 |
ঢাকা: হজযাত্রী পরিবহনে বিতর্কিত কাবো এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ভাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
শনিবার বিমানের পরিচালনা পর্ষদ সভায় হজের জন্য উড়োজাহাজ ভাড়ার বিষয়টি উত্থাপিত হয়। কিন্তু পর্ষদের অধিকাংশ সদস্য কাবো’র বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান না নিয়ে বলেন, এ বছর এরই মধ্যে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া করা হয়েছে। এছাড়া বিমানের নিজস্ব ডিসি-১০ এবং নতুন কেনা বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ রয়েছে। নিজস্ব ও ভাড়ায় আনা দুটি উড়োজাহাজ দিয়ে হজ ফ্লাইট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। তাই আর কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া করার প্রয়োজন নেই।
পর্ষদ সদস্যদের এই মতের পক্ষে বেশিরভাগ সদস্য মত দিলে কাবো’র এয়ারলাইন্সের প্রস্তাবটি বাদ পড়ে যায়। বিমান পর্ষদ সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ কাবো’র উড়োজাহাজ নিতে মরিয়া ছিলেন। তবে কাবো’র লড়াইয়ে চেয়ারম্যান হেরে গেলেও ইউরো আটলান্টা’র উড়োজাহাজ নিতে পেরে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন জামাল উদ্দিন।
এদিকে বিমানের জিএম মামদুদ খানের চাকরি বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব পরিচালনা পর্ষদ সভায় উত্থাপিত হয়নি।
এর আগে গত ১৫ জুন বিমানের পর্ষদ সভায় হজের জন্য এভিকো ও এয়ার আটলান্টার উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত হয়। তবে এ ঘটনার পরেও বিতর্কিত কাবো হাল না ছেড়ে যেকোনো মূল্যে বিমানের হজ ফ্লাইটে যুক্ত হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।
এবছর হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান মোট তিনটি উড়োজাহাজ ভাড়া করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া চূড়ান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত কাবো’র উড়োজাহাজ ভাড়ার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়।
কাবো’র উড়োজাহাজকে হজ ফ্লাইটে যুক্ত করতে জামাল উদ্দিন অনেক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে পর্ষদ সদস্যদের ম্যানেজ করার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কৌশল টেকেনি।
কাবো’র উড়োজাহাজ নিতে প্রথম দফার দরপত্র বাতিল করা হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় দফায় দরপত্রে অংশ নেয় কাবো ও অর্থ কেলেঙ্কারি করা ইউরো আটলান্টা। প্রথম দফায় দরপত্রে অংশ নেওয়া এভিকো এভিয়েশন ও এয়ার আটলান্টার সঙ্গে বিমানের আলোচনা চূড়ান্তই ছিল। এরপরেও বিমান এ দুটি কোম্পানির উড়োজাহাজ না নিয়ে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহবান করেছিল।
বিমানসূত্রে জানা গেছে, যাতে কাবো ও ইউরো আটলান্টা হজ ফ্লাইটে যুক্ত হতে পারে সেজন্যই বিমানের প্রভাবশালী একটি চক্র এভিকো ও এয়ার আটলান্টার সঙ্গে চুক্তি করতে গড়িমসি করেছিল।
কাবো প্রথম দফায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদের আবেদন বাতিল করেছিল বিমান। এরপরে দ্বিতীয় দফার দরপত্রে আবেদন করে কাবো।
এ বছর রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমান ৬০ হাজার হজ যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা করেছে। যাত্রী বেশি হওয়ায় এবার বিমান তিনটি উড়োজাহাজ ভাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দুটি উড়োজাহাজ ভাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
নাইজেরিয়াভিত্তিক উড়োজাহাজ কোম্পানি কাবো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে হজ কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এজন্য বিমানের পরিচালনা পর্ষদ কাবোকে তালিকাভুক্তির সুপারিশও করেছিল। অপর কোম্পানি ইউরো আটলান্টা তো বিমানের জামানতের টাকা ফেরত না দিয়ে চলে গিয়েছিল।
কাবো কাহিনী
কাবো এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ নিয়ে হজ কেলেঙ্কারির পরেও বিগত কয়েক বছর ধরে বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের তৎপরতার কারণে বিমান এই উড়োজাহাজ নিতে বাধ্য হয়েছে। হজ মৌসুমের আগে একাধিক লিজ প্রদানকারী কোম্পানি বিমানে দরপত্র জমা দিলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা বাতিল হয়ে যেত। ২০১১ হজ মৌসুমে কাবোর উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে দরপত্র ৪ দফায় বাতিল করার নজিরও রয়েছে। এবছরও ঠিক একই ধরনের ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে।
ইউরো আটলান্টা কোম্পানির বিমানের জামানতের ২০ কোটি টাকা ফেরত না দিলে চলে গিয়েছিল। পরবর্তীতে বিমান এ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিলে তারা ১০ কোটি টাকা ফেরত দিলেও এখন পর্যন্ত বাকি অর্থ ফেরত দেয়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৫২০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৪, ২০১২
আইএইচ/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
jewel_mazhar@yahoo.com