 |
ঢাকা: ভয়াবহ বন্যাক্রান্ত উত্তর কোরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। কম্যুনিস্ট শাসিত উত্তর কোরিয়া বর্তমানে মারাত্মক বন্যায় পীড়িত। টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় দেশটির জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিস্তৃত কৃষিভূমিও প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতিসংঘ জানায়, উপর্যুপরি বৃষ্টি ও বন্যায় উত্তর কোরিয়ার জনজীবন বর্তমানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত । বন্যায় জনগণের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিখামার এবং ধান ও ভুট্টা আবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী বন্যায় সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ ফিউনগান প্রদেশের সাংচুন অঞ্চল এবং আনজু নগরী। এছাড়া কাঙ্গুন প্রদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আনজু নগরীর কমপক্ষে ৩৬ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তারা বর্তমানে বিশুদ্ধ পানি এবং নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দূষিত পানি পান এবং নিরাপদ স্যানিটেশনের অভাবে সেখানে ডায়রিয়া বা কলেরার মত মহামারী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অবস্থিত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির অফিস থেকে একদল পরিদর্শক সম্প্রতি বন্যাক্রান্ত এলাকা থেকে আসার পর এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
বন্যায় গত মাসে ১১৯ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে জানানো হয়েছে। এছাড়া দশ হাজার লোকের গৃহহীন হওয়ার কথা স্বীকার করেছে তারা। তবে পরিস্থিতি সেখানে আরও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
কয়েক বছর ধরে চলা মারাত্মক খরার পরপরই উপর্যুপরি বন্যায় উত্তর কোরিয়ার কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার ২ কোটি ৪০ লক্ষ লোক খাদ্য ঘাটতির মুখোমুখি বলে গত জুন মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিলো।
বাংলাদেশ সময়: ১১৫৭ ঘণ্টা, আগস্ট ০৩, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম,নিউজরুম এডিটর