 |
কিংবদন্তির নজরুল সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগমকে আজীবন সম্মাননা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (বাওয়া) গত ২৩ জুন সন্ধ্যায় পার্থের জন কার্টিন হলে এ সম্মাননা প্রদান করে।
দুই পুত্র মাইলস তারকা হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে সম্মাননা গ্রহণ করেন ফিরোজা বেগম।
আজম শান্তনুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাওয়া’র সভাপতির পক্ষে অধ্যাপক সৈয়দ মফিজুল ইসলাম। এরপর শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রবাসী শিল্পীরা নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। এতে অংশ নেন অমিত, সাথী, স্বর্ণা, রাইসা, সোহেল, নজরুল এবং পৃথ্বিজিৎ।
এরপর শিল্পী ফিরোজা বেগমের জীবনের ওপর নির্মিত ১০ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
এরপর শিল্পী ফিরোজা বেগমের হাতে আজীবন সম্মাননা পদকটি তুলে দেন বাওয়া সভাপতির পক্ষে সৈয়দ মফিজুল ইসলাম। শিল্পীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন বাওয়া’র সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাদাত এবং অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের অঙ্কিত একটি চিত্র হস্তান্তর করেন আয়োজক কমিটির সমন্বয়কারী ডা. আতাউর রহমান খান। সমাগত দশর্করা এ সময় দাঁড়িয়ে শিল্পীকে সম্মান প্রদশন করেন।
এরপর শিল্পী ফিরোজা বেগম তার জীবনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দশর্কদের সামনে তুলে ধরেন। সঞ্চালকের সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে এ সময় বিশেষভাবে উঠে আসে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তৎকালীন ইসলামাবাদ বেতারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নজরুল গীতি গাওয়ার বিষয়টি। সে অনুষ্ঠানে তিনি আরো গেয়েছিলেন ‘সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা সোনা নয় ততো খাঁট’ গানটি। শিল্পীর স্মৃতিচারণে আরো স্থান পায় তার বাল্যকালে গান শেখা, মামার সঙ্গে কোলকাতা যাওয়া, নজুরুল ইসলামের সামনে প্রথম গান গাওয়ার স্মৃতি প্রভৃতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দশর্করা মন্ত্রমুগ্ধের শিল্পীর কথা শুনতে থাকেন। স্মৃতিচারণ শেষে শিল্পী দু’টি নজরুল গীতি গেয়ে শোনান। বয়সের ভার তার চলার গতিকে শ্লথ করে দিলেও কণ্ঠের মার্ধুয ও অন্তর্নিহিত শক্তি হরণ করতে পারেনি। তাইতো শিল্পীর কন্ঠে ‘আমার যাবার সময় হলো দাও বিদায়’ গানটি সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
দীর্ঘ বিরতির পর এটি ছিল দ্বিতীয় অনুষ্ঠান, যেখানে তিনি সরাসরি দশর্কদের সামনে সংগীত পরিবশেন করলেন। এর আগে তিনি সংগীত পরিবেশন করেছিলেন তার প্রয়াত স্বামী কমল দাশগুপ্তের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে।
বিরতির পর শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশ। প্রথমে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাওয়া’র সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাদাত। এরপর মঞ্চে আসেন মাইলস তারকা ভাতৃদ্বয়- হামিন এবং সাফিন। তারা একের পর এক গেয়ে শোনান মাইলসের সব জনপ্রিয় গান। দশর্করা তখন অন্য রকম এক উত্তেজনায় ভাসতে থাকেন। প্রিয় গানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে, করতালি দিয়ে অথবা হাত দুলিয়ে শিল্পীদের উৎসাহ প্রদান করেন সকলে। এ সময় মঞ্চ এবং গ্যালারি যেন একাকার হয়ে যায়। বিশেষ ভালোলাগার অনুভূতি নিয়ে শেষ হয় দীর্ঘ এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানটি পার্থের বাঙালিদের কাছে গর্ব করার একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি ছিল মাইলসের ত্রিশ বছরের ইতিহাসে তৃতীয় অনুষ্ঠান এবং বিদেশের মাটিতে প্রথম অনুষ্ঠান, যেখানে মায়ের সামনে হামিন এবং সাফিন গান গাইলেন। আর এটাই সম্ভবত প্রথম অনুষ্ঠান যেখানে এক মঞ্চে মা এবং ছেলেরা গান করলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০২ ঘণ্টা, জুলাই ০২, ২০১২
সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর