 |
| ছবি: বাদল/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
রংপুর থেকে: আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান সব ধরণের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদ আহাম্মদ। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।
সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর আগামী ২০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচনে মেয়র পদে ১২ জন, ৩৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩২৯ জন ও সংরক্ষিত ১১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর (নারী) পদে ৯১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা প্রশাসক বাংলানিউজকে বলেন,‘‘নির্বাচন কমিশন শুধু নিরপেক্ষতা নয়, দৃশ্যমান নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে চায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে দৃশ্যমানভাবে।’’
তিনি জানান,‘‘নির্বাচন আচরণ বিধি তদারক করার জন্য নির্বাচনের সময়, আগে ও পরে ভিজিল্যান্স টিম, মোবাইল কোর্ট কাজ করবে। ২৯ নভেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা হয়েছে। ১৮ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ২২ জন কাজ করবে। বর্তমানে ৩৩টি ওয়ার্ডে ১১টি মোবাইল কোর্ট কাজ করছে। আর ১৮ ডিসেম্বর থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ করবে একটি করে মোবাইল কোর্ট।’’
ফরিদ আহাম্মদ জানান,‘‘পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে একটি ভিজিল্যান্স টিম। আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের আওতায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত আছেন এতে। ভিজিল্যান্স টিমের তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’’
এছাড়াও রয়েছে স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট ফোর্স।
তিনি বলেন, ‘‘আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে নির্বাচন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, এসপি ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বৈঠকে যে গাইডলাইন দেওয়া হবে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে।’’
রংপুরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার দাবি ছিল দীর্ঘ দিনের। গত ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করেন। ১৮ অক্টোবর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৭ হাজার।
জাতীয় পার্টি থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পার্টির রংপুর মহানগর আহ্বায়ক মশিউর রহমান রাঙ্গাকে দলীয়ভাবে সমর্থন দেওয়া হলেও তৃণমূল জাতীয় পার্টি গঠন করে মনোনয়ন দাখিল করেন কেন্দ্রীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক ও রংপুর সদর উপজেলার পদত্যাগী চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মানিক। এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃণমূল জাতীয় পার্টির অপর নেতা মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
জাতীয় পার্টির দূর্গ বলে খ্যাত রংপুরে এই তিন প্রর্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বৃহস্পতিবারই রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে আব্দুর রউফ মানিক ও মোস্তাফিজার রহমানকে দলের সকল পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একই সঙ্গে কেন্দ্রের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয় রাঙ্গা।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি। জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী নন বলে নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ফিরোজ কবির চৌধুরী গুঞ্জন।
তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিয়েছেন শহর কমিটির সাবেক সভাপতি কাওসার জামান বাবলা।
ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে জেলা সাধারণ সম্পাদক মাজেরুল ইসলাম লিটন, বাসদের জেলা সমন্বয়কারী আব্দুল কুদ্দুস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোলাম মোস্তফা, স্বতন্ত্র হিসেবে রয়েছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফারুক আজিজ শাহিন, আলী হায়দার সরকার দুলু ও মেহেদী হাসান বনি।
এদিকে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে রংপুরে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্র সমর্থিত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় নতুন করে হিসেব-নিকাশ করে প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত করে তুলছেন প্রতিটি পাড়া-মহল্লা।
বাংলাদেশ সময়: ০৩৩৩ঘণ্টা, নভেম্বর৩০, ২০১২
এমআইএইচ/সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান, নিউজরুম এডিটর eic@banglanews24.com