 |
ঢাকা:বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার ঘটনায় সরকার সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বে বলে মনে করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইলিয়াসের বনানীর বাসায় তার পরিবারের সদস্যদের ঈদ উপহার দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিমত প্রকাশ করেন।
ফখরুল বলেন, “ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সরকার সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বে। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হলেও গত দু’মাস ধরে সরকার বিষয়টি নিয়ে কোন কাজ করছে না। সরকারি সংস্থাগুলো কোন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে না। এতে আমাদের বিশ্বাস দিনে দিনে শক্ত হচ্ছে যে, সরকার ও তাদের লোকজনই ইলিয়াস আলী গুমের সঙ্গে জড়িত।”
তিনি বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক দেশে গুম একটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। জাতিসংঘ সদনেও এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ।”
“এ সরকারের মেয়াদের ১৩৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন” দাবি করে ফখরুল বলেন, “সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের ড্রাইভারের কোন খোঁজ নেই। ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা যারা প্রত্যক্ষ করেছিলেন তাদেরকেও এখন আর দেখা যাচ্ছে না।”
“যারাই সামনে আসছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে তাদেরকেই গুম করা হচ্ছে” বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল।
ইলিয়াস আলী এখনও জীবিত মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তিনি নেই এমন তথ্য এখনও পাই নি। প্রধানমন্ত্রীও তাকে ফেরত দেবেন বলেছিলেন। আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। ইলিয়াসের পরিবারও মনে করে তিনি জীবিত রয়েছেন। সরকার তাকে ফিরিয়ে দেবে।”
ইলিয়াসের খোঁজ পেতে সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাচ্ছে না মর্মে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের বক্তব্যকেও ‘মিথ্যা’ আখ্যা দেন ফখরুল।
সম্প্রতি এরশাদের দেওয়া ‘দুই নেত্রীকে মাইনাস’ করা বিষয়ক বক্তব্য বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ফখরুল বলেন, “এখনও বাংলাদেশের রাজনীতি দুই নেত্রীর ওপর নির্ভর করে। ঈদের পরে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হবে।”
ইলিয়াস ইস্যুতে আন্দোলনে ভাটা পড়লো কেন এবং ঈদের পরে সরকার পতনের যে আন্দোলন শুরু হবে তাতে ইলিয়াস আলী ইস্যু থাকছে না কেন জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, “সব আন্দোলনই এক সঙ্গে করা হচ্ছে।”
“হরতালের মামলায় শীর্ষ নেতাদের আত্মগোপন ভুল হয়েছে। এজন্য দলকে মাসুল দিতে হবে শোনা যাচ্ছে”----একথা স্মরণ করিয়ে দিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “এটা দলের সিদ্ধান্ত ছিলো। গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে।”
এর আগে ১২টা ২৫ মিনিটে ইলিয়াসের বাসায় পৌছান ফখরুল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী ও কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক জামাল উদ্দিন খান মিলন।
ইলিয়াসের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, ছোট মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল ও ছোট ছেলে নাবিদ সাহারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ইলিয়াস এখনও নিখোঁজ থাকায় তার স্ত্রী ও ছেলেমেদের সান্ত্বনা দেন ফখরুল।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১২
এআই/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com