 |
ময়মনসিংহ : মহুয়া-মলুয়া আর চন্দ্রাবতী রাতের প্রচ্ছদপট ময়মনসিংহ সংস্কৃতির নগরী। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এ জেলার পরিচিতির ক্ষেত্রে বড় একটা জায়গা দখল করে আছে গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
তবে নানান সীমাবদ্ধতা, পৃষ্টপোষকতার অভাব, আর্থিক দৈন্য, নিবেদিত প্রাণ সংগঠকের অভাব, মঞ্চ সমস্যাসহ ইত্যাকার কারণে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অতীতের তুলনায় এখন অনেকটাই ম্রিয়মাণ। এতো সমস্যা সত্ত্বেও ‘আমার মানুষ গান গায়’ খ্যাত ময়মনসিংহ শহরে গান-নৃত্যু-নাটক ও আবৃত্তি চর্চা হয়।
রবীন্দ্র জয়ন্তীতে সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়। তবে নজরুল জন্মজয়ন্তিতে সংগঠনগুলো যেন সত্যিকার অর্থেই প্রাণ ফিরে পায়। ত্রিশালের দরিরামপুরের নজরুল মঞ্চে ব্যতি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় সংগঠনগুলোকে।
জানা গেছে, উদীচী, ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ, বহুরূপী নাট্য সংস্থা, সন্দীপন নাট্য সংস্থা, মুকুল নিকেতন সাংস্কৃতিক একাডেমী, ঝিলিক, রবীন্দ্র পর্ষদ, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, শব্দ, আবৃত্তি নিকেতন, বিদ্রোহী নাট্যগোষ্ঠী, মুখোশ, অর্নিবার্ণ ময়মনসিংহে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেদের যুক্ত রেখেছে।
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ময়মনসিংহ শহরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। রাজধানীর বাইরে এমন জাঁকজমকপূর্ণ বর্ণাঢ্য উৎসব কম জায়গাতেই হয়। প্রতি বছরই রবীন্দ্র পর্ষদ আয়োজন করে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের। সন্দীপন সাংস্কৃতিক সংস্থা নিয়মিত আয়োজন করে ঘরোয়া সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার।
পাঠচক্র, আলোচনা, কবিতা পাঠের আসরসহ বিভিন্নমুখী সাহিত্য সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকে সাহিত্য সংসদ বছরের পুরোটা সময়ই। নবীন-প্রবীণ কর্মী-সংগঠকদের সমন্বয়ে উদীচীর কর্মকান্ড চোখে পড়ার মতো। এদিকে, শুধু নাটক নিয়েই বহুরূপীর অবিরাম পথচলা অব্যাহত রয়েছে।
তবে সংখ্যার দিক থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার রেকর্ড সবচেয়ে বেশি মুকুল নিকেতন সাংস্কৃতিক একাডেমীর। এ ছাড়াও ভাষার মাস ফেব্র“য়ারিতে, স্বাধীনতার মাস মার্চে আর বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে শহরের নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নতুনভাবে জেগে ওঠে।
ময়মনসিংহের সংস্কৃতি অঙ্গনের বর্তমান চিত্র সম্পর্কে জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার কামাল রবীন বলেন, মঞ্চের অভাবে দীর্ঘদিন সংগঠনগুলো ঝিমিয়ে ছিল। কয়েক বছর আগে শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তন হওয়ার পর সে সংকট কিছুটা কাটে।
তিনি আরো বলেন, আমরা সবাই অপেক্ষায় আছি নির্মাণাধীন টাউন হলটির দিকে। টাউন হল মিলনায়তন চালু হলে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন জোয়ার আসবে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সংগঠনেরই নিজস্ব অফিস নেই। এছাড়া পৃষ্ঠপোষকতারও অভাব ব্যাপক।
জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের এক নেতা জানান, সংস্কৃতির দিক থেকে এ শহর এক সময় সমৃদ্ধ ছিল, বিশেষ করে গানের ক্ষেত্রে। অনেক গুণী সংগীতজ্ঞ ও শিক্ষক এ শহরে ছিলেন। কিন্তু এটি এখন প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে।
উচ্চাঙ্গ সংগীতের বড় ওস্তাদ এ শহরে এখন আর নেই। রবীন্দ্র সংগীত চর্চার চিত্রটিও আশাব্যঞ্জক নয়।
ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ জানান, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের জগতে এ শহরে এখন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক, ব্যক্তিত্ব এবং উঁচুমানের মানুষ খুবই কম। একই কারণে সংস্কৃতি চর্চায় আগের সেই জোয়ারে অনেকটা ভাটা এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ সময় : ১৮১০ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০১২
সম্পাদনা : বিপুল হাসান, বিভাগীয় সম্পাদক