 |
| ছবি: নাজমুল হাসান/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের জন্যে কালের কণ্ঠ ও ওশান গ্রুপের ‘দেশ জানো বিশ্ব জানো’ প্রতিযোগিতার আগে গুলশান জোনের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।
গুলশানের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে রোববার রাতে মতবিনিময় সভায় কালের কণ্ঠের সম্পাদক কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় গুলশান জোনের ৫০টি স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাকে ১০টি জোনে ভাগ করে শুরু হয়েছে কালের কণ্ঠ-ওশান গ্রুপ ‘দেশ জানো বিশ্ব জানো’ সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা। ১৪ জুন উত্তরা জোনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এ প্রতিযোগিতার নিবন্ধন। গুলশানসহ বাকি ৯ জোনের নিবন্ধন আগামী ১ জুলাই থেকে।
অনুষ্ঠানে কালের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা `প্রিয় শিক্ষক` নামে একটি পাতা প্রকাশ করি। যারা আগামী দিনের আলোকিত মানুষগুলোকে তৈরি করছেন, আমরা চাই সেই শিক্ষকদের আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ ও স্মৃতির কথা এ পাতায় তুলে আনতে।’
দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বছরে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার মাদক ব্যবহৃত হয়। যার প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেন তরুণরা। তরুণদের মাদক থেকে বিরত রাখতে এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন প্রয়োজন।’
শিক্ষকদের সঙ্গে নিজেদের ছেলেবেলার স্মৃতিচারন করে তিনি বলেন, ‘এখনকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেই স্কুলের মিল নেই। এতো বড় ব্যাগ ছিল না। তখন কোচিং বা প্রাইভেটের প্রয়োজন হয়নি। সেসব হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারবো না। কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীদের একটি আলোকিত জীবন ফিরিয়ে দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেছে। কিন্তু পরে শুধু অর্থের অভাবে ঝড়ে যায়। এক কিশোর রিকশাওয়ালা কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসএসসি পাশ করা মেধাবী এ কিশোরটি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, স্যার গরীব মানুষরা পড়তে পারে এ ধরনের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি আছে? শিক্ষাবৃত্তি এ ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পড়াশোনার পথ খুলে দেবে। এ শিক্ষা বৃত্তির মাধ্যমে ৫০টি ছেলেমেয়ের জীবন গড়ে দিতে চাই।’
সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে এবং প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা এবার প্রতিযোগিতাটি শুরু করেছি ঢাকা অঞ্চল থেকে। ক্রমে বিভাগ, জেলা হয়ে দেশব্যাপী এ আয়োজন করা হবে। এর আগে এমন বিশাল আয়োজন আর কেউ করেনি। প্রতিযোগিতায় ঢাকা মহানগরীর প্রায় পাঁচ শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।’
চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ীদের প্রথম পুরস্কার হিসেবে পাঁচ লাখ, দ্বিতীয় পুরস্কার তিন লাখ ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দেশের সবচেয়ে বড় মেধাভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় সব মিলিয়ে কোটি টাকার মেধাবৃত্তি দেওয়া হবে এং নতুন প্রজন্মকে তথ্যসচেতন করতে তাদের মেধার বিকাশ ও বুদ্ধির প্রখরতা বাড়াতেই কালের কণ্ঠের এই বিশাল আয়োজন বলে জানান মিলন।
প্রতিযোগীতার বিভিন্ন দিক ও পদ্ধতি তুলে ধরেন কালের কণ্ঠের ইভেন্ট ও শুভসংঘ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম নয়ন।
উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতার নিবন্ধন ফরম গত বৃহস্পতিবার থেকে কালের কণ্ঠে ছাপানো শুরু হয়েছে। ফরমটি পূরণ করে নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাখা ‘দেশ জানো বিশ্ব জানো` বক্সে ফেলতে হবে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া নিবন্ধন ফরমের নিচে ছাপানো প্রবেশপত্রটিও সংরক্ষণ করতে হবে এবং এটি বাছাই পর্বে অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে। প্রতিযোগিতা চলাকালে এর নিয়মাবলি ও বিস্তারিত তথ্য কালের কণ্ঠে প্রতিদিন ছাপা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য ৮০২৩৭২-৭৫ টেলিফোন নম্বরে অথবা deshjanobishwajano@kalerkantho.com -এ খোঁজ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই বিশাল আয়োজনের মূল স্পন্সর ওশান গ্রুপ। সহযোগী স্পন্সর হিসেবে রয়েছে মার্সেল, ক্যামব্রিয়ান কলেজ ও অরিয়ন গ্রুপ। মিডিয়া পার্টনার মাছরাঙ্গা টেলিভিশন, রেডিও টুডে, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, ডেইলি সান ও বাংলাদেশ প্রতিদিন।
বাংলাদেশ সময়: ২২১১ ঘণ্টা, জুন ১৭, ২০১২
এমএন/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর