 |
ঢাকা: ঢাকা কমার্স কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩য় বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও জাসদ ছাত্রলীগের (ত-সা) তৎকালীন ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম মোমিনের হত্যার ৭ বছর পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার।
এ হত্যা মামলার রায়ে খুনিদের ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলেও গত এক বছরেও কার্যকর হয়নি মতিঝিল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকের ফাঁসির রায়। নিশ্চিত হয়নি নিহত মোমিনের পরিবারের নিরাপত্তা।
২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে কলেজে যাওয়ার পথে ওসি রফিকের ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে মোমিনকে।
ঘটনার দিনই মোমিনের বাবা আব্দুর রাজ্জাক ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত বছরের ২০ জুলাই ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মো. রেজাউল ইসলাম মোমিন হত্যা মামলার রায়ে ওসি রফিকসহ ৩ জনের ফাঁসি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজসহ ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এর মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একেএম রফিকুল ইসলাম ওরফে ওসি রফিক এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজ ও ঠোঁট উঁচা বাবু কারাগারে রয়েছেন। বাকি ফাঁসির আসামি শাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়া এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হাসিবুল হক জনি, মনির হাওলাদার, মো. জাফর ও শরিফ উদ্দিন পলাতক রয়েছেন।
হত্যার কারণ সম্পর্কে মোমিনের প্রতিবেশী ও জাসদ ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সামছুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, “২০০৫ সালে ৬ জুলাই ওসি রফিকের তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা আমার ১৫৫ উত্তর ইব্রাহীমপুরের জায়গায় দখলের উদ্দেশ্যে ভাঙচুর করছিল।’’
‘‘এ সময় পাশের একটি দোকান থেকে ক্যামেরা এনে ভাঙচুরের ছবি তুলেছিলেন মোমিন। আর তখন মোমিনকে ছবি তোলা অবস্থায় দেখে ফেলেছিল ওই সন্ত্রাসীরা। পরে তারা ওসি রফিককে এ কথা জানালে তিনি মোমিনকে হত্যার নিদের্শ দেন।’’
‘‘নিদের্শ অনুযায়ী ওসি রাফিকের ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা ১৩ সেপ্টেম্বর মোমিনকে খুন করে।”
তিনি বলেন, “ওসি রফিক হইকোর্টে আপিল করেছেন। আর তাই মামলার রায় ঝুলে আছে। আমরা চাই, এ মামলার রায় দ্রুত কার্যকর হোক।”
এতোদিনও আসামিদের বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার মোমিন হত্যার ৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়ে জাসদ ছাত্রলীগের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করা হয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফছির, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মু. সামছুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ইউনুছুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা সৈকত ইসলাম, নজরুল ইসলাম মুনমুন, মোফাখখারুল ইসলাম তৌফিক প্রমুখ।
এছাড়া এতে সংহতি প্রকাশ করেন নিহত মোমিনের ছোট বোন সুবিনা আক্তার, সাহানা আক্তার, ফারজানা রাজ্জাকসহ পরিবারের অন্যান্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা মোমিনের মামলার রায় দ্রুত কার্যকর ও পলাতক খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং মোমিনের পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৩০৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১২
সম্পাদনা: কাজল কেয়া, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর