 |
| ছবি: মোশারফ/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: রাজধানীর কাপ্তান বাজারে মধ্যরাতে জবাই করা সব মহিষের মাংস দিনে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করা হয়। এ এক অভিনব প্রক্রিয়া। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
রাজধানীর চাহিদার প্রায় পুরো গরুর মাংসই আসে কাপ্তান বাজারের কসাই খানা থেকে। কাপ্তান বাজারে কসাই খানার চিত্র দেখে চোখ চড়কগাছ না হওয়ার কোনো কারণ নেই।
মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে কাপ্তান বাজারের কসাইখানায় গিয়ে দেখা যায়, মহিষ জবাই করা হচ্ছে। সেখানে একটি গরুও পাওয়া যায়নি। আর এই মহিষের মাংসই দিনের বেলা গরুর মাংস হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চলে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এখানকার একাধিক কসাই বাংলানিউজের কাছে এ বিষয়টি স্বীকার করেছে। কসাইদের কথায় স্পষ্ট বোঝা গেলো মানুষ কীভাবে গরুর মাংস কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
তবে, নিয়ন অনুযায়ী কসাই কার্যক্রম পরিচালনা হলে জনসাধারণ এ ধরনের প্রতারণা থেকে অনায়েসেই রেহাই পেতে পারেন। তা হলো কসাইখানায় যখন জবাই কার্যক্রম চলে তখন সেখানে একজন পশু চিকিৎসক উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে রাত ৩টায় সেখানে কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি।
এমনকি সেখানে কোন ডাক্তার থাকার কথা তাও ঠিকভাবে বলতে পারেন না কাপ্তান বাজারের কসাইখানার কর্মীরা। কেউ বলেন, ডা. শফিকের আসার কথা, কেউবা বলেন না।
মহিষ জবাইয়ের জন্য নিয়ে আসা এক ব্যবসায়ী মো. আলীম বাংলানিউজকে বলেন, “ডাক্তার সাহেবতো শুনছি রাত ৪টার দিকে আসেন। অহনতো তিনটা বাজে। চারটার দিকে চলে আসবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাপ্তান বাজারের এক কর্মী বলেন, “কাপ্তান বাজারের কর্মকর্তারা শেষ রাতের দিকে এসে কেবল বখরা নিয়ে যায়। কিন্তু যে দায়িত্ব পালন করার কথা তা করে না না। এখানকার সব মহিষের মাংসে গুরুর মাংস বলে চালানো হয়।”
কাপ্তান বাজারের রাতেই বেশিরভাগ পশু জবাই করা হলেও এ সময় কাপ্তান বাজার কমিটির কোনো প্রতিনিধিও সেখানে পাওয়া যায়নি।
এভাবেই মধ্যরাতে ঢাকার রাস্তায় পাশ ধরে চলা মহিষ গায়েব হয়ে যায়। এসব গায়েব হয়ে যাওয়া মহিষ দিনের আলোতে গরুর মাংসে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ সময়: ০৩৪৯ ঘন্টা, মে ২২, ২০১৩
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর