 |
ঢাকা: কোন আইনে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ছুটিতে পাঠাতে বলেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টানা পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো মেইলে খোদ বিশ্বব্যাংকেরই কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিল। সেখানে কোন আইন ও কোন গাইডলাইনে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটিতে পাঠানো হলো।?”
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী মোশাররফসহ প্রধানন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও পদ্মাসেতু প্রকল্পের পরিচালক রফিকুল ইসলাম ছুটিতে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুদকে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের কাছে পদ্মা সেতু পরামর্শক যাচাই প্রকল্পে দুর্নীতির ক্লু পেয়েছে বলে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন মোশাররফ।
তিনি বলেন, “আমি জানি না দুদকের অধিকার আছে কিনা এভাবে কথা বলার।”
দুদকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তদন্তাধীন বিষয়ে দুদক কীভাবে বক্তব্য দেয়? এটা ঠিক নয়।”
এ অনুসন্ধানের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যানের গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া তদন্তে প্রভাবিত করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পদ্মা প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতির ষড়যন্ত্র করা হয়নি বলে পুনরায় দাবি করেন তিনি।
পদ্মা সেতু পরামর্শক যাচাই মূল্যায়ন কমিটি বারবার বাতিল করার ব্যাখ্যা দিয়ে মোশাররফ বলেন, “প্রথমবার মূল্যায়ন কমিটি ভাঙা হয়েছিল বিশ্ব ব্যাংকের আপত্তির কারণে। পরবর্তী সময়ে একবার ভাঙা হয় যাকে প্রধান করে কমিটি হয় তার নিজের আপত্তির কারণে। তৃতীয়বার ভাঙার পেছনেও একই কারণ ছিল।”
সর্বশেষ অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে মূল্যায়ন কমিটিকে তার হাতে গড়া ভালো মূল্যায়ন কমিটি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কানাডিয়ান নাগরিক রমেশ সাহার জব্দকৃত ডায়েরিতে ঘুষের তালিকায় যে পাঁচ ব্যক্তির নামের তালিকা ছিল এরমধ্যে সাবেক সচিবের নামও ছিল।
বৃহস্পতিবার মোশাররফসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। অপর তিনজন হচ্ছেন, সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (নদী শাসন) কাজী মো. ফেরদৌস, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান ও জাতীয় সংসদের হুইপ নূরে আলম চৌধুরীর ভাই নিক্সন চৌধুরী।
দুদকের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন বিষয়ক ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। ঋণ পাওয়ার জন্য চারটি শর্ত জুড়ে দেয় দাতা সংস্থাটি। আর সেই শর্ত চারটি পালন না করায় গত ২৯ জুন ঋণচুক্তি বাতিল করে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের অন্যতম দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক।
এরপর দুর্নীতির সন্দেহভাজন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ ও ড. মসিউর রহমানকে ছুটিতে পাঠানোর পর চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া শর্ত অনুসারে এরই মধ্যেই পদ্মা সেতুতে পরামর্শক নিয়োগের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। আর বিশ্বব্যাংকের তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল দুইদিন বাংলাদেশ সফর করেছেন।
শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় আসছে আন্তর্জাতিক এ প্যানেলটি। মূলত দুদকের অনুসন্ধান পর্যবেক্ষণ করতেই আসছে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেল।
বাংলাদেশ সময়: ২১৫৫ ঘণ্টা,নভেম্বর ২৯,২০১২
এডিএ/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর