 |
ঢাকা: বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার চার মাস পূর্ণ হবে শুক্রবার। আর মাত্র তিন দিন পরেই ঈদ। জীবনে এই প্রথম বাবাকে ছাড়া ঈদ করতে হবে ইলিয়াস আলীর সন্তানদের।
প্রাণপ্রিয় বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে শোকে পাথর হয়ে গেছে সন্তানরা। ওদের মুখে কোনো রা নেই। নেই ঈদের আনন্দ। বাবার জন্য প্রতীক্ষা যেন শেষ হয় না ওদের।
অন্যদিকে এক আকাশ শূন্যতা বুকে নিয়ে শুক্রবার ঢাকার বাসা ‘সিলেট হাউস’ থেকে সন্তানদেরসহ গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে ঈদ করতে যাবেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। তিনি হয়তো কোনোদিনই ভাবেননি, এভাবে সন্তানদের নিয়ে একা একা গ্রামের বাড়ি যেতে হবে ঈদে।
ইলিয়াস আলীর শূন্যতা কিছুতেই পূরণ হওয়ার নয় তার পরিবারের কাছে। তবুও রাজনৈতিক সহকর্মীর পরিবারের প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা-সহমর্মিতা জানাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইলিয়াস আলীর বনানীর ‘সিলেট হাউসে’ যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট হাউসে পৌঁছে দুপুর ১টা পর্যন্ত ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। তাদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খোঁজ নেন।
তিনি ইলিয়াস আলীর সন্তানদের জন্য ফরাসি ফ্যাশন ব্রান্ড ‘লা রেভে’ থেকে কেনা ঈদের নতুন পোশাক নিয়ে যান।
এ সময় ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে ছিল ছোট মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল ও ছোট ছেলে নাবিদ সাহারা। ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী ও কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক জামাল উদ্দিন খান মিলন।
মির্জা ফখরুল যখন তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন নাবিদ সাহারা কথা বললেও সাইয়ারা নাওয়াল ছিল একেবারেই নিশ্চুপ। মির্জা ফখরুল এ সময় বারবার তার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করছিলেন। এ সময় সেখানে সৃষ্টি হয়েছিল এক আবেগঘন পরিবেশের।
ইলিয়াস আলীর বাসার ওপর তলা থেকে নিচে নেমে মির্জা ফখরুল যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, তাখন তিনি ছিলেন অনেকটা বিমর্ষ। আবেগআপ্লুত হয়ে এ সময় তিনি বলেন, ‘‘ছোট্ট মেয়েটিও হাসতে ভুলে গেছে।’’
উল্লেখ্য, রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে ১৭ এপ্রিল রাতে বের হয়েছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী। সঙ্গে ছিলেন তার গাড়িচালক আনসার আলী।
ওই রাতেই নিখোঁজ হয়ে যান তারা। আজও সন্ধান মেলেনি তাদের।
তবে ইলিয়াসের সন্ধান না মিললেও সেদিন গভীর রাতে বনানীর ২ নম্বর রোডের সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ইলিয়াসের গাড়িটি উদ্ধার করেছিল বনানী থানা পুলিশ।
সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইলিয়াস নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। তাকে উদ্ধারে বারবার অভিযান চালিয়েও তারা ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থ হয়েছে সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটিও।
ইলিয়াসের নিখোঁজের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর তার নিজ জেলা সিলেটসহ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সারা দেশ। ইলিয়াস ইস্যুতে সারা দেশে ৫ দিন এবং সিলেটে আরো ১ দিন হরতাল পালিত হয়। সিলেটে গঠন করা হয় ‘ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’। বিশ্বনাথ উপজেলায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে প্রাণ হারান ৩ জন।
স্বামীকে ফিরে পেতে ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বাস দিলেও ফিরে পাওয়া যায়নি ইলিয়াসকে।
বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়াও ইলিয়াসের স্ত্রীকে অনেক আশার বাণী শুনিয়েছেন, আন্দোলন করেছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন ইলিয়াস ইস্যুতে বিএনপির আন্দোলনে গতি নেই।
বাংলাদেশ সময়: ১৫২৪ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১২
এআই/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
jewel_mazhar@yahoo.com