 |
ঢাকা: দেশে আরও একটি স্যাটেলাইট চ্যানেল যোগ হলো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের চ্যানেল অফিস প্রাঙ্গণ থেকে সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হলো টোয়েন্টিফোরের।
প্রথমেই সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়া হোসেন ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হয়। এরপর কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সঙ্গীত সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
এরপর ৭টা ৫৪ মিনিটে প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী তথ্যমন্ত্রীর পক্ষে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। তিনি রাষ্ট্রীয় কাজ থাকায় সবাইকে শুভেচ্ছা জানিযে চলে যান। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইর সভাপতি এ কে আজাদ। চ্যানেলটির পরিচালক শেখ কবির হোসেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা নানাভাবে মিডিয়ার প্রতি নির্ভরশীল। সংবাদ মাধ্যমগুলোর দাবি, তারা সত্য কথা প্রচার করে। আশা করি, এই চ্যানেল সেই দৃষ্টান্ত রাখবে। সরকার জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বাকি মেয়াদে আরও অনেক উন্নয়ন হবে যেমনটি এতদিন হয়েছে।’
‘অামি মাটির মানুষ, কৃষকদের নিয়ে থাকি। বড় বড় অভিজাত সমাজের প্রতিনিধি নই, কৃষকদের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। আমি অাশা করবো, সাধারণ মানুষদের কথা এই চ্যানেলে উঠে আসবে। একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সবাইকে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অাওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, ডেইলি ইন্ডিপেনডেন্ট সম্পাদক মাহবুবুল আলম, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সাংবাদিক সাযমন ড্রিং, একাত্তর টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল বাবু, সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সঙ্গীতশিল্পী, অভিনেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
চ্যানেলটি হবে অনুষ্ঠান ও সংবাদ নির্ভর। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নতুন টিভি চ্যানেলটি।
সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে চ্যানেলটোয়েন্টিফোরের ২৪ ঘণ্টার সম্প্রচার পরিকল্পনায় থাকছে- প্রতি ঘণ্টার সর্বশেষ আপডেট সংবাদ, দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠান, এক ঘণ্টার নাটক, ধারাবাহিক নাটক, টেলিফিল্ম, স্পোর্টস প্রোগাম, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শিশুদের নিয়ে নানা রকম অনুষ্ঠান, রান্না নিয়ে নানা আয়োজন, নানা রকম মিউজিক্যাল শো, আনপ্লাগড মিউজিক্যাল শো, সেলিব্রেটি টক শো, ফ্যামিলি শো, কমেডি শো, বিজনেস শো ও স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা শো ইত্যাদি।
এ কে আজাদ বলেন, ‘কোনো মিডিয়া শুরু করার চেয়ে তাকে সঠিকভাবে চালিয়ে জনপ্রিয় করা কঠিন। আমরা দৈনিক সমকালের পর এই চ্যানেল শুরু করলাম। আশা করি এই চ্যানেলটি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করবে।’
‘কর্তৃপক্ষ হিসেবে আমরা এই চ্যানেলে কোনো হস্তক্ষেপ করবো না। সাংবাদিকতার কঠিন ব্রতের মাধ্যমে এই চ্যানেল অবস্থান করে নেবে।’
সায়মন ড্রিং বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার এই দেশে নতুন চ্যানেল অবশ্যই সাহসী কাজ। আন্তর্জাতিক মান, বস্তনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও মানসম্পন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চ্যানেল তার অবস্থান করে নেবে বলে আশা করি। আমি একুশে টিভিসহ এদেশের আধুনিক টিভি সাংবাদিকতার শুরৃতে ছিলাম। আমি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ও পাশে খাকতে পেরে গর্বিত।’
অনুষ্ঠানের সবশেষে কেক কাটা হয় এবং অতিথিদের খাবার পরিবেশন করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ০৭৫৫ ঘন্টা, মে ২৫, ২০১১
সম্পাদনা: বিপুল হাসান, বিভাগীয় সম্পাদক/রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর