 |
ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানীর নেতৃত্বে কয়েক বছর গবেষণা চালিয়ে রাজিয়া নামের একটি মেয়ের কৃত্রিম হাত সংযোজন করা সম্ভব হয়েছে। মাত্র দুই হাজার টাকা খরচে তৈরি এই কৃত্রিম হাত দিয়ে সে কাগজে লেখাসহ ইলেকট্রনিক সার্কিট সোলডারিং করে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনস্থ সভাকক্ষে বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজিয়া তার কৃত্রিম হাত দিয়ে কাগজে লিখে এবং ইলেকট্রনিক সার্কিট সোলডারিং করে দেখায়।
তৈরি পোশাকের দোকানে সাজানো পুতুল বা ম্যানিকুইনের একটি হাত কিনে সেটিকে কেটে স্প্রিং লাগিয়ে এ ডিজাইন করেন ড. রব্বানী। এতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের তরল দুধ উৎপাদনকারী ফার্মফ্রেশ।
হাতটি বানাতে সাহায্য করে তার বিভাগের ফোরম্যান, গবেষণা ছাত্র ও ল্যাবরেটরি সহকারী নারায়ণ, সাথী ও পার্থ।
উল্লেখ্য, গরিব বিধবা মায়ের সন্তান রাজিয়া প্রায় ৭/৮ বছর আগে ফুটপাথে কোনো এক দুর্বৃত্তের ফেলে যাওয়া জর্দ্দার কৌটা সদৃশ বোমা নিয়ে খেলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়। তখন তার ডান হাতটি চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতাকালে অধ্যাপক রব্বানীর নেতৃত্বে বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের গবেষণার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জনগণের দোরগোড়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফলাফল নিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন প্রচেষ্টাকে অভিনন্দন জানান।
তিনি এ ধরনের গবেষণায় সহযোগিতা প্রদানকে সামাজিক দায়িত্ব হিসাবে আখ্যায়িত করে ফার্মফ্রেশ তথা আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লি. কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক ড. খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী এবং আকিজ গ্রুপের পরিচালক শেখ জামিল উদ্দীন।
উপস্থিত ছিলেন রাজিয়ার মা, বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মকর্তা এবং আকিজ গ্রুপের পরিচালক শেখ শামীম উদ্দীন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ সময়: ১৭০০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১২
এমএইচ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর