ঢাকা: এখন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে ইজারা (লিজ) দেওয়া যাবে। এর মধ্যে স্বল্প মেয়াদি লিজ চুক্তির মেয়াদ হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ বছর, মধ্য মেয়াদি ১৬ থেকে ২৫ বছর এবং দীর্ঘ মেয়াদি লিজের মেয়াদ হচ্ছে ২৬ থেকে ৩৫ বছর। তবে উভয় পক্ষের সম্মত হলে লিজের মেয়াদ যে কোনো সময়সীমা পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
বেসরকারিকরণ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত লিজ ডকুমেন্টের (লিজ শর্তাবলী ও লিজ চুক্তি) খসড়ায় এ কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি কমিশনের ৫৫তম কমিশন সভায় ১৮টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত এ লিজ চুক্তির খসড়া অনুমোদন করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মির্জা আবদুল জলিল সভায় সভাপতিত্ব করেন।
খসড়ায় বলা হয়েছে, দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে লিজ দেওয়া হবে। বেসরকারিকরণ কমিশনের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। বাৎসরিক ভিত্তিতে লিজমানি প্রদান করতে হবে। দরপত্রের সঙ্গে দরপত্রে উল্লেখিত মূল্যের আড়াই শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ ‘আর্নেস্ট মানি’ (ফেরত/সমন্বয়যোগ্য) হিসেবে জমা দিতে হবে। দরপত্র দাখিলের ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা দরপত্র প্রত্যাহার করলে জমাকৃত ‘আর্নেস্ট মানি’ বাজেয়াপ্ত হবে।
খসড়ায় আরো বলা হয়, মনোনীত দরদাতাকে লেটার অব ইন্টেন্ট ইস্যুর পর ১৫ দিনের মধ্যে এক বছরের লিজমানির সমপরিমাণ অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। জামানত প্রদানের দুই মাসের মধ্যে প্রথম বছরের লিজমানি পরিশোধপূর্বক সরকারের সঙ্গে লিজচুক্তি সম্পাদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামানত প্রদান বা চুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থ হলে আর্নেস্ট মানি বাজেয়াপ্ত ও লেটার অব ইন্টেন্ট বাতিল হয়ে যাবে। তবে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ থাকলে সময় বাড়ানোর আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০দিন সময় বাড়ানো যাবে এবং এজন্য ৯ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।
লিজের শর্তানুযায়ী, লিজ চুক্তি সম্পাদনের তৃতীয় বছর থেকে বাৎসরিক লিজমানির পরিমাণ প্রথম বছরের লিজমানি থেকে প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বাড়বে। লিজমানির কিস্তি বছরের প্রথম মাসে ডিডি/পে-অর্ডারের মাধ্যমে বেসরকারিকরণ কমিশনের অনুকূলে পরিশোধ করতে হবে। প্রথম মাসে বাৎসরিক কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ৯ শতাংশ সুদসহ তা পরিশোধ করা যাবে। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে জামানত (এক বছরের সমান লিজমানি) বাজেয়াপ্তসহ লিজ চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, লিজের মেয়াদকালীন লিজগ্রহীতা কারখানা পরিচালনার দায়িত্ব কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না এবং যে পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়েছে লিজগ্রহীতাকে তা বজায় রাখতে হবে। কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়া কারখানা ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামোর কোনো প্রকার পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না। তবে কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে নতুন মেশিনপত্র স্থাপন করা যাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যতীত কারখানা ভবন, গুদাম ও যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতির দায়দায়িত্ব লিজগ্রহীতাকে বহন করতে হবে।
এছাড়া লিজ গ্রহীতাকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে ভ্যাট/শুল্ক ও অন্যান্য কর এবং লিজের আওতাধীন কারখানা, মেশিনপত্র, পণ্যের গোডাউন ও অন্যান্য অবকাঠামোর বীমার বার্ষিক প্রিমিয়াম যথাযথ পরিশোধ করতে হবে। এগুলোর প্রমাণপত্র কমিশন কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
লিজ ডকুমেন্টের খসড়া অনুমোদন প্রসঙ্গে কমিশন জানায়, বেসরকারিকরণ আইনে শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণে ১২টি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে লিজ প্রদান একটি। কিন্তু বেসরকারিকরণে কমিশন এ পর্যন্ত শুধু দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রয় পদ্ধতিই অনুসরণ করে এসেছে।
কমিশন জানায়, সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শিল্পের উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে লিজ পদ্ধতি খুবই উপযুক্ত। এ পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে যেমন সামগ্রীক শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু রাখা সম্ভব, তেমনি অন্যদিকে শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ চালু রাখার জন্য উপযুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা যায় বলে মনে করে কমিশন।
এদিকে লিজ ডকুমেন্টের খসড়া অনুমোদনের পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও দায়-দেনা মূল্যায়নে ৯টি চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট (সিএ) ফার্মকে তালিকাভুক্ত করেছে কমিশন। এগুলো হচ্ছে - এ মতিন অ্যান্ড কোং, এ টি তালুকদার অ্যান্ড কোং, বসু ব্যানার্জি নাথ অ্যান্ড কোং, এম আই চৌধুরী অ্যান্ড কোং, খান ওয়াহেব শফিক অ্যান্ড কোং, মেসার্স কাজী জহির অ্যান্ড কোং, রহমান হক চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট, কে এম আলম অ্যান্ড কোং ও নূরুল আজিম অ্যান্ড কোং। এ সিএ ফার্মগুলোকে পাঁচ বছরের জন্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে কমিশন জানায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪১ ঘণ্টা, আগস্ট ০৯, ২০১২
এসআর/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com