|
|
|
|
|
খোলা চিঠি অসাধুদের হাত থেকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের বাঁচান
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
|
 |
আমি বাংলাদেশের একজন ছোটখাটো রিকন্ডিশন্ড(ব্যবহৃত)গাড়ি আমদানিকারক। ব্যবসার ক্ষেত্রে সবসময়ই আমি সরকারের নীতিমালা মেনে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু বর্তমানে একশ্রেণীর বৃহৎ রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানিকারকের আইন ফাঁকি প্রবণতার কারণে আমাদের মত ব্যবসায়ী, যারা সরকারের প্রচলিত আইন মেনে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করছেন, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পাশাপাশি এ খাত থেকে উপযুক্ত রাজস্ব আদায়ে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
এক শ্রেণীর গাড়ি আমদানিকারক সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমাকে অগ্রাহ্য করে মেয়াদোত্তীর্ণ রিকন্ডিশন্ড যানবাহন খুব কম দামে জাপান থেকে এনে বাংলাদেশের মংলা বন্দর দিয়ে শুল্ক ছাড় করাচ্ছে। দেশের উচ্চ আদালতে করা একটি রিটের বিপরীতে তারা এ সুযোগ লাভ করেন। এই আমদানিকারকরা এতবেশি প্রভাবশালী যে প্রায় এক দশক ধরে উচ্চআদালতে রিটকে ঝুলিয়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছেন তারা।
এইসব মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন বাংলাদেশে নিয়ে আসার মাধ্যমে তারা দেশের বর্তমান রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি নীতিমালাকে লঙ্ঘণ করছেন। তবে উচ্চ আদালত থেকে এগুলোকে আপাতত ছাড়পত্র দেওয়ার অন্তর্বতী নির্দেশনা থাকলেও এগুলোর ওপর জরিমানা আদায় করার ক্ষমতা আছে সংশ্লিষ্ট কাস্টম কমিশনারের। চট্টগ্রাম বন্দরে এই জরিমানার পরিমাণ ২শ’ শতাংশ। পক্ষান্তরে মংলা বন্দরে আদায় করা হয় মাত্র ৫ শতাংশ জরিমানা। ফলে সরকারি নীতিমালার ফাঁক গলিয়ে ওই সব মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন ঢোকানোর জন্য এসব আমদানিকারক মংলা বন্দরকেই বেছে নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী শুল্ক পরিশোধকারী রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানিকারকরা অসাধু আমদানিকারকদের বিপরীতে ব্যবসায় অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
আমি সাংবাদিক মহলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করছি আইন মেনে চলা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের এই অসম প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষার জন্য।
দুঃখজনকভাবে মংলা বন্দর কাস্টমস এই বেআইনী কার্য্যক্রমকে উৎসাহিত করছে। তারা মেয়াদোত্তীর্ণ রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানিকারকদের শুল্ক ছাড়পত্র প্রদানের যে সুবিধা দিচ্ছে সাধারণত চট্টগ্রাম বন্দরে তা দেওয়া হয় না।
উল্লেখ্য বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী এসব মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির শুল্ক ছাড়পত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর বিপরীতে এসব অসাধু আমদানিকারক উচ্চ আদালতে একটি রিট করে। পরবর্তীকালে উচ্চ আদালত যানবাহনগুলোকে বন্দর থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ব্যাপারে একটি অন্তর্বতীকালীন আদেশ দেন।
পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কাস্টম কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে এর বিরুদ্ধে আবেদন করে, এক্ষেত্রে হাইকোর্ট একই আদেশ বহাল রাখলেও চট্টগ্রাম কাস্টমসের এখতিয়ার আছে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের শুল্ক ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে গাড়ি প্রতি ২০০ শতাংশ জরিমানা আরোপ করার। চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দৃঢ়তায় এসব অসাধু আমদানিকারক সুবিধা করতে না পেরে অবশেষে মংলা বন্দর দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি দেশের ভেতর প্রবেশ করাচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সুযোগেই তারা এ কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন মংলা বন্দরে প্রায় ৪০০০ মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি খালাস পাবার অপেক্ষায় আছে।
স্বাভাবিকভাবেই এসব ঘটনা সুশাসনকে বিঘ্নিত করছে এবং দেশের আইন মেনে চলা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানিকারকদের স্বার্থ ধ্বংস করছে। তাই দেশের সকল ক্ষুদ্র ও মাঝারি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানিকারকদের পক্ষে আমি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকষর্ন করছি।
ধন্যবাদান্তে- হাবিবুর রাহমান খান dr_habib257@yahoo.co.uk
বাংলাদেশ সময়: ২০৩৮ ঘণ্টা, জুন ০২, ২০১২ সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর; আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর ahsan@banglanews24.com
|
|
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
|
|
|
|
|