ঢাকা: ঈদের সময় চাহিদা কম থাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে বলে জানা গেছে। ছুটির সময়ে দেশের কোথাও মানুষকে বিদ্যুতের লোডশেডিং নামের জনদুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলে পিডিবি সূত্র জানিয়েছে।
তবে রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার এলাকায় ভূগর্ভস্থ ক্যাবল স্থানান্তরের জন্য নারিন্দা, বংশাল, বাংলাবাজার এলাকায় ঈদের আগের দিন লোডশেডিং থাকবে বলে ঢাকা পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্র জানিয়েছে।
ঈদের দিনে কোনো লোডশেডিং থাকছে না বলে জানিয়েছেন ডিপিডিসির পরিচালক (অপারেশন) মিজানুর রহমান। ১৮ ও ১৯ আগস্ট সংস্কার কাজ শেষ না হলে ঈদের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনেও সংস্কার কাজ চলবে। সে কারণে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তিনি বাংলানিউজকে জানান, ঈদের সময়ে শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় চাহিদা অনেক কমে যায়। আর এ কারণেই ওই সময়টিকে সংস্কার কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
সংস্কার কাজের সময়ে ওই সব এলাকায় বিকল্প লাইন দিয়ে রেশনিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা হবে। এসব এলাকায় দিনে প্রায় ৬ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং হতে পারে বলেও জানান মিজানুর রহমান।
মিজানুর রহমান জানান, ডিপিডিসি’র সাধারণ চাহিদা রয়েছে প্রায় ১২শ’ মেগাওয়াট। আর তাদের শিল্প গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। ঈদের সময়ে শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় এবং অনেকেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামে যাওয়ায় ডিপিডিসির চাহিদা প্রায় ৫০০ মেগাওয়াটের মতো কমে যাবে।
তারা ঈদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জনসংযোগ পরিদফতরের পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, ঈদের সময় চাহিদা কমে যাওয়ায় কয়েক বছর ধরেই ঈদে কোনো লোডশেডিং থাকে না। এ বছরতো প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার রোজাও মোটামুটি লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগে গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানো হবে। প্রয়োজন হলে তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানো হবে।
পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, গত বছর ৩০ আগস্ট ঈদ-উল- ফিতরের দিনে কোনো লোডশেডিং ছিলো না। ওই দিন সকাল ১০টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ৩ হাজার ৯০৮ মেগাওয়াট, আর রাত ৯টায় চাহিদা ছিলো ৫ হাজার ১৩৭ মেগাওয়াট। এ বছর গ্রাহক কিছুটা বেড়েছে। সে কারণে পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দিনের বেলা বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঈদের সময় শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় এবং রাজধানী ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের চাহিদা ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে যায়। সে কারণে ঈদে গ্যাসের কোনো সংকট থাকছে না। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ১৫ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর বাংলানিউজকে জানান, ঈদে গ্যাসর সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। এ সময়ে গ্যাসের চাপ সর্বোচ্চ থাকবে।
তিনি আরো জানান, নরসিংদী-মনোহরদি লুপলাইন তৈরি হওয়ার পর থেকেই আর গ্যাস সংকট নেই। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৫০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। আরো অনেক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এগুলো শেষ হলে গ্যাসের কোনো সংকট থাকবে না।
উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ৮১টি কূপ থেকে প্রতিদিন ২ হাজার ২৪৮ মিলিয়ন কিউবিক ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
উৎপাদিত গ্যাস ৪১ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে অর্থাৎ ৯৩৫ দশমিক ৯ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্যাপটিভ পাওয়ারে সরবরাহ করা হচ্ছে ৫৩ দশমিক ৫৪ দশমিক ৬ এমএমসিএফডি।
১৪ আগস্ট তারিখের হিসেব মতে, সার উৎপাদনে ২৮৯ এমএমসিএফডি চাহিদার বিপরীতে ১৩৮ দশমিক ৪ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। যা মোট উৎপাদনের ৬ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যান্য গ্রাহকদের ১ হাজার ২০৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবারহ করা হচ্ছে, যা মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ।
ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানিয়েছে, ঈদের সময়ে রাজধানীতে পানিরও কোনো সংকট থাকছে না।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০১২
ইএস/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর