পাটশিল্প শ্রমিকদের জীবন-সংগ্রামের চালচিত্র নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘সাইরেন’। মোল্লা সাগর পরিচালিত এ প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী ও ডিভিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে। উদ্বোধনী প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বরেণ্য সমাজকর্মী খুশী কবির, চলচ্চিত্রকার মসিউদ্দিন শাকের, চলচ্চিত্রকার মানজারে হাসীন মুরাদ, আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন এবং কবি-সঙ্গীতশিল্পী কফিল আহমেদ এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
‘সাইরেন’ চলচ্চিত্রটির স্থিরচিত্র নিয়ে প্রদর্শনীর দিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে একটি চিত্রপ্রদর্শনী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগ্রহী সংগ্রাকরা প্রদর্শনীস্থলে “সাইরেন” এর ডিভিডি কিনতে পারবেন। ডিভিডি’র সঙ্গে উপহার হিসেবে থাকবে চলচ্চিত্রটির একটি পোস্টার।
মোল্লা সাগর পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘সাইরেন’ এমন একটি সময়ের দলিল যখন আমাদের দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও শিল্পখাতের অন্যতম প্রধান খাতটিকে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
এই দু:খগাঁথা পাটের, দেশের কৃষি ও শিল্পখাতে লাখো-কোটি মানুষের প্রধান জীবিকা হয়ে উঠে যা একসময় ‘সোনালী আঁশ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। পাটশিল্প ব্রিটিশ শাসনামলেই বাংলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কৃষকরা পাটচাষ এবং পাটের আঁশ প্রক্রিয়জাতকরণে দক্ষতা অর্জন করে আর এ অঞ্চলের প্রথম শিল্পশ্রমিক শ্রেণী হিসেবে আবির্ভূত হয় পাটশিল্প শ্রমিকরা, যারা পাটকল পরিচালনায় দক্ষ হয়ে ওঠে। ১৯৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর পুরো পাটশিল্পের রাষ্ট্রীয়করণ করা হলেও তার সুফল জাতি পায়নি। আশির দশকের শুরুতেই পাটশিল্পে দুর্যোগ নেমে আসে এবং নব্বই এবং পরবর্তী দশকেও তা অব্যাহত থাকে। এ শিল্পে ব্যয়সংকোচনে দাতাদের নীতি এবং বাংলাদেশ সরকারের বিনা বাধায় ওই নীতির অনুগামী হওয়ার মধ্য দিয়ে এসময় ব্যাপকহারে শ্রমিক ছাঁটাই চলতে থাকে। একের পর এক পাটকল বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং লাখ-লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে।
এ ঘটনাপ্রবাহের ধারবাহিকতায় ২০০৭-০৮ সালে খুলনার খালিশপুর এলাকায় কয়েকটি পাটকল বন্ধ ঘোষণা, শ্রমিকদের আন্দোলন এবং শ্রমিকপরিবারগুলোর দুর্দশার চিত্র উঠে এসেছে সাইরেন-এ। ক্ষুধা এবং অনিশ্চয়তায় এ পরিবারগুলোর সামনে যখন বেকারত্ব, অনাহার, মৃত্যু, আত্মহত্যা কিংবা পতিতাবৃত্তি ছাড়া আর কোনো গন্তব্য ছিল না ‘সাইরেন’ সেই সময়ের সাক্ষী।
বাংলাদেশ সময় ১৯০৫, আগস্ট ২৮, ২০১২ সম্পাদনা : বিপুল হাসান, বিভাগীয় সম্পাদক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।