 |
ঢাকা: লন্ডনে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী জনগণের পক্ষে নয়, জনগণের মতামতের বিপক্ষে কথা বলেছেন অভিযোগ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি এবং তার মন্ত্রীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারদর্শী। জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নেওয়ার জন্য এবং বিভ্রান্ত করতেই তিনি একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন এবং সে সরকারে ইচ্ছা করলে বিএনপি যোগ দিতে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছেন।
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর সেই আহ্বান বিএনপি ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে জানিয়ে ফখরুল আরো বলেন, ‘‘আগামীতে যে নির্বাচন হবে তা নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হতে হবে। সে সরকার যে নামেই হোক তাতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। ওই সরকারের ফরমেট কি হবে, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত আছি।’’
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে ন্যাশশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) আয়োজিত নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাধায়ক সরকার পুর্নবহালের দাবিতে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, এ সরকার এ পর্যন্ত জনগণের পক্ষে যতো কথা বলছে, প্রত্যেক কথায় জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে। দেশের মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উর্ধগতি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতির জন্য হিমশিম খাচ্ছিলো, তখন প্রধানমন্ত্রী ৫০/৬০ জনের একটি বাহিনী নিয়ে লন্ডনে অলিম্পিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনগণের পক্ষে নয়, জনগণের মতামতের বিপক্ষে কথা বলেছেন।
মির্জা ফখরুল দাবি করে বলেন, জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে নেওয়ার জন্যই প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন, নির্বাচনের জন্য ছোট করে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করা যায়। যে সরকারে ইচ্ছা করলে বিএনপি যোগ দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে জনগণ বিভ্রান্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ এই সরকার এবং সরকারের মন্ত্রীরা বিভ্রান্ত করতে পারদর্শী। এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যতো কথা বলেছেন, তা বিভ্রান্ত করার জন্যই বলেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে হাইকোর্ট থেকে দুটি রায় দেওয়া হয়েছে। এ দুটির মধ্যে যেটির মাধ্যমে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আগামীতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে পারবেন, সেটিকেই কাজে লাগিয়েছেন।
পৃথিবীর কোথাও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের সিস্টেম নেই দাবি করে ফখরুল বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং এমপি থাকবে, আবার ওই সব আসনে নির্বাচন হবে। তাহলে কি একই আসনে দু’জন এমপি থাকবে?
গ্রামীণব্যাংক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানান ফখরুল।
এছাড়া দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে ‘অর্নগল কথা বলার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী’ আখ্যায়িত করে ফখরুল বলেন, তিনি গ্রামীণব্যাংক নিয়ে কেন সমালোচনা করেন? তার জানা উচিত, এই ব্যাংকটি স্বল্প আয়ের মহিলাদের ব্যাংক। আইন সংশোধন করে গ্রামীণব্যাংক এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার শুধু গ্রামীণ অর্থনীতিই নয়, সারা দেশের অর্থনীতিকেও ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
সরকারকে ‘অযোগ্য’, ‘অপদার্থ’, ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষ এই সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাও দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। এ সরকার যতোই বিভ্রান্তি ছড়াক, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন দিতে হবে। তিনি সরকারেকে সোজা পথে আসার আহ্বান জানান।
ফখরুল বলেন, নির্দলীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, সে অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশের মানুষ। সরকার যদি সোজা পথে সেই দাবি না মানে, তবে ঈদের পর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি পূরণে বাধ্য করা হবে।
ইফতার মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার। অন্যান্যের মধ্যে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল লতিফ নেজামীসহ ১৮ দলীয় জোট নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০৩৩ ঘণ্টা, আগস্ট ০৩, ২০১২
এমএম/এমআইএইচ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর