 |
| ছবি: নুর/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: "শহরতলী ", বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের জগতে নতুন এক নাম। তবে একবারেই নতুন বললে ভুল হবে। শহরতলী দেশের প্রথম ব্যান্ড, যাদেরকে বলা হয় "থিয়েট্রিক্যাল রক" ব্যান্ড। শহরতলী ব্যান্ডের শুরুটা ২০০৫ সালের দিকে।
দীর্ঘ ৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর আসে তাদের ব্যান্ডের প্রথম একক অ্যালবাম ‘বরাবর শহরতলী’।
এবার শহরতলী শুরু করেছে তাদের দ্বিতীয় একক অ্যালবামের কাজ। ইতোমধ্যে তারা অ্যালবামের নামও ঠিক করে ফেলেছেন। নিজেদের দ্বিতীয় একক অ্যালবামের নাম রেখেছেন "অপর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য"।

এ ধরনের গান নিয়ে চিন্তা ভাবনা কেন তা জানতে চাইলে ব্যান্ডের ভোকালিস্ট মিশু খান বাংলানিউজকে বলেন, "আসলে একটা মঞ্চে যেমন একই সাথে গান, নাচ, কবিতা, গীতিকবিতা, অভিনয় গীতিনাট্য সবকিছুকে এক বিন্দুতে নিয়ে এসে একটা আবহ তৈরী করা হয় এবং সব অভিব্যক্তি ঐ আবহ ঘিরেই প্রকাশিত হয়; ঠিক তেমনি আমরা সংগীত, সুর, কবিতা ও গীতিকবিতা দিয়ে একই কাজ করার চেষ্টা করছি। আর এ ধরনটি থিয়েট্রিক্যাল রক বলে মনে করি আমরা।"
২০০৭ সালে মিশ্র অ্যালবাম `নিয়ন আলোয় স্বাগতম`এ `আসাদের খোলা চিঠি` শিরোনামের গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরপর নিজেদের দলের একক অ্যালবাম `বরাবর শহরতলী`র কাজ শুরু করেন। অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় শহরতলী ব্যান্ডের প্রথম একক অ্যালবাম `বরাবর শহরতলী`।
`বরাবর শহরতলী`র গানগুলো হচ্ছে: এ শহরে, প্রতিক্রিয়া, আকাশ-পৃথিবী, পদধ্বনি, প্রস্থান, অতলে শহরতলী, সোনালী সেই দিন, দ্রোহের দরে দেহ, কর্কশ ও জেলখানার চিঠি (খোলা চিঠি)।
প্রথম একক অ্যালবাম সম্পর্কে বেজ গিটারিস্ট তপন বলেন, "মজার ব্যাপার হলো গানগুলো এই শহরকে ঘিরেই। এ শহরের হাসি, কান্না, ভালোবাসা, আড্ডা, জীবনবোধ, নৈতিকতা, অবয়বসহ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এতো কাছ থেকে অবলোকন করা যা প্রশংসার দাবিদার।"

প্রস্থান, অতলে শহরতলী, সোনালী সেই দিন, জেলখানার চিঠি শিরোনামের গানগুলো শ্রোতামহলে আবার নতুন ভালোলাগা সৃষ্টি করে।
প্রথম অ্যালবাম সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়ার কথা জানতে চাইলে ড্রামার সানি বলেন, "যেহেতু আমরা সম্পূর্ণ আলাদা ধাঁচের গান করি, একটি ঝুঁকিতো ছিলোই, কিন্তু শ্রোতাদের বিপুল আগ্রহের কারনে ব্যান্ডের ২য় অ্যালবামের কাজ ইতিমধ্যে শুরু করছি।"
নিজেদের দ্বিতীয় একক অ্যালবাম `অপর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য`র পাশপাশি `হাতিয়ার` নামক একটি মিক্সড অ্যালবামে শহরতলী`র গান থাকছে। গানটির শিরোনাম "আমি লজ্জিত ফেলানী ২০১১।"
গানটি সম্পর্কে লিড গিটারিস্ট সুখন বললেন, "ফেলানীর ঘটনা আমরা সবাই জানি। কি নির্মমভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে বিএসএফ একটি কিশোরীকে। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে তথাকথিত সুসম্পর্কের নিন্দেই মূলত এই গানটির উপজীব্য। আশাকরি গানটি সবার ভালো লাগবে।"
নিজেদের দ্বিতীয় একক অ্যালবামে গান থাকবে মোট ১০ টি। গানগুলোর খোল-নলচে তৈরীর কাজ শেষ; এখন চলছে শব্দগ্রহণ।

আগের অ্যালবামের মতোই গানের ভাবের সাথে মিল রেখে ৫-টি গানে কবিতা ব্যবহৃত হয়েছে; তবে পার্থক্য হচ্ছে, খ্যাতনামা কবির লেখার সাথে ব্যান্ডের সদস্যদের লেখাও ব্যবহার করা হয়েছে।
অ্যালবামের নামকরণ প্রসঙ্গে ব্যান্ডের পারফর্মিং ভোকাল সোহাগ জানান, প্রথম প্রয়াস এর পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টা, পরের পৃষ্ঠার মত উল্টিয়ে দেখতে হবে আমরা নতুন কি করছি; এ জন্যই এমন নামকরণ।
অ্যালবামটি কবে নাগাদ আসতে পারে, তা জানতে চাইলে ব্যান্ডের কিবোর্ডিস্ট বাবু এবং ব্যান্ড ম্যানেজার সিফাত বলেন , ডিসেম্বর নাগাদ অ্যালবামটি বাজারে আনতে চাই, সে লক্ষ্যেই রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি। সব কিছু ঠিক থাকলে শ্রোতারা যথাসময়ে আমাদের অ্যালবাম হাতে পেয়ে যাবেন।
শহরতলীর বর্তমান সদস্যরা হলেন: মিশু (ভোকালিস্ট, গিটারিস্ট), তপন (বেজিস্ট, গীতিকবি), সানি (ড্রামার, শব্দকুশলী), সুখন (লিড গিটারিস্ট), সোহাগ (পারফরমিং ভোকাল) এবং বাবু (কিবোর্ডিস্ট)।
বাংলাদেশ সময়: ২২০০ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৫, ২০১২
এমকে/একেএ