 |
ঢাকা: গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের উপ-নির্বাচনকে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য নিরপেক্ষতা অজর্নের ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা কালে তিনি বলেন, ‘‘গাজীপুর-৪ অসনের উপ-নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইসি তার নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে চায়।’’
এজন্য যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
এজন্য নির্বাচনী কাজে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের ইসির পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পোলিং অফিসারদের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে ইসি।
নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক প্রশিক্ষণের যাবতীয় অর্থ দ্রুত বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
৫ শতাংশ বাড়তিসহ এ নির্বাচনে ৬০৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৯৯১ জন পোলিং অফিসার নিযুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচনের কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৩ হাজার ৮শ’ টাকা।
৩০ সেপ্টেম্বর গাজীপুর-৪ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আনুমানিক চার হাজার আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী নিয়োগ করা হবে। এছাড়া মাঠে থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্ট্রাইকিং টিম।
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মোরগ প্রতীক নিয়ে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই আফছার উদ্দিন ও নৌকা প্রতীক নিয়ে তার মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী আসাদুল্লাহ বাদল অংশ নিচ্ছেন কাস্তে প্রতীক নিয়ে।
কোনো আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্নের বিষয়ে সংবিধানের ১২৩ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’
গত ৭ জুলাই আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। সশরীরে উপস্থিত হয়ে স্পিকারের হাতে তা জমা দেন তানজিম আহমেদ।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল সোহেল তাজ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তার এপিএসের মাধ্যমে সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কার্যপ্রণালী বিধি না মেনে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ায় স্পিকার তা গ্রহণ করেননি। স্পিকার তখন বলেছিলেন- যথাযথ নিয়ম মেনে পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা গ্রহণ করা হবে।
২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ আসনে ১ লাখ ১০ হাজার ৬৮২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদের ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ পান ৬৪ হাজার ৪৬৬ ভোট।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেও ২০০৯ সালের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ। তবে সে সময় রাষ্ট্রপতি তা ‘গ্রহণ করেননি’ বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ওই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার তিন বছর পরও সোহেল তাজের ব্যাংক হিসাবে প্রতিমন্ত্রীর বেতন-ভাতা জমা হতে থাকায় গত ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেন তিনি।
পাশাপাশি তিনি পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারিরও আবেদন জানান। সেই সময় থেকে তার ব্যক্তিগত হিসাবে পাঠানো বেতন-ভাতার যাবতীয় অর্থ ফেরত নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে মহাজোটের প্রধান শরীক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এ নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে সে অবস্থান থেকে সরে আসে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১২
আরএম/এআর/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর