 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
নান্দাইল (ময়মনসিংহ): উপমহাদেশের প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত গুরু পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী স্ত্রী-সন্তানসহ মঙ্গলবার দুপুরে পূর্বপুরুষের ভিটা ঘুরে গেলেন।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুলী ইউনিয়নের পালাহার গ্রামের বড়বাড়িতে এসে তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।
ছোট ছেলে অঞ্জন চক্রবর্তীকে দেখিয়ে তিনি বলেন, “এটা আমার পূর্বপুরুষের ভিটে। এখানেই আমার বাবা অজিত চক্রবর্তী, ঠাকুরদা রাম চন্দ্র চক্রবর্তীর স্মৃতি জড়িয়ে আছে।”
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী অঞ্জনা চক্রবর্তী। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বড়বাড়িতে পৌঁছালে এলাকাবাসী, স্থানীয় শিল্পী ও সাংবাদিকরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী এখানে এসে আশপাশের বাড়িগুলোও ঘুরে দেখেন। এ সময় মুড়ির মোয়া খেতে খেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী বাংলানিউজকে জানান, এর আগে তিনি ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথমবার পূর্বপুরুষের ভিটায় আসেন।
তিনি বলেন, “এটা আমার ঠাকুরদার বাড়ি। এই বাড়িতেই আমার বাবার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বাড়িটি সংস্কার করা হবে।”
অজয় চক্রবর্তীর ঠাকুরদার বাড়িটি বর্তমানে দেখাশুনা করেন তারই বংশধর অমূল্য চক্রবর্তী এবং প্রতিবেশী আব্দুর রহমান।
মুশুলী গ্রামের নির চন্দ্র দে নামে এক বৃদ্ধ জানান, ‘ছেলে-বেলায় গ্রামে কীর্তনের আসর হতো। সেখানে অজয়ের বাবার সঙ্গে আমিও উপস্থিত থাকতাম।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত প্রসঙ্গে বলেন, “সংস্কৃতিতে কোনো বিরোধ নেই। কোনো বেড়া নেই। ইচ্ছে আছে বাংলাদেশে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নিয়ে কাজ করার। এদেশেও অনেক মেধা রয়েছে।
প্রায় ২ ঘণ্টা বড়বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি সবার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন। এর আগের দিন সোমবার তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদির মসুয়ায় ‘কবিরাজবাড়ি’ খ্যাত তার মামার বাড়িতে যান।
পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী প্রসঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পী অজয় শিকদার বলেন, “শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে তিনি মহাসাগর। এ মহাসাগরের কাছ থেকে কতটুকুইবা একজন নিতে পারেন বলুন!”
প্রসঙ্গত, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী ২৯ নভেম্বর ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বেঙ্গল আইটিসিএসআর-এ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ৪ দিনের উৎসবে যোগ দিতে সোমবার কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন।
বাংলাদেশ সময়: ০৪৪২ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৮, ২০১২
এডিবি/সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর