 |
| নিউইয়র্ক : বক্তব্য রাখছেন নিজাম চৌধুরী। ছবি-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম। |
নিউইয়র্ক : এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিউইয়র্কে স্মরণকালের বৃহত্তম নাগরিক সংবর্ধনা প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ প্রদর্শনের যে কর্মসূচি বিএনপি ও তারেক পরিষদ ঘোষণা করেছে তা প্রতিহত করার সংকল্পও ব্যক্ত করেছেন আ’লীগ নেতৃবৃন্দ।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস স্মরণে নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়ায় ক্লাব সনম মিলনায়তনের এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এ সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আকতার হোসেন এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সমাবেশে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী।
দুদিন আগে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে প্রত্যাবর্তনকারী নিজাম চৌধুরী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ইতোমধ্যেই একটি সামরিক অভ্যুত্থান চক্রান্ত করেছিল বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার জন্যে।
কিন্তু পরম করুণাময়ের অসীম রহমত এবং আমাদের বিচক্ষণ গোয়েন্দা বিভাগ তা নস্যাৎ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের নাম-নিশানা মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রয়েছে।
গত ১৪ আগষ্ট ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এক সময় ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী উইলিয়াম বি মাইলামের লেখা একটি মন্তব্যবের কঠোর সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিজাম চৌধুরী বলেন, বিগত বিএনপি-জামাত জোট আমলে লুট করা সম্পদের বিরাট একটি অংশে আন্তর্জাতিক লবিং ফার্ম ভাড়া করেছে একাত্তরের ঘাতক এবং তাদের দোসররা।
উইলিয়াম বি মাইলাম সে প্রক্রিয়ারই একটি অংশ এবং এজন্যেই তিনি নগ্ন ভাষায় বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশকে সহায়তা না করার জন্যে। নিজাম চৌধুরী বলেন, একাত্তরেও এমন অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ ছিল বলে স্বাধীনতা যুদ্ধকে নস্যাত করা সম্ভব হয়নি।
নিজাম চৌধুরী বলেন, এবারও সম্ভব হবে না, কারণ গোটা জাতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। অবিলম্বে এ ষড়যন্ত্র থেকে বিরত হবার আহবানও জানানো হয় মাইলামসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক প্রখ্যাত থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলার’-এর সিনিয়র স্কলার হচ্ছেন উইলিয়াম বি মাইলাম। এই থিঙ্কট্যাঙ্ক থেকেই বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।
এ সমাবেশ থেকে আরো ঘোষণা করা হয়- সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্যে শেখ হাসিনা যখন নিউইয়র্কে আসবেন তখন তাকে স্মরণকালের বৃহত্তম সংবর্ধনা প্রদান ছাড়াও জাতিসংঘের সামনে ও জেএফকে এয়ারপোর্টে বিরাট শান্তি সমাবেশ করা হবে।
উল্লেখ্য, জেএফকে এয়ারপোর্ট, জাতিসংঘের বাইরে এবং শেখ হাসিনার হোটেলের সামনে কাল প্রতাকা প্রদর্শন ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের যে কর্মসূচি বিএনপি ঘোষণা করেছে তাকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিহত করার জন্যেই আওয়ামী লীগ এ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন নিজাম চৌধুরী।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার মাধ্যমেই তার প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব হবে। এছাড়া চলতি মেয়াদেই বঙ্গবন্ধুর পলাতক ঘাতকদের শাস্তি কার্যকর এবং একাত্তরের ঘাতকদের বিচার সম্পন্নের আহবান জানান বক্তারা।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন- একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. মনসুর খান, যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান, সৈয়দ বসারত আলী, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, শামসুদ্দিন আজাদ, নজমুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সভাপতি আব্দুল মোসাব্বির, নিউইয়র্ক স্টেট আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, নিউইয়র্ক মহানগর আ’লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সেক্রেটারি ইমদাদুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ ল’ সোসাইটির সেক্রেটারি মুর্শেদা জামান, বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি শামসুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান সর্দার, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সেক্রেটারি জাহাঙ্গির হোসেন, আ’লীগের নির্বাহী সদস্য জসীমউদ্দিন খান মিঠু প্রমুখ।
জ্যাকসন হাইটস : এদিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে আরেকটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে। এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিট কমান্ডার নূরনবী এবং পরিচালনা করেন যৌথভাবে যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ড. এম এ বাতেন ও গোলাম মোস্তফা।
বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর এক ঘাতক আমেরিকা এবং আরেক ঘাতক কানাডায় অবস্থান করছে। এদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের রায় কার্যকর করতে প্রতিটি প্রবাসীর আন্তরিক সহায়তা দরকার। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- আলাউদ্দিন সরদার, হুমায়ূন কবীর, নাসিরউদ্দিন, রতন বড়–য়া, খুরশেদ আলম বাবলু, আবুল কালাম, শহীদুল্লাহ, মশিউল আলম জগলু, ফারুক হোসাইন, এম রহমান সাঈদ, নিখিল কর্মকার প্রমুখ।