 |
দিনাজপুর: দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের কোন্দলের জের ধরে এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহি মাহফুজ বিপ্লব (২৫) হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক।
বিপ্লব ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাহুলী গ্রামের বাবলার ছেলে। তিনি হাবিপ্রবির ভেটেরিনারি অনুষদের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
হাবিপ্রবির একটি সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখার আহমেদ রিয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কোন্দল চলে আসছিল।
এ ব্যাপারে পূর্বে বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়েছে। সর্বশেষ গত ১ জুন তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন গুরুতর আহত হয়।
এ ঘটনার জের ধরে ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান মারুফ ও রেশিম দিনাজপুরে আসেন। তারা শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কোন্দলের সমাধানে বৈঠকে বসেন।
এ সময় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিপ্লব সিগারেট খাওয়ার জন্য কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে বাইরে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান ও ছাত্রলীগের কর্মী শহরের বালুবাড়ী এলাকার মৃণাল কুমার গোস্বামী কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে বাইরে এসে বিপ্লবকে ডাক দেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় মৃণাল বিপ্লবকে থাপ্পড় দেন। বিপ্লব দৌড়ে পালিয়ে আসতে চাইলে মৃণাল তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড়ে, পিঠে, বুকে ও পাঁজরে আঘাত করেন। ফলে বিপ্লব গুরুতর আহত হয়ে পড়েন।
পরে বিপ্লবের সঙ্গীরা ছুটে এলে মৃণাল তার সঙ্গীদের নিয়ে পালিয়ে যান। আহতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িযোগে বিপ্লবকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলানিউজকে জানান, মৃণাল কুমার গোস্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী। তিনি কিভাবে ছাত্রলীগের কর্মী হন। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বারবার অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তিনি চাকরি পেয়েছেন ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় নিজেকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কিছু জানাতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. বলরাম রায় বাংলানিউজকে জানান, হত্যাকারী মৃণাল কুমার গোস্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত। সাংবাদিকরা এ সময় মৃণাল কুমার গোস্বামীর বিরুদ্ধে লাইব্রেরিয়ান কর্তৃক লিখিত অভিযোগ থাকার পরেও কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি তা জানতে চাইলে তিনি কিছু জানাতে চাননি।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার ময়নুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, আসামিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২৪ ঘণ্টা, জুন ০৯ ,২০১২
সম্পাদনা: শাফিক নেওয়াজ সোহান, নিউজরুম এডিটর