 |
ঢাকা: বাংলাদেশ সরকারের ‘গ্রামীণব্যাংক অধ্যাদেশ’ সংশোধনের উদ্যোগের সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আরো ৪৬ জন নারীনেত্রী ও পেশাজীবী নারী।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘‘গ্রামীণব্যাংকের ৯৭ শতাংশ মালিকানা দরিদ্র মহিলাদের। এতে সরকারের মালিকানা মাত্র ৩ শতাংশ। ‘গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ’ সংশোধনের মাধ্যমে এই ব্যাংকের সরকার-নিযুক্ত চেয়ারম্যানকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকটিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন করার সামিল, অর্থাৎ তৃণমূল নারীর ব্যবস্থাপনাকে অস্বীকার করে তাদের ক্ষমতাহীন করার পদক্ষেপ।
‘‘আমরা এ সংবাদে গভীরভাবে মর্মাহত ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন’’ বলে উল্লেখ করে নারীনেত্রী ও পেশাজীবীরা বিবৃতিতে বলেন, "এ আয়োজন এখনই বন্ধ করতে হবে।"
উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৫৮ জন পেশাজীবী নারী ও নারীনেত্রী নোবেল বিজয়ী গ্রামীণব্যাংকের ওপর সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ওই প্রতিবাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেই আরো ৪৬ জন পেশাজীবী নারী ও নারীনেত্রী এ বিবৃতি দিলেন।
তারা দরিদ্র নারীদের মালিকানাধীন এ বেসরকারি ব্যাংকটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঋণগ্রহীতাদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ সমুন্নত রাখতে সরকারের এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার জন্যও দেশের সকল সচেতন নাগরিককে অনুরোধ জানান।
বিবৃতিতে নারী নেত্রীরা বলেন, ‘‘গ্রামীণব্যাংক পৃথিবীতে একটি অনন্যসাধারণ ব্যাংক, যা দরিদ্র মহিলাদের মালিকানাধীন। এর ৮৪ লাখ সদস্যের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে থেকে বছরের পর বছর এ জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিয়ে আসছেন। পৃথিবীর আর কোথাও এমন মডেলের কোনো ব্যাংকের নজির নেই।’’
‘‘গ্রামীণব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের ১২ জন সদস্যের মধ্যে ৯ জনই এই ব্যাংকের ৮৪ লাখ সদস্যের প্রতিনিধি। পরিচালনা পরিষদের বাকি ২ জন সদস্য ও চেয়ারম্যান সরকার মনোনীত। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে চেয়ারম্যান পরিচালনা পর্ষদের পরামর্শে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের জন্য ৩ জনের প্যানেল ঠিক করবেন, যা আগে পর্ষদের সিদ্ধান্তে হতো। গ্রামীণব্যাংক অধ্যাদেশের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে চেয়ারম্যানকে পরিচালনা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ঋণগ্রহীতা সদস্যদের, যাদের সকলেই নারী, মতামত অগ্রাহ্য করে অগণতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’’
‘‘এই সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকদের তাদেরই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় তাদের অধিকার অস্বীকার করছে। গ্রামীণব্যাংক গ্রামীণ দরিদ্র মহিলাদের মালিকানায় সম্ভবতঃ পৃথিবীর একমাত্র বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণব্যাংক একটি নোবেল পুরস্কারবিজয়ী ব্যাংক, যার দরিদ্র নারীদের ক্ষমতায়নের অনন্য উদাহরণ বিশ্বের দরবারে স্বীকৃতি লাভ করেছে।’’
তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘সকল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডের। সরকার একমাত্র গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানের ওপর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা অর্পণ করে যে ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, তা পক্ষপাতদুষ্ট ও অযৌক্তিক।’’
গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকদের অধিকার খর্ব করার সরকারের এ অযৌক্তিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের সকল সচেতন নাগরিককে দরিদ্র মহিলাদের মালিকানাধীন এ বেসরকারি ব্যাংকটিকে সরকারের আওতাধীনে নেবার এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার জন্যও আহ্বান জানান বিবৃতিদাতারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সারাহ আবেদিন, অধ্যাপক ফাহমিনা আবেদিন, আসমা আলম, আনুশেহ আনাদিল, অধ্যাপক ফেরদৌস আজিম, ড. দিল আফরোজ বেগম ছবি, অধ্যাপক দারিয়া নূর বেগম, জিনাত আরা ভূঁইয়া, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ফাহিমা চৌধুরী, গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরী, লুভা নাহিদ চৌধুরী, নাইলা চৌধুরী, রুবী গজনবী, এঞ্জেলা গোমেজ, অধ্যাপক ইয়াসমিন হক, লোপিতা হক, ড. সামিয়া হক, তাহিরা হক, অধ্যাপক জাহানারা হক, ড. হুমাইরা ইসলাম, ড. মাহমুদা ইসলাম ও ড. রওনক জাহান
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৩, ২০১২
এইচএমএম/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com