 |
ঢাকা: প্রধানবিরোধী দল বিএনপিকে সংসদে এসে গণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।
বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, “সংসদে এসে গণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলুন। সংসদের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ কিংবা সংসদ সদস্য হিসেবে পদ রক্ষার জন্য নয়, মানুষের ন্যায়সঙ্গত যৌক্তিক দাবি নিয়ে কথা বলতে সংসদে আসুন। আপনাদের যা বলার তা সংসদে এসে বলুন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দাবি পেশ করুন।”
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের আলোচনা সভায় নানক এ কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ এ আলোচনা সভা আয়োজন করে।
আয়োজক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শহিদুল্লার সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিএনপি সংসদে না এসে নানাভাবে কথা বলছে। তাদের উচিত সংসদকে সম্মান দিয়ে সংসদে এসে কথা বলা।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামী ১৫ আগস্ট মিথ্যা জন্মদিন পালন না করার আহবান জানিয়ে নানক বলেন, “জাতীর শোকের দিনে আপনি আপনার মিথ্যা জন্মদিন পালন থেকে বিরত থাকুন। তা না হলে শিশু-কিশোররা আপনাকে জন্মদিন নিয়ে তামাশা করার জন্য ধিক্কার জানাবে।”
“আইএসআইকে খুশি করার জন্যই খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট মিথ্যা জন্মদিন পালন করেন।” বলেও অভিযোগ করেন নানক।
আলোচনা সভায় আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, “জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত খুনি । তারদল এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।”
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত অপশক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন জিয়া। মানবতাবিরোধী অপরাধে দালাল আইনে সে সময় প্রায় ২০ হাজার ব্যক্তির বিচার প্রক্রিয়া চলার মাঝপথে সেই আইন উঠিয়ে দিয়ে তিনি পুনর্বাসন করেছিলেন ’৭১ ও ’৭৫- এর খুনিদের। তার দেখানো সেই পথই অনুসরণ করছেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া।”
তিনি বলেন, “সরকারের চলতি মেয়াদেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা হবে।কোন ষড়যন্ত্র সফল হবে না। কারণ, জনগণ এদের বিচার চায়। বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিলমম্বিত করার কৌশল নিয়েছে। তাই আমাদের বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে- সমস্ত ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু একাত্তরের ঘাতকদের বিচার বন্ধ করা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে না।”
বাংলাদেশ সময়: ২০৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ৭, ২০১২
এমআইআর/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর