 |
| ছবি: নাজমুল হাসান/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক সেবনকারীদের মাধ্যমে এইডস বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। একটি ইনজেকশন একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে তার দ্বারা দ্রুত এইডসসহ অন্যান্য রোগ ছড়ায়। ইনজেকশন ব্যবহারকারী মাদকাসক্তদের মাধ্যমে যাতে এইডস ছড়াতে না পারে সেজন্য মাদকসেবীদের মধ্যে, পরিবারে, সমাজে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
আর এই সচেতনতা বাড়াতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার দৈনিক ভোরের কাগজের কনফারেন্স রুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ এবং সেভ দ্য চিলড্রেন আয়োজিত ‘ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক সেবনের ক্ষতি হ্রাসে গণমাধ্যমকে সংবেদনশীল করা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেয়ার বাংলাদেশ এর আইডিইউ প্রকল্পের দলনেতা ডা. রুপালী শিশির বানু।
প্রবন্ধ উপস্থাপনায় তিনি জানান, ২০১১ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে এইচআইভি এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১০১ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩২৫ জন। নতুন করে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৪৫ জন। এর মধ্যে এইডস আক্রান্ত ২৫১ জন। আর এতে মারা গেছেন ৮৪ জন। এছাড়া দেশে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৫০০ জন।
ইনজেকশন ব্যবহারকারী মাদক সেবনকারীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছেন।
রুপালি শিশির জানান, বাংলাদেশে এইডস বিস্তারের অন্যতম কারণ, সুইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের প্রবণতার আধিক্য। সারা দেশে এ পদ্ধতিতে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা ২ হাজার ৩০০। শুধু ঢাকা শহরেই এ সংখ্যা ৭ হাজার ৪০০।
সুই ব্যবহারকারী এইডস রোগী থেকে ৭টি মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে এইচআইভি পজিটিভের বিস্তার হয়। মাধ্যমগুলো হচ্ছে, নারী যৌনকর্মী, হিজড়া, বান্ধবী, পুরুষ যৌনকর্মী, পেশাদার রক্তদাতা, সঙ্গী এবং স্ত্রী।
ইঞ্জেকশন ব্যবহারকারী মাদস সেবনকারীদের বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত করার কারণ হচ্ছে, বিস্তারের গতিশীলতা, রক্ত বিক্রি, অনিরাপদ বাণিজ্যিক যৌনতা এবং হেপাটাইটিস বি ও সি বিস্তারে সহায়ক হওয়া।
এছাড়াও ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহীতারা ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ, ইঞ্জেকশনের একটি সুই মাদকগ্রহীতাদের অনেকজন ব্যবহার করেন। এসব মাদক খুবই উত্তেজক। ঢাকায় একজন ইনজেকশন ব্যবহারকারী মাদকসেবী দিনে ২ থেকে ৩ বার মাদক গ্রহণ করেন।
এ ধরনের মাদক সেবনকারীদের যৌন আচরণ সর্ম্পকে বলা হয়েছে, এরা বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হতে পারে, মাদকের আর্থ যোগানোর জন্যে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে পারে এবং এদের মধ্যে কনডম ব্যবহারের প্রবণতা কম। তাই এসব মাদকাসক্তদের মাধ্যমে এইডস ছড়ানোর ঝুঁকি প্রবল।
রুপালি শিশির আরো বলেন, ইনজেকশন ব্যবহারকারী মাদক সেবনকারীদের পক্ষে একেবারেই মাদক থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষতি হ্রাস করতে হয়।
প্রথমে মাদক সেবনকারীকে নিজের ব্যবহার করা ইনজেকশনের সুঁই অন্যদের সঙ্গে আদান-প্রদান না করার পরামর্শ দিতে হবে। এরপর বলতে হবে, ধোয়ার মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করতে পারো, কিন্তু ইনজেকশন নয়। এরপর তাকে মাদক গ্রহণ বন্ধ করিয়ে দেওয়া যায়।
ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক ব্যাবহারকারীদের সুস্থ করে তুলতে কাউন্সিলিং, সিরিঞ্জ ও সুই সরবরাহ, এইচআইবি পরীক্ষা, হেপাটাইটিস পরীক্ষা, মাদকাসক্ত ও তার সঙ্গীদের কনডম সরবরাহ এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শিক্ষা প্রদান করার মাধ্যমে এ এইডস ছাড়ানোর এ ভয়াবহ মাধ্যমটি বন্ধ করা যেতে পারে।
সেমিনারে আরো বলা হয়, যতোভাবে মাদক নেওয়া হয় তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ। কারণ, একটি ইনজেকশন দিয়ে একসঙ্গে অনেকেই মাদক নেন। ফলে একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এইডসসহ অন্যান্য রোগ বিভিন্ন জনের মধ্যে ছড়িয়ে যায়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বক্তব্যে তথ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ মামুন বলেন, ‘‘এইডস নিয়ে আমাদের খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। জনগণকে আমাদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। এইডস এবং মাদকের ভয়াবহতা সর্ম্পকে সচেতনতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম।’’
দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ন্যাশনাল এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর ড. আব্দুল ওয়াহেদ, কেয়ার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রোগাম ডিরেক্টর ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার অনুপ কুমার বসু প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ২০১০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১২
এমএন/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর