ভাগ সময়ই ঢাকায় থাকা হয়। তাই এ বছরের ঈদের সময়টা গ্রামের মানুষের জন্য উৎসর্গ করতে চাই।”
বাংলাদেশ সময়: ০৮৪৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০১২
এআর/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর