 |
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বর থেকে: যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ যাবজ্জীবন রায় ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে রায় শুনতে জড়ো হওয়া বিশিষ্ট নাগরিকরা দাবি করেছেন- এ রায় জাতির প্রত্যাশা পূরণ করেনি। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত প্রতিটি মানুষকেই হতাশ করেছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
তারা মনে করেন, রাষ্ট্রপক্ষের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা উচিৎ।
মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, “রায় প্রত্যাশিত হয়নি। গণহত্যাকারীর জন্য গোটা জাতি, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, মুক্তিযোদ্ধারা যে প্রত্যাশা করেছিলো, এ রায় সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি বলেন, “তবে ট্রাইব্যুনালকে আমরা শিরোধার্য মনে করি। ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু যে অভিযোগে বাচ্চু রাজাকারকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, কাদের মোল্লার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।”
রাষ্ট্রের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা উচিৎ দাবি করে তিনি বলেন, “আমি একজন সাংস্কৃতিকর্মী হিসেবে বলতে চাই, এ রায় জনগণের প্রত্যাশিত নয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আপিল করা উচিৎ।”
এ রায়ের পেছনে আওয়ামী লীগ-জামায়াত আঁতাত কাজ করেছে বলে যে আলোচনা শুরু হয়েছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তেমন কিছু হলে আমরা প্রতিবাদ করবো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আমরা যে আন্দোলন করছিলাম তা চালিয়ে যাবো।”
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, “ট্রাইব্যুনালের রায়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে। সেই চেতনার সঙ্গে মঙ্গলবারের রায় কতোখানি প্রাসঙ্গিক?”
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, “কাদের মোল্লা কবি মেহেরুন নেসা হত্যায় জড়িত। সুতরাং এ রায়টি আমাদের জন্য সন্তোষজনক নয়।”
তিনিও এ রায়ের বিপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করা উচিৎ বলে মনে করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “রায়ে খুশি হতে পারিনি। রাষ্ট্রের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা উচিৎ। ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ার পরও কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন করাদণ্ডের যে রায় দেওয়া হয়েছে , আমি তাতে হতাশ হয়েছি।”
তিনি বলেন, “কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণের মতো অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারপরও তাকে যাবজ্জীবনের এ রায় আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।”
অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, “আমি অনেক আশা ভরসা নিয়ে এসেছিলাম। রায়ে একেবারেই সন্তষ্ট হতে পারিনি। আজকে আমি শুধু ভাবছি, যারা এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলো, সেইসব নিহতের স্বজনদের কথা। তারা কী গভীর আশা নিয়েই আজকের দিনটির জন্য বসে ছিলো। তারা আজ কী ভাবছে, আমি কেবল তাদের কথাই ভাবছি।”
বাংলাদেশ সময়: ১৩১৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৩
এআই/ সম্পাদনা: জয়নাল আবেদীন, নিউজরুম এডিটর/জেডএম