 |
ঢাকা: ২২ শ্রাবণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস। কবির জীবন সায়াহ্নে মৃত্যুর অল্প কিছুদিন পূর্বে লেখা কবিতাগুলি ‘শেষ লেখা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘শেষ লেখা’র কবিতাগুলিতে বিচিত্র-বর্ণিল জীবনের অন্তিমে পৌঁছে কবির জীবন জিজ্ঞাসা, মৃত্যু চেতনা ছায়াপাত করেছে। কাব্যগ্রন্থটির বেশিরভাগ কবিতাই কবি শয্যাশায়ী অবস্থায় লিখেছেন। সর্বশেষ দুটি কবিতা তার মুখ থেকে শুনে অন্যের দ্বারা লিপিবদ্ধ হয়েছে। শেষ দুটি কবিতার প্রথমটি ‘দুঃখের আঁধার রাত্রি’ কবি পরে সংশোধন করে দিলেও সর্বশেষতম রচনা ‘তোমার সৃষ্টির পথ’ কবিতাটি সংশোধন করার সুযোগ পাননি। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র পাঠকদের জন্য কবিগুরুর ‘শেষ লেখা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কয়েকটি কবিতা প্রকাশ করা হল।
রূপনারানের কূলে
রূপনারানের কূলে
জেগে উঠিলাম,
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।
রক্তের অক্ষরে দেখিলাম
আপনার রূপ,
চিনিলাম আপনারে
আঘাতে আঘাতে
বেদনায় বেদনায়;
সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা।
আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ জীবন,
সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে,
মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।
প্রথম দিনের সূর্য
প্রথম দিনের সূর্য
প্রশ্ন করেছিল
সত্তার নূতন আবির্ভাবে—
কে তুমি,
মেলে নি উত্তর।
বৎসর বৎসর চলে গেল,
দিবসের শেষ সূর্য
শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল
পশ্চিমসাগরতীরে,
নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়—
কে তুমি,
পেল না উত্তর।
দুঃখের আঁধার রাত্রি
দুঃখের আঁধার রাত্রি বারে বারে
এসেছে আমার দ্বারে;
একমাত্র অস্ত্র তার দেখেছিনু
কষ্টের বিকৃত ভান, ত্রাসের বিকট ভঙ্গি যত—
অন্ধকার ছলনার ভূমিকা তাহার।
যতবার ভয়ের মুখোশ তার করেছি বিশ্বাস
ততবার হয়েছে অনর্থ পরাজয়।
এই হার-জিত খেলা, জীবনের মিথ্যা এ কুহক
শিশুকাল হতে বিজড়িত পদে পদে এই বিভীষিকা,
দুঃখের পরিহাসে ভরা।
ভয়ের বিচিত্র চলচ্ছবি—
মৃত্যুর নিপুণ শিল্প বিকীর্ণ আঁধারে।
তোমার সৃষ্টির পথ
তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে,
হে ছলনাময়ী।
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে
সরল জীবনে।
এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বেরে করেছ চিহ্নিত ;
তার তরে রাখ নি গোপন রাত্রি।
তোমার জ্যোতিষ্ক তারে
যে-পথ দেখায়
সে যে তার অন্তরের পথ,
সে যে চিরস্বচ্ছ,
সহজ বিশ্বাসে সে যে
করে তারে চিরসমুজ্জল।
বাহিরে কুটিল হোক অন্তরে সে ঋজু,
এই নিয়ে তাহার গৌরব।
লোকে তারে বলে বিড়ম্বিত।
সত্যেরে সে পায়
আপন আলোকে ধৌত অন্তরে অন্তরে।
কিছুতে পারে না তা`রে প্রবঞ্চিতে,
শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে
আপন ভান্ডারে।
অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে
সে পায় তোমার হাতে
শান্তির অক্ষয় অধিকার।
বাংলাদেশ সময়: ০৫১৬ ঘণ্টা, ৬ আগস্ট , ২০১২
সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস, নিউজরুম এডিটর