ঢাকা: সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা। রাজধানীর ব্যস্ততম কাওরান বাজার বিএসইসি ভবনের সামনের আন্ডারপাস ব্যবহার করে রাস্তার পশ্চিম অংশ থেকে পূর্ব অংশে আসার জন্য সবে সিঁড়ি ধরে নামছি। কতদূর যেতেই অন্ধকার রাতের মতই মনে হলো। ভাবলাম আমার চোখেই এমন মনে হচ্ছে কিনা।
মিনিটের মধ্যেই এক নারী পড়ে গিয়ে চিৎকার করে উঠলেন। গুটগুটে অন্ধকারে সিড়ি বেয়ে উপরে ওঠতে গিয়ে পা ফসকে পড়ে গেছেন ওই নারী। তখন সত্যি মনে হলো কেবল আমার চোখেই অন্ধকার লাগছে না, বাস্তবেই অন্ধকার পুরো আন্ডারপাস জুড়েই।
এক থেকে দেড় মিনিট সময়েই অতিক্রম করা যায় যে আন্ডারপাস অনেক কষ্টে প্রায় ৫ মিনিটে হাতড়িয়ে হাতড়িয়ে কোন রকম পার হওয়া গেল। পার হওয়ার সময় জসিম উদ্দিন নামে এক পথচারীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। কাওরান বাজার ব্যবসা করেন, বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায়। ব্যক্তিগত কাজে দিন-রাতে নানা সময়েই রাস্তা পার হতে তিনি ব্যবহার করেন এই আন্ডারপাস।
তিনি বলেন, আগের মত নিরপদ নেই নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য তৈরি এই আন্ডারপাস। চলমান লোডশেডিং এর কারণে প্রায় সময়ই অন্ধকারে থাকে এই আন্ডারপাস। সেই সুযোগে ছিনতাই, মাদকসেবনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চলে আন্ডারপাসে।
কথা হয় কাওরানবাজার আন্ডারপাসের নিরাপত্তাকর্মী বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা নূরুল ইসলামের(৬০) সঙ্গে। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুতের দু’টি লাইন রয়েছে এই আন্ডারপাসকে আলোকিত রাখবার জন্য। কিন্তু লোডশেডিং এর কারণে কখনো কখনো একটি লাইনেও বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকলেও ব্যস্ত এই আন্ডারপাসের জন্য বিকল্প কোন জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। তাই পথচারীদের ঝকিঁ নিয়ে পার হতে হয় এই আন্ডারপাস।
বাংলাদেশ সময়: ২৩১৬ ঘণ্টা, মে ২৮, ২০১২
এআই/সম্পাদনা: মহিউদ্দিন মাহমুদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট