 |
আমাদের টিভিনাটকের দুই প্রজন্মের জনপ্রিয় দুই অভিনেতা আলী যাকের ও ইরেশ যাকের। এই তারকা বাপ-বেটাকে নিশ্চয়ই নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। অভিনয় ক্ষমতা আলী যাকেরের যেমন সহজাত, তেমনি উত্তরাধিকার সূত্রেই বোধহয় ইরেশ যাকের পেয়েছেন অভিনয় প্রতিভা।
মজার ব্যাপার হলো বাবা আলী যাকের আর ছেলে ইরেশ যাকেরের জন্মদিন একটাই, অর্থাৎ একই দিন বাপ-বেটার জন্ম। এ আবার হয় কীভাবে? জানতে হলে পড়তে হবে তাদের কথা।
বাবার অভাব অনুভব করি তাকে হারানোর পর : আলী যাকের
বাবা দিবস সম্পর্কে জনপ্রিয় অভিনেতা আলী যাকের বললেন, বাবা দিবসের সংস্কৃতিটা আমাদের নয়। এটা ইউরোপ-আমেরিকার জন্যই বিশেষভাবে প্রযোজ্য। কারণ সেখানে ছেলেমেয়েরা আঠারো বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায়। এমনকি দেখা-সাক্ষাৎও কমে যায়। তাই বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য তাদের বিশেষ দিন প্রয়োজন হয়। যেদিন বাবার সঙ্গে দেখা করবে বা বাবার কথা স্মরণ করবে। আমাদের দেশে বাপ-বেটার বন্ধনটা এখনও ঐ পর্যায়ে পৌঁছায় নি। অনেক বয়স হলেও ছেলেমেয়েরা এখনো এদেশে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে, কিংবা ছুটি পেলে সোজা বাবা-মার কাছে চলে যায়। তাই আমাদের এখানে আলাদা করে বাবা দিবস বা মা দিবস পালনের প্রয়োজন দেখি না।
আলী যাকেরের কাছে তার বাবার স্মৃতি জানতে চাইলে তিনি বললেন, বাবার গুরুত্ব টের পাওয়ার আগেই আমার বাবা আমাকে ছেড়ে চলে যান। আমি আমার বাবাকে হারাই ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার আগেই। বাবাকে হারানোর পর অনুভব করি বাবার অভাব। সেই সময় তো ‘বাবা দিবস’-এর কোনো নাম গন্ধ ছিল না কোথাও।
এখন বাবা দিবসে আমার ছেলেমেয়েরা আমাকে শুভেচ্ছা জানায়। প্রায় পরিবারেই এখন বাবা দিবস পালন করা হয়। সব মিলিয়ে ভালোই লাগে।
প্রথম বাবা হওয়ার স্মৃতি জানিয়ে আলী যাকের বললেন, আমার প্রথম বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতাটা ছিলো বেশ মজার। আমার প্রথম সন্তান ইরেশের জন্ম হয়েছিলো ১৯৭৬ সালের ৬ নভেম্বর। কাকতালীয়ভাবে আমার জন্মতারিখও হলো ৬ নভেম্বর! দু’জনেরই একই দিনে জন্মদিন হওয়াতে এই দিনটা আমার কাছে খুব প্রিয় একটা দিন। প্রথম বাবা হওয়ার মুহূর্তটা সত্যিই অসাধারণ! এই অনুভূতিটা অন্য সব অনুভূতির চেয়ে একেবারেই আলাদা।
সন্তানের সঙ্গে বাবার সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত ? উত্তরে আলী যাকের বললেন, আমার মনে হয় বাবা আর সন্তানের সর্ম্পকটা যতোটা পারা যায় বন্ধুত্বপূর্ণ থাকাটাই ভালো। এতে বাবা যেমন সন্তানকে বুঝতে পারে, তেমনি সন্তানও বাবাকে বুঝতে পারে। জেনারেশন গ্যাপ থেকে এতে দূরে থাকা সম্ভব।
বাবার উদারতার কারণেই আমাদের সম্পর্কটা সাবলীল : ইরেশ যাকের
বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক প্রসঙ্গে ইরেশ যাকের বলেন, আমার কাছে বাবা ও সন্তানের সম্পর্কটা খুব পবিত্র আর সুন্দর সম্পর্ক বলে মনে হয়। বাবা যতোটা বন্ধুত্বপূর্ণ হন ততোই ভালো। কারণ অনেক সময় সন্তানের পক্ষে সংকোচ-দ্বিধা কাটিয়ে বাবার কাছে সহজ হওয়া কঠিন। কিন্তু বাবা নিজেই সম্পর্কটা যদি সহজ করার উদ্যোগ নেন, তাহলে সেটা বেশ সহজ। এক্ষেত্রে জেনারেশন গ্যাপ এড়ানো সম্ভব।
বাবা দিবসটি কীভাবে উদযাপন করেন ? উত্তরে ইরেশ যাকের বলেন, প্রতি বাবা দিবসে আমি আর আমার বোন মিলে একসঙ্গে বাবাকে উইশ করি। বাবাকে সামান্য কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি। অন্যদিনের চেয়ে এইদিন বাবার সঙ্গে একটু বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করি।
বাবা আলী যাকেরের সঙ্গে নিজের সাবলীল সম্পর্কের কথা জানিয়ে ইরেশ বললেন, আমি ভীষণ সৌভাগ্যবান।
কারণ বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা খুবই মধুর। আসলে বাবার উদারতার কারণেই আমাদের সম্পর্কটা সহজ-সরল ও সাবলীল হয়েছে। বাবার সঙ্গে আমি খুব খোলামেলা। সবকিছুই তার সঙ্গে শেয়ার করতে পারি। একই সঙ্গে বাবাকে আমি শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি। বাবা কখনোই আমার উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেন নি। যে কোনো বিষয়ে আমার নেওয়া সিদ্ধান্তকে তিনি ভীষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন।
ইরেশ যাকের আরো বললেন, আমি যখন অভিনয় করবো বলে ঠিক করি। বাবা আমাকে সেইভাবে উৎসাহ যেমন দেন নি, তেমনি আমাকে অনুৎসাহিতও করেন নি। বরং বলেছেন, অভিনয় করতে যদি তোমার ভালো লাগে, তুমি করতে পারো। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারটা তিনি আমার উপরই ছেড়ে দিয়েছেন। পরে অবশ্য আমার অভিনয় দেখে উৎসাহ দিয়ে বলেছেন, দেখতে হবে না ছেলেটা কার !
বাংলাদেশ সময় ১৮৩০, জুন ১৬, ২০১২
সম্পাদনা : বিপুল হাসান, বিভাগীয় সম্পাদক