সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবু জাফর শামসুদ্দীন স্মরণে বাংলা একাডেমী ১২ জুন বিকেল ৪ টায় একাডেমীর সেমিনার কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর সচিব মো. আলতাফ হোসেন।
‘পদ্মা মেঘনা যমুনা : সাবেকী অথবা আধুনিক’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক মফিদুল হক। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম ও সুব্রত বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমরেড অজয় রায়।
স্বাগত ভাষণে মো. আলতাফ হোসেন বলেন, আবু জাফর শামসুদ্দীন মুক্তিযুদ্ধে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বাংলা একাডেমীতে তাঁর কর্মজীবন ছিল অত্যন্ত সফল। একাডেমীর সূচনাপর্বে অনুবাদ বিভাগকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা স্মরণযোগ্য।
প্রাবন্ধিক মফিদুল হক বলেন, আবু জাফর শামসুদ্দীন এক ঐতিহাসিক যুগসন্ধির সন্তান। এই উত্তালতার প্রভাব তাঁর সাহিত্যকর্মেও প্রতিফলিত হয়েছে। ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ শীর্ষক বিশালকায় উপন্যাসও উপর্যুক্ত প্রেক্ষিতে বিচার্য। অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মুক্তির আকাক্সক্ষা ও বাঙালির শাশ্বত স্বাধীনতার সাধনা এই উপন্যাসের চরিত্র ও কাহিনী বিস্তারে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। বিপ্লবী সমাজবাদ তাঁর কথাসাহিত্যের নেপথ্যে সক্রিয় ছিল। এপিক উপন্যাসের কাঠামোয় তিনি ধরতে চেয়েছেন বিশাল বাংলাকে।
তিনি আরও বলেন, জীবনঘনিষ্ঠ শিল্পের প্রতি অঙ্গীকারের স্বাক্ষর অঙ্কিত হয়েছে পদ্মা মেঘনা যমুনায়। এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে বাঙালির সমন্বিত জীবনসাধনার স্বরূপ। শুধু বাস্তবতার উপস্থাপন নয়, করুণ বাস্তবতা থেকে উত্তরণের সংগ্রাম ও স্বপ্নের কথাও এখানে রূপায়িত হয়েছে। পদ্মা মেঘনা যমুনা সাবেকী কালকে ধারণ করেও চেতনায় আধুনিক।
সুব্রত বড়ুয়া বলেন, আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন সর্বতোমুখী ব্যক্তিত্ব। বিজ্ঞান-দর্শন-রাজনীতি বিষয়ে তাঁর যে অনন্য ব্যুৎপত্তি ছিল তার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর সৃষ্টিকর্মে। বাংলাদেশের কালক্রমিক ইতিহাসকে তিনি উপন্যাসের অবয়বে ধরতে চেয়েছেন।
অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, আবু জাফর শামসুদ্দীনের আত্মজীবনী আত্মস্মৃতিতে ধরা আছে বিশ শতকের বাংলার ইতিহাসের অনেক অজানা অধ্যায়। বাংলার সমাজ-রাজনীতির অনুপুঙ্খ চিত্র এখানে উদ্ভাসিত।
সভাপতির ভাষণে কমরেড অজয় রায় বলেন, আবু জাফর শামসুদ্দীন ত্রিকালদর্শী লেখক। তাঁর রচনায় বাক্সময় হয়েছে বাঙালির সংগ্রামী ঐতিহ্য। তাঁর কথাসাহিত্যে যেমন তৃণমূল মানুষের জনজীবন উঠে এসেছে তেমনি তাঁর প্রবন্ধ-নিবন্ধের মধ্য দিয়ে তিনি শক্তিশালী করেছেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধারণাকে।
অনুষ্ঠানে আবু জাফর শামসুদ্দীনের ‘মুক্তি’ উপন্যাসের অংশবিশেষ পাঠ করেন আবৃত্তিশিল্পী কাজী আবু জাফর সিদ্দিকী।
বাংলাদেশ সময় ১৮৪১, জুন ১২, ২০১২
সম্পাদনা : ফেরদৌস মাহমুদ, শিল্প-সাহিত্য সম্পাদক