 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমের ভাষ্যমতে একাদশ নির্বাচনে অধিনায়কের ভূমিকা থাকে সবচেয়ে বেশি। প্রথম ম্যাচেও অধিনায়কের পছন্দের একাদশ নির্বাচন করা হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান বলেছেন ভিন্ন কথা। রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন। সেরা দুই ফিল্ডার নাঈম ইসলাম এবং রকিবুল হাসানকে একাদশের বাইরে রাখায় খুশি হতে পারেননি।
সাকিব বলেন,“খুবই বাজে ফিল্ডিং হয়েছে। সেরা দুই ফিল্ডার বাইরে রাখা হয়েছে। একজন বাজে ফিল্ডারকে নিয়ে খেলা খুবই কঠিন।” একজন বাজে ফিল্ডার বলতে জুনায়েদ সিদ্দিককে বোঝানো হয়েছে।
অধিনায়কের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন না সাকিব। অনেকটা জোর করে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি খেলোয়াড় নির্বাচনেও অধিনায়কের মতামতকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ১৫ সদস্যের দল নির্বাচনের পরে সাকিবের হাতে খেলোয়াড় তালিকা তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। দল নির্বাচনের আগে সাকিবের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে কী না জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন,“আমরা যেভাবে বলবো সাকিব সেভাবে খেলবে। নিশ্চয় তার কথায় দল হবে না।”
শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি করে রেখেছে বিসিবি। বিতর্ক জমিয়ে দিয়েছেন সাকিব। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক জানিয়েছেন,“আমার পছন্দের দল হয়নি। কোচ, নির্বাচক এবং অন্যরা একাদশ নির্বাচন করেছেন।”
অধিনায়ক হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলেই জানিয়েছেন সাকিব। বলেন,“অধিনায়কের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে দেওয়া হলে খুশি হবো। দায়িত্ব পাওয়ার পর আমার মনে হয় না মাঠের ভেতরে কোন ভুল করেছি।”
বোলিংয়ের পর দারুণ ব্যাটিং করেছেন সাকিব। ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন। ব্যাট হাতে খেলেছেন ৬৩ রানের ইনিংস। শেষপর্যন্ত উইকেটে থাকলে হয়তো জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তেন।
অধিনায়ক ছাড়া ইমরুল কায়েস ৪১ এবং তামিম ইকবাল ২৩ রান করেন। বাকি সাতজন মিলে করেছেন ৫৩ রান। ব্যাটিংয়ের দৈন্যদশা দেখে হতাশ অধিনায়ক। বলেন,“নিউজিল্যান্ড সিরিজেও ব্যাটিং ভালো হয়নি। টানা পাঁচ ম্যাচ খারাপ হতে পারে না। এভাবে খেললে সিরিজে আরো ম্যাচ হারতে হবে।”
জিম্বাবুয়ের বোলিং আহামরি মনে হয়নি সাকিবের। এমনকি উইকেট ব্যাটিং সহায়ক ছিলো বলেও জানিয়েছেন। সেখানে ব্যাটসম্যানদের উইকেট বিলানো নেতার পছন্দ হয়নি।
সাকিবের এমন মন্তব্যে প্রধান নির্বাচক জানিয়েছেন,“৯৯ শতাংশ সাকিবের পছন্দে হয়েছে। আমরা তাকে কিছু চাপিয়ে দেয়নি। আমি সাকিবের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ম্যাচ হেরে আবেগে অনেক কথা বলেছে।”
বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৬ ঘন্টা, ডিসেম্বর ০১, ২০১০