 |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা সরকার বাতিল করায় স্বস্তি ফিরেছে জনমনে।
এলাকাবাসী জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের বাড়িঘর, জমি, মসজিদ-মন্দির, স্কুল-মাদ্রাসা উচ্ছেদের আওতায় পড়তো। ফলে তাদের মধ্যে আগে থেকেই এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন মাঝের চরে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের কথা ছিল। এ লক্ষ্যে সরকার এলাকার তিন হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আওতায় গত বছর জেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রায় ৭৪৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
তবে এর আগেই দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ ওই এলাকায় চারটি তেল শোধনাগার ও একটি বৃহৎ স্টিল কারখানা নির্মাণের জন্য জমি কিনে কাজ শুরু করে। এর অবকাঠামোগত উন্নয়নে তারা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
বর্তমানে বসুন্ধরা গ্রুপসহ ঢাকার ইন্টার বাল্ক ও এ কে খান গ্রুপের জমিও অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এসব জমি দখলে নেওয়ার সময় জেলা প্রশাসক এ তিন শিল্প উদ্যোক্তার কাউকে আগাম কোনো নোটিশ দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তরেরও প্রকল্প বাস্তবায়নে ঘোর আপত্তি ছিলো বলে সূত্র জানায়।
প্রকল্প বাতিল করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনোয়ারা উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আনিছ বাংলানিউজকে বলেন, “সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন কেন্দ্র ধ্বংস করে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে শুরু থেকেই আমাদের আপত্তি ছিল। সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আমরা মহাখুশি।”
বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন এ্যানেলও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলে সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। পারকি সৈকতের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি দেশের শিল্প উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে রাজস্ব আয়ের হার বাড়বে।”
একই মত প্রকাশ করেন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে ভূমি অধিগ্রহণ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা এম এ গফুর, লুসাই পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাইয়ুম শাহ, পারকি সৈকত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম এবং এলাকার দুই ইউপি চেয়ারম্যান ছাবের ইবনে মাহবুব ও নোয়াব আলী। তাদের মতে, প্রকল্পের বাতিলের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্খারই প্রতিফলন ঘটেছে।
পিডিবির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালক মো. ইলিয়াছ এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পটি বাতিল হয়নি, এটি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) রাব্বি মিয়া বলেন, “প্রকল্প বাতিল হয়েছে, আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো বার্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এখনও আসেনি।”
উল্লেখ্য, সদ্য নির্বাচিত ওই এলাকার সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদও পারকিতে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন।
বাংলাদেসশ সময়: ১০২৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৩
সম্পাদনা: হাসান শাহরিয়ার হৃদয়, নিউজরুম এডিটর/আরআর