 |
ঢাকা: ইউটার্ন নিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজি রাকিবউদ্দীন আহমদ। গাজীপুর-৪ আসনের উপ-নির্বাচনের আগে ‘এ নির্বাচনকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের মডেল হিসেবে দেখছে ইসি’ এমন বক্তব্য দিলেও সোমবার তিনি তা অস্বীকার করলেন।
তিনি বলেন, ‘‘কোনো উপ-নির্বাচনই জাতীয় নির্বাচনের মডেল হতে পারে না। উপ-নির্বাচন সব সময় উপ-নির্বাচনই। গাজীপুর-৪ আসনের উপ-নির্বাচনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল বলে এটা ধরে নেওয়া যাবে না যে, ভোটাররা আমাদের (বর্তমান ইসি) প্রতি অনাস্থা দেখিয়েছেন।’’
সোমবার ইসি কার্যালয়ে টাঙ্গাইল-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তিনি এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।
এর আগে বর্তমান ইসির অধীনে প্রথম উপ-নির্বাচন হওয়ায় গাজীপুর উপ-নির্বাচনকে ‘মডেল নির্বাচন’ করা হবে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সিইসি নিজেই এ দাবি করেছিলেন। কিন্তু সোমবার তা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘‘কেউ এ কথা বললে, বলতে পারেন। কিন্তু এটা সঠিক নয়। আমি এ কথা বলিনি।’’
গাজীপুরের মতো নির্বাচন হলে তা কতোটুকু গ্রহণযোগ্য হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী রকিব বলেন, উপ-নির্বাচন তো উপ-নির্বাচনই। জাতীয় নির্বাচনের বিষয় জাতীয় নির্বাচনের সময় বোঝা যাবে।’’
গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে সিইসি জানান, ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোট দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘‘গাজীপুর-৪ উপ-নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করার জন্য সকল ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে একটি মডেল নির্বাচন করবো’’ বলে দেওয়া সিইসির এমন বক্তব্যও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ উপ-নির্বাচনে ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পড়ে।
ওই নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ আগামী উপ-নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সিইসি।
তিনি বলেন, ‘‘গাজীপুর উপ-নির্বাচন সুন্দর পরিবেশে হয়েছে। ভোট পড়ার এ হার আমেরিকান স্টান্ডার্ডে ভালো। আমাদের এখানে ৮০-৯০ শতাংশ হয়। ভোটাররা কোনো বাধার সম্মুখীন হননি। সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।’’
এ উপ-নির্বাচনে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি, বৃষ্টি, ভোটার স্লিপ বিতরণ না হওয়া, একই পরিবারের প্রার্থী থাকায় ভোটার উপস্থিতি কম ছিল বলে মনে করেন তিনি।
টাঙ্গাইল-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলসহ সবার অংশগ্রহণের অনুরোধ করেন সিইসি।
তিনি আরো বলেন, ‘‘বিরোধী দলকে আগেও আহ্বান জানিয়েছি, এখনো আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধান বিরোধী দল, সকল জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আপনাদের মাধ্যমে এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জহন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’’
বিএনপিকে উপ-নির্বাচনে আনতে আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা? জানতে চাইলে কাজী রকিব বলেন, ‘‘বিএনপির সঙ্গে আমাদের কোনো দূরত্ব নেই। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে তারা আমাদের সহযোগিতা করছে, সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে।’’
টাঙ্গাইল-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. খুরশীদ আনোয়ার, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান।
ইসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ, আবদুল মোবারক, জাবেদ আলী ও মো. শাহনেওয়াজ এবং ইসি সচিব মোহাম্মদ সাদিক উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৮, ২০১২
আরএম/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর