 |
ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মার্কেটিং বিভাগে বিগত এক বছরে রাজস্ব আয় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। অংকের হিসেবে আয় বেড়েছে ৬১৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
যাত্রী সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট প্রতি যাত্রী সংখ্যাও (কেবিন ফ্যাক্টর) বেড়েছে। এক বছরে কেবিন ফ্যাক্টর ৭৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৮ শতাংশ হয়েছে। বিমানের মার্কেট শেয়ার আগের ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তবে এত কিছুর পরেও ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণেই বছর শেষে লোকসানের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স। তার সংশ্লিষ্টরা এর মূল কারণ চিহ্নিত করছেন ফ্লাইট বিলম্ব কে।
বাংলানিউজের অনুসন্ধানে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলানিউজের কাছে আসা ওই তথ্য অনুযায়ী; ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিমানের মার্কেটিং বিভাগ রাজস্ব আয় করেছিল দুই হাজার এক ১৬৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে এই আয় বেড়ে দুই হাজার ৩৫৫ কোটি ১১ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। সর্বশেষ ২০১১-১২ অর্থবছর রাজস্ব আয়ের পরিমান ছিল দুই হাজার ৯৭২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থ্যাৎ প্রতিবছরই বিমানের রাজস্ব আয় বাড়ছে।
তবে বিমানের লাভের অর্থের পুরোটাই চলে যাচ্ছে ব্যয় মেটাতে। মূলত ফ্লাইট বিলম্বের কারণেই বিমানের ব্যয়ের অংক বাড়ছে।
বিমানের অন্য এক হিসাব থেকে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের ২০১১-১২ অর্থ বছরে বিমানের ফ্লাইট বিলম্ব আরো ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ শতাংশে। ২০১০-১১ অর্থবছরে ফ্লাইট বিলম্ব ছিল ৬০ শতাংশ। ফ্লাইট বিলম্ব বেড়ে যাওয়ার পরেও বিমানের যাত্রী বেড়েছে এক শতাংশ। বিমানের মার্কেটিং বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, ফ্লাইট বিলম্বে হলে স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো এয়ারলাইন্সের যাত্রী সংখ্যা কমে যেতে বাধ্য।
এ বিষয়ে বাংলানিউজের পক্ষ থেকে বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, ১০ শতাংশের বেশি ফ্লাইট বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। এই বেশি কোনোভাবেই ২০ শতাংশ ছাড়াতে পারবে না। আর সেখানে ৬৫ শতাংশ ফ্লাইট বিলম্ব নিয়ে কোনো এয়ারলাইন্সের পক্ষে টিকে থাকাই কঠিন।
তিনি বলেন, এত পুরনো উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট শিডিউল ঠিক রাখা কঠিন কাজ। এছাড়াও রয়েছে কিছু অব্যবস্থাপনা। এর অন্যতম হচ্ছে স্বল্প দূরত্বে লংরুটের ক্যারিয়ার চালানো। আবার ছোট ক্যারিয়ারে যা বহণ করা সম্ভব তার পরিবর্তে বড় ক্যারিয়ার ব্যবহার করা। উদাহরণ দিয়ে ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিমানের ২৬০ আসনের এয়ারবাস দিয়ে যে ফ্লাইটটি পরিচালনা করার কথা ছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ করে সেখানে ৪১৯ আসনের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ পাঠানোর নজির রয়েছে। এতে করে ১৫৯টি আসন নষ্ট হলো। এভাবেই ভুগছে বিমান।
বিমানের সাবেক পর্ষদ সদস্য আরো বলেন, ৫টি ফ্লাইট থেকে যে টাকা লাভ করবেন, একটি ফ্লাইট বিলম্বের ব্যয় তা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ার সঙ্গে যাত্রীদের হোটেলে রাখতে হয়, অন্য কোনো এয়ারলাইন্সে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হয়।
বিমানের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিমান ৮ হাজার ১২টি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে ১৪ লাখ ২৫ হাজার ২০৫ জন যাত্রী পরিবহন করে। এর মধ্যে চার হাজার ৮৭৫টি ফ্লাইট সময়মতো ছাড়তে ব্যর্থ হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে বিমান পরিবহন করেছিল ১৬ লাখ দুই হাজার একজন যাত্রী। যা বিগত বছরের তুলনায় এক লাখ ৭৬ হাজার ৭৯৬ জন বেশি। এই পরিমান যাত্রী বহনে বিমান ৯ হাজার ৩৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৪৫০টি ফ্লাইট বিলম্বে ছেড়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে বিমান ৯ হাজার ১৫০টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৪টি যাত্রী পরিবহন করে। যা বিগত এক লাখ ৭৩ হাজার ৯৮৩জন বেশি যাত্রী। তবে এর মধ্যে ফ্লাইট বিলম্ব হয়েছে ৬ হাজার ২৫টি। যা মোট ফ্লাইট সংখ্যার ৬৫ শতাংশ। বিগত দুই বছরে ফ্লাইট বিলম্বের হার ছিল ৬০ শতাংশ। সর্বশেষ অর্থবছরে ফ্লাইট বিলম্ব আরো ৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ সময়: ১০৪৯ ঘন্টা, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১২
আইএইচ/ এমএমকে