১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শনিবার মে ২৫, ২০১৩ ৫:০৭ পিএম BDST banglanew24
02 Jul 2012   07:15:23 PM   Monday BdST
E-mail this

আর নয় অপচয়


তামীম রায়হান
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আর নয় অপচয়

আমাদের জীবন চলার পথে প্রতিটি ক্ষণ এবং এ পৃথিবীর সব সম্পদ একমাত্র আল্লাহ পাকের দান। তিনিই এগুলোর একচ্ছত্র মালিক। আমরা কেবলমাত্র এসব থেকে উপকৃত হতে পারি। এর বেশি কিছু নয়।

তাই আমাদের যাবতীয় কাজকর্ম ও আচার আচরণ সেভাবেই হওয়া উচিত যেভাবে আমাদের স্রষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন।

আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি থেকে উদাসীন থাকি, তা হচ্ছে অপচয়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে সামান্য ব্যাপার মনে হলেও মহান আল্লাহ পাকের কাছে এটি অনেক বড় অপরাধ।

সৃষ্টিকর্তার সম্পদকে যেনতেনভাবে নষ্ট করার অধিকার তিনি তো আমাদের দেননি।
 
শুধুমাত্র প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা খরচ করার নামই অপচয় নয়। জীবনের প্রতিটি কথা ও কাজে প্রয়োজনীয় সীমানা অতিক্রম করাকেই অপচয় বলে। আল্লাহ পাক আমাদের সীমালঙ্ঘন তথা অপচয় এবং কার্পণ্য এ দু’টো থেকেই বিরত থাকতে আদেশ দিয়েছেন। তিনি সর্বাবস্থায় সর্বকাজে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্যই তিনি আমাদের নামকরণ করেছেন মধ্যমপন্থি উম্মত হিসেবে।
ধন দৌলত ও সম্পদ আল্লাহ পাকের দান। তিনি এসব দিয়ে আমাদের জীবন ধারণের উপায় করে দিয়েছেন। তিনি কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনমতো খরচের আদেশ দিয়েছেন, গরীব অসহায়কে দান করতে বলেছেন।

অপ্রয়োজনীয় খাতে অনর্থক এক পয়সা খরচ করলেও সেটিকে অপচয় হিসেবে গণ্য করেছে ইসলাম।

সূরা আরাফের ৩০ নম্বর আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ পাক বলেন, ‘তোমরা খাও এবং পান করো কিন্তু অপচয় করবে না। আল্লাহ পাক অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’

সূরা ফুরকানের ৬৭ নং আয়াতে তিনি মধ্যমপন্থি বান্দাদের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘তারা যখন খরচ করে তখন তাতে সীমালঙ্ঘন করে না।’

সূরা ইসরার ২৭ নং আয়াতে তিনি অপচয়কারীদের শয়তানের ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সূরা ত্বহার ১২৭ নং আয়াতে তিনি কাফেরদের পরিচয় বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি এভাবেই তাদের প্রতিদান দিয়ে থাকি যারা অপচয় করে এবং তাদের রবের নির্দেশের প্রতি ঈমান আনেনি।’

সূরা ইউনুসের ৮৩ নং আয়াতে আল্লাহ পাক ফিরাউন সম্পর্কে বলেছেন, ‘আর সে ছিল একজন অপচয়কারী।’ সূরা শুয়ারার ১৫১ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘তোমরা অপচয়কারীদের কথা শুনবে না।’ আরেক আয়াতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্ভাগা লোকদের নিন্দা করতে গিয়ে তাদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘তারা ছিল অপব্যয়কারী বিলাসী।’

রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা খাও ও পান করো এবং পরিধান করো, কিন্তু অপচয় কিংবা কার্পণ্য থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকো। (ইবনে মাজাহ)

যেটুকু হলে চলে এর চেয়ে বেশি খরচ করা এবং যেখানে খরচ করলে সত্যিকার অর্থে কোনো লাভ নেই সেসব জায়গায় খরচ করার নাম অপচয়। আর প্রয়োজনীয় খরচের চেয়ে কম খরচ করাকে কৃপণতা বলে। এ দুটো বিষয়ই ইসলামে সরাসরি নিষিদ্ধ। বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে আল্লাহ পাকের দেওয়া যাবতীয় নেয়ামত ও দান উপভোগ করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।

এ অর্থেই হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, অপাত্রে এক টাকা খরচ করা হলেও সেটি অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত।

বিখ্যাত তাবেয়ী ও বুযুর্গ সুফিয়ান সাওরী (রহ.) বলেছেন, আল্লাহ পাকের নির্দেশিত পথ ছাড়া অন্য কোথাও সামান্য খরচও অপচয়। শুধু কাজে নয়, কথায়ও অপচয় হয়। অনর্থক কথা বলে মানুষের নিন্দা করা, সমাজে অনিষ্ট সৃষ্টি করা- এমন যে কোন কথাও অপচয় হিসেবে গণ্য এবং আমলনামায় গুনাহ হিসেবে ধর্তব্য।

মূলত অপচয়ের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞতা, কিয়ামতের মাঠে মহান স্রষ্টার সামনে সম্পদের জবাবদিহিতার কথা ভুলে যাওয়া, বিলাসী ও উদাসীন লোকদের সাহচার্য, হঠাৎ বড়লোক হয়ে যাওয়া, নিজের বড়াই ও সুনাম সুখ্যাতির লোভ ইত্যাদি থেকেই এ অপচয়ের সূত্রপাত।

সর্বোপরি যার হৃদয়ে নেই আল্লাহ পাকের ভয় ও তার দয়া ও করুণার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং অসহায় ও অভাবীদের জন্য সহমর্মিতা- তার পক্ষেই কেবল সম্ভব নিজের সম্পদ নিয়ে এমন ধ্বংসাত্মক খেলায় মেতে ওঠা।

নিজের রুমের লাইট ফ্যানের সুইচ এবং সাধারণ গ্যাসের চুলা থেকে শুরু করে আজ রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও অপচয়ের কত রকম বাহারী উৎসবে নষ্ট হচ্ছে এ পৃথিবীর সব অমূল্য সম্পদ।

আমাদের দেশ ও পৃথিবী এবং অনাগত প্রজন্মকে আমরা নিজের হাতে ঠেলে দিচ্ছি শঙ্কা ও বিপদের দিকে। আজ বিশ্বময় ভূমিকম্প, জলোচ্ছাস এবং বন্যা প্লাবনের মতো যত দুর্যোগ এবং আপদ আসছে এর মূলে রয়েছে আমাদেরই স্বেচ্ছাচারিতা ও সম্পদ ব্যবহার এবং পরিবেশ সংরক্ষণে নিদারুণ উদাসীনতা।

এ পৃথিবীর একই আকাশতলে কত মানুষ দু’মুঠো খাবারের অভাবে কাঁদছে, আবার কত ধনীর দুলাল একাই দশজনের খাবার ফেলে দিচ্ছে আবর্জনায়। শুধুই পার্থিব সামান্য সুখের জন্য অপচয় রোধ করা নয়, বরং ক্ষণস্থায়ী এ ক’দিনের জীবনঘড়ি থেমে গেলে আমাদের দাঁড়াতে হবে এক পরাক্রমশালী মহান স্রষ্টা ও মালিকের সামনে, সামান্য চারআনার হিসাবও যার কাছে গোপন নয়।

মনিষীরা বলেছেন, মানুষের ব্যয় দেখে বোঝা যায় সে কিভাবে তা আয় করেছে। সত্যিই তাই, পাড়া মহল্লার কাঁচাবাজারে গেলেই দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি হাঁক দিয়ে কোনো দরদাম ছাড়াই ব্যাগভর্তি করে অপ্রয়োজনীয় সদাই কিনছেন যে ব্যক্তিটি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি কালোটাকার মালিক। শুধুই কি অপচয়, তার এহেন কর্মকা-ে ক্ষতি হচ্ছে আশেপাশের আরও অনেক অসহায়ের।

হাদীসের কিতাবসমূহে বলা হয়েছে, অত্যাচারী লোকদের অত্যাচারে গাছের পাখিরও কষ্ট হয়, তাদের জুলুম অত্যাচারের কারণে নেমে আসা আপদ বিপদে পশুপাখিরাও আর্তনাদ করে অভিশাপ দেয় এমন অসৎ মহাজনকে। তাই আপনার অপচয় শুধু অপরাধ নয় বরং অন্যের জন্য তা বিপদের কারণও বটে। আর এর দায় এসে বর্তায় আপনার কাঁধেও।

আমাদের সামনে পবিত্র রমযান। আসুন এখন থেকেই মিতব্যয়ী হয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নিই জীবনের সর্বস্তরে। আশেপাশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের দায়িত্বটুকু পালনের ব্যাপারে সচেতন হওয়ার এখনই তো সুবর্ণ সময়।

-লেখক, কাতার করেসপন্ডেন্ট, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম  

সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা
মেইল: bn24.islam@gmail.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান