 |
ইসলামের আলোয় আলোকিত জীবন সিরিজের ২য় পর্বে আজ আমরা আলচোনা করবো ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ সম্পর্কে।
সমাজে বসবাস করতে হলে আমাদের নানা নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। আর এসব আচার ব্যবহারের রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড। আর মুসলিম হিসেবে আমাদের সেসব মানদণ্ড কুরান-সুন্নাহ ভিত্তিক হবে সেটা বলাই বাহুল্য। এছাড়া ইসলামের চর্চা শুধু নিজে করলেই হবে না, নিজে জেনে, অন্যকেও জানানো আমাদের সবার কর্তব্য।
এজন্য মানুষকে ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করতে হবে, মানুষকে ইসলামের দিকে, আল্লহর দিকে ডাকতে হবে। আর এই নির্দেশনা সয়ং আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র কুরানে দিয়েছেন এবং মহানবী (সা.) বিভিন্ন সময় এই বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরানের সুরা কাসাসের ৮৭ নম্বর আয়াতে বলেন, “তুমি তোমার রবের দিকে (মানুষকে) আহ্বান জানাও”
আর এই আহ্বান হতে হবে সুন্দর ভাষায় এবং সদুপোদেশের সঙ্গে। আল্লাহ বলেন, “তুমি তোমার রবের (নির্দেশিত) পথের দিকে আহ্বান জানাও কুশলতা ও সদুপদেশ সহকারে।” (সুরা নাহল: ১২৫)
মানুষ একে অপরকে ভালো পথে ডেকে একে অপরকে সাহায্য করবে। আমরা বিভিন্ন সময় অপরকে বিভিন্ন কাজে সাহয্য করে থাকি, কিন্তু প্রকৃত সাহায্য হচ্ছে সেই সাহায্য যা তার ইহকালের পাশাপাশি আখিরাতেও কাজে আসবে। আর আখিরাতের সাফল্য তো আল্লাহর নির্দেশিত সৎ কাজের মাধ্যমে আসবে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে এভাবেই একে অপরকে সাহায্য করতে বলেছেন পবিত্র কুরানের সুরা মায়েদার ২ নম্বর আয়াতে, “তোমরা সৎ কাজ ও খোদাভীতির ব্যাপারে পরস্পরকে সাহায্য কর।”
পবিত্র কুরানের পাশাপাশি হাদিস গ্রন্থগুলোতেও সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করার ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে।
আমরা কোনো কাজই এমনি এমনি করি না, সব কাজের পেছনেই কোনো কারণ অথবা বিনিময়ের আশা থাকে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তো উত্তম বিনিময় প্রদানকারী। আমরা কাউকে ভালো কাজ করতে বললে পরকালে আল্লাহ আমাদের তার যথোপযুক্ত বিনিময় প্রদান করবেন, এই ব্যাপারে সহিহ মুসলিম শরীফের একটি হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো।
হযরত আবু মাসঊদ উকবা ইবনে ‘আমর আনসারী বদরী (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পথ নির্দেশ করে সে ঠিক ততোটাই বিনিময় পাবে যতোটা বিনিময় ওই কাজ সম্পাদনকারী নিজে পেয়ে থাকে।
আর এক্ষেত্রে কাজ সম্পাদনকারী ব্যক্তির বিনিময় কিছু কম হবে না। এতো গেল ভালো কাজের দিকে আহ্বানকারীর কথা। কিন্তু যে ব্যক্তি অসৎ পথে মানুষকে ডাকে তার কি হবে?
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল(সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সঠিক পথের (হেদায়েত) দিকে (মানুষকে) আহ্বান জানায়, তার জন্য এই পথের পথিকদের পারিশ্রমিকের (প্রতিদান) সমপরিমাণ পারিশ্রমিক রয়েছে। এতে প্রথমক্তদের বিনিময় কিছুমাত্র কম হবে না। আর যে ব্যক্তি ভ্রান্ত পথের (গোমরাহীর) দিকে আহ্বান জানায়, তারও উক্ত পথের পথিকদের গুনাহর সমান গুনাহ হবে। এতে তাদের গুনাহর কিছু কম হবে না।(মুসলিম)
অর্থাৎ ভালো কাজের দিকে মানুষকে ডাকা যেমন আমাদের দায়িত্ব, এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা পরকালে মহান আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত হবো। পক্ষান্তরে মন্দ কাজের জন্য এবং মন্দ কাজের দিকে মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য পরকালে পেতে হবে কঠোর শাস্তি। আর ভালো কাজ যেমন পরকালে কাজে লাগবে, তেমনি সুন্দর সমাজ গঠনের জন্যও কাজে লাগে। একইভাবে খারাপ কাজ ইহকাল ও পরকাল দু’টোই ধংস করে দেয়।
তাই, আসুন আমরা ধ্বংস আর হানাহনির পথ ছেড়ে সবাই সহিহ ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করি, নিজেরা চর্চা করি, অপরকেও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করি এবং মন্দ কাজ করা থেকে নিজেকে ও অন্যকে বিরত রাখি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: হাদিসগুলো রিয়াদুস সালেহিন (বাংলা অনুবাদ) বই থেকে নেওয়া হয়েছে।
লেখক: শিক্ষার্থী