 |
ঈদ আনন্দে বাড়তি আমেজ নিয়ে আসে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের বিনোদন আয়োজন। দেশে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে ভালো অনুষ্ঠান-নাটক-টেলিফিল্ম প্রচারের মধ্য দিয়ে দর্শক আকর্ষণের প্রচেষ্টাও বাড়ছে। চ্যানেলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। এতে লাভবান হয়েছেন দর্শকেরা। অন্য যে কোনো ঈদের চেয়ে এবার টিভি চ্যানেলগুলোতে বৈচিত্রময় পরিবেশনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ঈদের আগের দিন থেকে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়েছে। প্রতিটি চ্যানেলই পাঁচ থেকে আট দিনব্যাপি ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। আগের বছরগুলোর মতোই সব চ্যানেলের অনুষ্ঠানমালায় সবচেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে নাটক আর টেলিফিল্মকেই। সবমিলিয়ে এবার ঈদে সম্প্রচার হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিনশ নাটক ও টেলিফিল্ম। এছাড়া থাকছে বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, সেলিব্রিটি শো, টক
শো, গেম শো, লাইভ শো, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, বাংলা ছায়াছবিসহ বৈচিত্রময় আয়োজন।
গত কয়েক বছর ধরে বিজ্ঞাপন বিরতি দর্শক বিরক্তির প্রধান কারণ। এবার অনেক চ্যানেল বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় অনুষ্ঠানে ফিরে আসার সময় বেঁধে দিয়েছিল, যা দর্শকদের অপেক্ষার মতো বিরক্তির হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা করেছে। দর্শকরা জানতে পেরেছে কতক্ষণ পর তারা আবার তাদের প্রিয় অনুষ্ঠানে ফিরে যেতে পারবেন। তবে একই সময়ে একধরনের অনুষ্ঠান প্রচারের ধারা এবারের ঈদেও ছিল অব্যাহত। বিশেষ করে প্রিয়শিল্পীদের গানের অনুষ্ঠানগুলো প্রায় একই সময়ে প্রচার হওয়ায় ইচ্ছে থাকলেও সব দর্শকের পক্ষে পছন্দের শিল্পীর পরিবেশনা উপভোগ সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
যে সময় বৈশাখী টেলিভিশনে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল মাইলস সরাসরি সংগীত পরিবেশন করছে, ঠিক সেই সময়ই মাছরাঙা টেলিভিশনের রাঙারাত অনুষ্ঠানে আলোচিত শিল্পী মিলা, দেশটিভিতে ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ এবং আরটিভিতে কনার লাইভ গানের অনুষ্ঠান হচ্ছে। অনেকেই তাই প্রিয় শিল্পী পরিবেশনা উপভোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ঈদের অনুষ্ঠানমালা এখন চলছে। কাজেই এখনও সব চ্যানেলের অনুষ্ঠানমালা নিয়ে কথা বলা যাবে। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন প্রচার হওয়া কয়েকটি নাটক ও বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা আলাদাভাবে অবশ্য উল্লেখ করা যেতে পারে।
প্রথমেই বাহবা দেওয়া যেতে পারে বিটিভির ‘ইত্যাদি’- কে। টিভি দর্শকরা যে প্রত্যাশায় ইত্যাদি দেখতে বসেন, হানিফ সংকেত এবারের ঈদেও দর্শকদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছেন। বিনোদনমূলক যেসব ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান দর্শকদের আনন্দ দিতে পেরেছে তার মধ্যে ছিল— চ্যানেল আইয়ে শাইখ সিরাজের পরিচালনা ও পরিকল্পনায় ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’, এটিএন বাংলায় ‘ঈদের বাজনা বাজেরে’, বাংলাভিশনে কণ্ঠতারকা ফেরদৌস ওয়াহিদ বনাম অভিনেতা মনির খান শিমুলের দু’টি দল নিয়ে ‘এক্কাদোক্কা টেক্কা’ জিটিভির ‘আজকের অনন্যা’, চ্যানেল নাইনে সৈকত সালাউদ্দিনের উপস্থাপনায় ‘সুপার স্টার’ প্রভৃতি।
সব চ্যানেলের ঈদ অনুষ্ঠানমালায় যেমন নাটক ও টেলিফিল্মকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তেমনি দর্শকদের আগ্রহ ছিল এগুলোর প্রতিই। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের শেষ চিত্রনাট্য অবলম্বনে নির্মিত এবং সুইজারল্যান্ডে চিত্রায়িত ‘যদি ভালো না লাগে তো দিও না মন’ দেখার প্রতি আগ্রহ ছিল অসংখ্য দর্শকের। টেলিফল্মটি দশকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে।
এ পর্যন্ত বিভিন্ন চ্যানেল প্রচারিত ঈদের বিশেষ নাটক ও টেলিফিল্মের মধ্যে দর্শকদের ভালো লেগেছে— এটিএন বাংলায় হানিফ সংকেত পরিচালিত ‘বোঝা- না বোঝার বোঝা’, চ্যানেল আইয়ে মাহফুজ আহমেদের পরিচালনায় ‘জোছনার ছায়া’, সালাউদ্দিন লাভলুর ‘ঘাসফুল নদী’ বাংলাভিশনে সাগর জাহান পরিচালিত ‘আরমান ভাই হাউজ হাজব্যান্ড’, এনটিভিতে ‘প্রেম বাঁচিতে জানে’, দেশ টিভিতে অনিমেষ আইচ পরিচালিত ‘রূপজান’, মাছরাঙা টিভিতে ‘জর্দা জামাল’ প্রভৃতি।
বেশকিছু মানসম্পন্ন সংগীতানুষ্ঠান প্রচার হয়েছে এবার ঈদের অনুষ্ঠানমালায়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চ্যানেল আইতে রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার উপস্থাপনায় সাবিনা ইয়াসমিনের রবীন্দ্র সংগীতের একক সংগীতানুষ্ঠান ‘পথ চাওয়াতেই আনন্দ’, নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা গান নিয়ে চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ কোনাল, রাফসান, ঝিলিক, মনির আশিকের পরিবেশনায় ‘ও আমার উড়াল পঙ্খিরে’, বৈশাখী টেলিভিশনে ফারহানা নিশোর উপস্থাপনায় ‘সময় কাটুক গানে গানে’- তে ব্যান্ড লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুর লাইভ পরিবেশনা প্রভৃতি।
টিভি চ্যানেলগুলোর সপ্তাহব্যাপী ঈদ অনুষ্ঠানমালা প্রচার শেষে বাংলানিউজের প্রচেষ্টা থাকবে মূল্যায়নধর্মী একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৫, আগস্ট ২৪, ২০১২
সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর