 |
| কোতোয়ালী থানায মামলা। ছবি: সোহেল সরওয়ার |
চট্টগ্রাম: রেলওয়ের ছয়টি পদে দুর্নীতি করে পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে পূর্বাঞ্চলীয় রেলের বরখাস্ত হওয়া জিএম ইউসুফ আলী মৃধাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কোতোয়ালী থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক এসএম রাশিদুর রেজা বাদী হয়ে এসব মামলা করেন। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার গোলাম কিবরিয়া ও অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান।
হাফিজুর রহমান নিয়োগ কমিটির আহবায়ক ও গোলাম কিবরিয়া সদস্য সচিব ছিলেন।
মামলা দায়ের করতে গত রোববার এসএম রাশিদুর রহমান চট্টগ্রামে আসেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৫ থেকে সাড়ে ১২টায় ৬ মামলা দায়ের হয়েছে জানিয়ে ওসি মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ায় দুদকের সহকারী পরিচালক এসএম রাশিদুর রেজা বাদী হয়ে ৬টি মামলা করেছেন (মামলা নম্বর ৩১ থেকে ৩৬)।
তিনি জানান, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) দণ্ডবিধির ১৬৬, ১৬৭, ৪৭৭ (ক), ২১৭ ও ১০৯ ধারায় এসব মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ছয়টি ক্যাটাগরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১০ সালে। গত বছর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগ পরীক্ষায় যে ছয়টি ক্যাটাগরিতে অনিয়মের জন্য মামলা হয়েছে সেগুলো হলো-টিকিট ইস্যুয়ার (মামলা নম্বর৩১), সহকারী ক্যামিস্ট (৩২), সহকারী লোকো মাস্টার (৩৩), ট্রেড এ্যাপ্রেনটিস (৩৪), ফুয়েল চেকার (৩৫) ও টুল কিপার(৩৬)।
মামলা দায়ের শেষে রাশেদুর রেজা সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদক কমিশন তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
জানা গেছে, পূর্বাঞ্চল রেলের ছয়টি ক্যাটাগরির ১০৬৯টির বেশিরভাগ পদেই মোটা অর্থের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানের সময় ৩৯ জনের বক্তব্য শেষে ছয়টি ক্যাটাগরিতে নিয়োগের বিপরীতে ছয়টি মামলা সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তারা।
চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রাতে পদত্যাগ করা রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বরখাস্তকৃত এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এসময় ফারুকের সঙ্গে ছিলেন ইউসুফ আলী মৃধা ও রেল পুলিশের কমান্ড্যান্ট (ঢাকা) এনামুল হক।
অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন ঘটনা তদন্তে উপ-পরিচালক মো. আবু সাঈদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যান রেলের পূর্বাঞ্চল অফিসে। সেখান থেকে জব্দ করা নথিপত্রে দেখা যায়, ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস পদে ১২১৬ কোড নম্বরধারী লিখিত পরীায় পেয়েছেন মাত্র ২ নম্বর। তা পরিবর্তন করে ২৫ নম্বর দেখিয়ে তাকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।
৩৫টির বেশি কোড নম্বরের খাতায় কাটাছেড়া করে নম্বর দেওয়া হয়েছে। টেবুলেশন শিটে ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে এরকম অসংখ্য অকৃতকার্যকে দেখানো হয়েছে কৃতকার্য।
সুইপার থেকে রেলের লোক মাস্টার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ নিয়েছেন। ওই টাকা ভিত্তিতে ভাগবাটোয়রা করে নিয়েছেন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
সবচেয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে ১১২ জন চৌকিদার, ৩৬৯ জন ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস, ২৪৮ জন সুইপার, ১৪৩ জন ট্রলি ম্যান, ১৫ জন সহকারী সাব ইন্সপেক্টর ও ১৮২ জন লোকো মাস্টার পদে নিয়োগে।
সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর পদে লিখিত পরীক্ষায় ৯৫ জনের মধ্যে সাত জন মাত্র মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১১ জনকে। এর মধ্যে ছয় জনই মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৩ ৪১ঘন্টা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১২
আরডিজি/এমইউ/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর