ঢাকা : নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আলোচনায় না এলে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনের ব্যাপারে অনড় থাকবে আওয়াম লীগ।
বিরোধী দল তাদের অবস্থানে অনড় থাকলে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় সেই পথই অনুসরণ করবে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগ।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পর বর্তমান বিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওযার কথা রয়েছে।
সে মোতাবেক আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পর থেকেই প্রধান বিরোধী দল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে না যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে।
পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও আর অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায় সরকারে ফিরে যাবে না বলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তবে সম্প্রতি বিবিসি’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই নির্বাচনকালীন সরকারের একটি ধারণা তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবিত অন্তবর্তী সরকারের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা না দিলেও এই সময় একটি ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলেছেন। সেই মন্ত্রিসভায় প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে অনির্বাচিত-সরকার-বিরোধী অবস্থানে অনড় থাকার পাশাপাশি আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে নির্বাচনের সময় অন্তবর্তী সরকারে বিরোধী দলকেও সম্পৃক্ত করার কথা বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে আগামী নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কাটার কিছুটা সম্ভাবনা তৈরি হলেও বিরোধী দল তাদের অবস্থানে অপরিবর্তিত থেকে আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। এর ফলে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ।
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, ``আমরা এই প্রস্তাব মানি না। এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করছি। নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন চাই।``
এদিকে, বিরোধী দল বিএনপি তাদের অবস্থানে অনড় থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী। বিএনপি নেতারা এখন নাকচ করলেও পরে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এ রকম মন্তব্য একাধিক শীর্ষ নেতার।
আবার আদালতের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো আসেনি। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এলে একটা পথ বেরিয়ে আসতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, সকল দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই তারা আগামী নির্বাচনে যেতে চায়। তবে অনির্বাচিত কোনো সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে তারা অনড় অবস্থানেই রয়েছেন।
এ কারণেই নির্বাচনকালীন সরকারে প্রধান বিরোধী দলকেও থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ ও শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেবে।
সূত্রগুলো আরো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বিরোধী দল আলোচনায় না এলে সংবিধান অনুযায়ী যেভাবে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেভাবেই হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বাংলানিউজকে এ বিষয়ে বলেন, ``খালেদা জিয়া তো সব কিছুই আগে নাকচ করেন, পরে তো সবই মানেন!``
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আলোচনায় না এলে সংবিধান অনুযায়ী বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় সেভাবেই হবে।
এদিকে, বিএনপিপন্থি বৃদ্ধিজীবীরাও বলছেন, বিরোধী দলের আলোচনায় আসা উচিত। ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেছেন, ``প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে বিএনপির সাড়া দেয়া উচিত। আসলে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব মানুষ পছন্দ করেছে। এই প্রস্তাব বিএনপির নাকচ করাটা তাদের সমর্থকরাও পছন্দ করছে না। আশা করি বিএনপি আলোচনায় আসবে।``
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ``এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হতে হবে। সেটা যদি না হয় তবে নির্বাচন হবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে।``
তবে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ``আলোচনার দুয়ার তো এখনই বন্ধ হয়ে যায়নি। তাছাড়া ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলে পূর্ণাঙ্গ রায়ও এখনো আসেনি।``
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, ``বিএনপি প্রস্তাব নাকচ করেছে, তারপরও দেখা যাক কী হয়। আমরা ঈদের পর সবার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেবো।``
বাংলাদেশ সময় ১৮০০ ঘন্টা, ০৮ আগস্ট, ২০১২
এসকে/সম্পাদনা: আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com