 |
চট্টগ্রাম: ৩ দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) হাসপাতালের (ইন্টার্নি) চিকিৎসকদের কর্মবিরতি।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ।
তিনি জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। চমেক হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে।
ইন্টার্নি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “ইন্টার্নি চিকিৎসক মিজানের ওপর হামলাকারীরা ক্ষমা চেয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং অস্ত্রোপচার কক্ষের যন্ত্রপাতির দাবিও পূরণ হতে চলেছে। সব মিলিয়ে আমরা দুপুর ১২টা থেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি।”
কর্তব্যরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডা. মিজানের ওপর ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার, নিরাপত্তা জোরদারসহ ৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন।
চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কর্মবিরতি প্রত্যাহারের লক্ষ্যে কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে। বেলা ১১টা থেকেই হাসপাতাল এলাকায় মুখে মুখে ফেরে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরুর কথা।
এ খবর শুনে স্বস্তি নেমে আসে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে।
বেলা সাড়ে ১১টায় হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ফসিউর রহমানের একান্ত সচিব বাংলানিউজকে জানান, কর্মবিরতি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ৫ দফা দাবি নিয়ে বুধবার দুপুরে আলোচনায় বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বৈঠকে অংশ নেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. ফসিউর রহমান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতা ডা. মুজিবুল হক খান, পাঁচলাইশ থানার ওসি আলমগীর হোসেন, ইন্টার্নি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
বৈঠক শেষে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল, ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতি চলবে। তবে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের একটি স্কোয়াড গঠন করে জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর ইসলামিয়া কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত এক ছাত্রকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায় ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের কিছু কর্মী।
খবর পেয়ে চমেক ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়ো হয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এসময় মিজান নামে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও দুজন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন।
এ ঘটনার জের ধরে রাত ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। এতে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন রোগীরা।
বাংলাদেশ সময়: ১২৪৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১২
এআরএম/ সম্পাদনা: কাজল কেয়া, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর