ঢাকা: ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলন রিও+২০। গত ২০ জুন শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ২২ জুন পর্যন্ত। এখানে জড়ো হয়েছেন বিশ্বনেতারা।
রিও+২০ সম্মেলন উপলক্ষে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং মতামত জানিয়ে লেখা আহ্বান করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মতামত দিয়েছেন উন্নয়ন সংগঠন `ভয়েস` এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক তরুণ উন্নয়নকর্মী ও কবি-গবেষক আহমেদ স্বপন মাহমুদ।
দ্য গার্ডিয়ানের গত ১৫ জুনের অনলাইন সংস্করণে ‘Rio+20: A voice from Dhaka, Bangladesh’ শিরোনামে তার মতামতটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়েছে। তারই বাংলা তরজমা বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো:
সারাবিশ্বের মানুষের কাছে টেকসই উন্নয়নের অর্থ কি? বিশ্বনেতা, এনজিও, অধিকারকর্মী এবং অন্যরা ব্রাজিলে জাতিসংঘের রিও+২০ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের প্রশ্ন- এ নিয়ে তারা কী ভাবছে? ১৯৯২ সালে ধরিত্রী সম্মেলনের পর থেকে তারা কি পরিবর্তন দেখতে পেয়েছেন। রিও+২০ সম্মেলনের জন্য তাদের কি বার্তা রয়েছে? তারা কি মনে করেন, এই রিও+২০ সম্মেলন তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে?
দ্য গার্ডিয়ানের এসব প্রশ্ন এবং মতামত আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আহমেদ স্বপন মাহমুদ লিখেছেন-
(টেকসই) উন্নয়ন-লক্ষ্য অর্জনে একটি মানবাধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি, লৈঙ্গিক সমতা, যথোপযুক্ত কর্ম এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশের নিরাপত্তার বিষয়টি মনে রাখা উচিৎ।
১৯৯২ সালের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতি আরো পুঞ্জীভূত এবং কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের নীতির বিরুদ্ধে চলে গেছে। প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ অপব্যবহার, অর্থনীতির অতিরিক্তি ভোগবাদী চরিত্র এবং পুঁজিবাদী আচরণের কারণে জলবায়ু, খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং অর্থনৈতিক সমস্যার মতো নানা সঙ্কট এখন চলে এসেছে সামনে।
পৃথিবীর বেশিরভাগ সম্পদ এখন মাত্র ৫ শতাংশ মানুষের কুক্ষিগত। সুতরাং গত দু’দশকে প্রান্তিকীকরণ, ধনী ও গরীবের মধ্যে বৈষম্য আরও বেড়েছে। তাই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন অবশ্যই সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সাম্য এবং পরিবেশের নিরাপত্তার দিকটিতেও মনোযোগ দাবি করে। বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তন না আনলে সবুজ অর্থনীতি এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ জিডিপিতে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে। কিন্তু এদেশে ধনী-গরীবের পার্থক্য আরও বেড়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটি এখন এখানকার জীবনকে আগের চেয়ে আরো বেশি অরক্ষিত করে তুলেছে।
সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যের অধীনে আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সঙ্কট সমাধানে এবং দক্ষিণ এশিয়াকে সহায়তার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব কীভাবে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারে, রিও+২০ সম্মেলনকে এনিয়ে অবশ্যই কাজ করতে হবে।
এছাড়া ২০১৫ সাল-পরবর্তী বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্রুত অসমাপ্ত কাজগুলোর ব্যাপারে নজর দেওয়ার বিষয়টিই রিও সম্মেলনের মূল আলোচ্য হওয়া উচিৎ।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৭ ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১২
সম্পাদনা:জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
jewel_mazhar@yahoo.com