 |
ঢাকা: সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) অধ্যাদেশের ২ সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে ২৪ পরিচালকের দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বৃহস্পতিবার ৫ম দিনের শুনানি শেষে এ রায় দেন।
এ রায়ের ফলে শেয়ার বাজারে তালিকাভূক্ত কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কমপে ৩০ শতাংশ শেয়ার রাখা এবং প্রত্যেকের অন্তত ২ শতাংশ করে শেয়ার রাখা বাধ্যতামূলক করে দেওয়া এসইসির নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।
এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “এসইসির ২ সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পাঁচটি রিট দায়ের করেন কয়েকটি কোম্পানির পরিচালক। আদালত কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের বিস্তারিত শুনানি শুনেছেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন উনাদের বক্তব্য গ্রহণ করেননি। তাই পাঁচটি রিটই খারিজ করে দেন আদালত।”
তিনি বলেন, “কোর্টের শেষ দিন হওয়ায় লিখিত রায় প্রদান সম্ভব নয় বিধায় মৌখিকভাবে আদালত সব রিট খারিজ করে দিয়েছেন।”
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আদালত এ রিট খারিজ করে দিয়েছেন সুতরাং ২সিসি ধারা সংবিধান বহির্ভূত নয় এবং এটি বৈধ ধারা। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এসইসি এই ধারার মাধ্যমে যে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারবে।”
এদিকে রায়ের পর ড. কামাল হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, “আমি সর্ট আদেশ পছন্দ করি।”
রিটকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আক্তার ইমাম। ডিএসইর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম সিএসইর পক্ষে ড. হাসান আরিফ।
রাষ্ট্র ও এসইসির পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।
এর আগে বুধ ও মঙ্গলবার এবং তার আগের সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার একই বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়।
গত ৪ জুন পরিচালকদের শেয়ার ধারণ নিয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ২ সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে ৫ কোম্পানির ২৪ জন পরিচালকের দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে ২ সিসি ধারাকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে এক সপ্তাহের রুল জারি করেন উচ্চ আদালত।
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চটিই ওই রুল জারি করেন।
রুলে ১৩ জুনের মধ্যে এসইসি আইনের ওই ধারা কেন অসাংবিধানিক নয়, তা জানাতে বলা হয়।
ওইদিন সকালে প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেনের আদালতে ৫টি রিটের বিষয় ওঠে। তিনি এর শুনানির জন্য ৩০ নম্বর আদালতে (অ্যানেক্স) পাঠান।
এর আগে ২৪ মে ১১ নম্বর কোর্ট থেকে ২৪ পরিচালকের দায়ের করা রিটের নথি প্রধান বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, পরিচালকদের শেয়ার ধারণ নিয়ে এসইসি অধ্যাদেশ ১৯৬৯-এর ২ সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে ৫ কোম্পানি- এনসিসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও প্রাইম ফাইন্যান্সের ২৪ জন পরিচালক গত ২২ মে পৃথক রিট আবেদন করেন।
তাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ড. কামাল হোসেন, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, মাহমুদুল ইসলাম ও আকতার ইমাম।
২ সিসি ধারায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিকে শর্ত আরোপের মতা দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অথবা বিদ্যমান কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা শর্তারোপ দিতে পারবে।
ওই ক্ষমতা বলে গত নভেম্বরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ ও ব্যক্তিগতভাবে ২ শতাংশ শেয়ার সব সময় ধারণের বাধ্যবাধকতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
বাংলাদেশ সময়: ১১৪০ ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১২
এসএমএকে/ সম্পাদনা : নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন ও আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর