 |
অরিগামি
বিষণ্নতা ঘামের সাথে পরনের শার্টে লেগে গেলো। এইবার খেলাসব লীলা হবে পৌঢ় কলের তলায়। সাবানের ফেনায় ভেসে ঢেকে যাবে বিষণ্নময়লা। অরিগামি দেহের ভিতর লালায়িত যতো লালা ও লাল উঁকি দেবে ঠিক বুধবারের আগে। তুমি মোটামুটি মোটা দেহে ঢেকে বয়ে নিয়ে যাবে অগোছালো ভাইরাস। আমি কলতলার ধোপা ধূপের গন্ধে ফিরে যাবো গৃহে। গৃহ মানে ঘর, ধূপ মানে রোদ। আমাদের দরোদের বনে ধূপছায়া ছিলো একাকেকা কোকিলের চুল-- তারপর ভাঁজে ভাঁজে হাত রেখে হারালো আঙুল।
ব্যঞ্জনবর্ণ
আজ এলাম দেরি করে। বিভিন্ন দিনের লোভ ঠেলে কবোষ্ণ আয়নায় মুখ দেখে ফিরে যাবো। লাল বাসনার পাড়ে উল্টে আছে ব্যঞ্জনবর্ণ ফলন। আমি শিখি নি। গুটিয়ে নিয়েছিলাম চোখ, হাতের আঙুল, কম্পমান আলজিব। শর্ষে জ্বলা দুপুরের শোভা পকেটে পুরে পথহীন জনপথে চক্রাকার। এলাচের ঝাড়ে দুইটি ময়ূর হারালে পালক আমার মনে পড়ে পলিপড়া ভিটে। কাঠের ছাতে আলকাতরার গায়ে হাঁসের পায়ের ছাপ। আহা রাত এসেছিলো।
আজ এলাম দেরি করে। বিভিন্ন দিনের লোভ ঠেলে কবোষ্ণ আয়নায় মুখ দেখে ফিরে যাবো। আমি তো কখনো শিখি নি ব্যঞ্জনবর্ণ ফলন, ব্যবহারের রাতে ভেঙে যাওয়া তিনটি বকুল।
স্বপ্নের বর্জ্য
তারা বললো আমাকে পাওয়া গিয়েছিলো হরিণের চোখের ভিতর, ভয়ার্ত। জ্যোতিষ্চক্র শুদ্ধতায় উপড়ে আসে শীত। খুব দ্রুত এবং খামারের পাশের খড়ের গাদায় কাঁপন। সৌকর্যের অবিদ্য পানশালা। তারা এসেছিলো। তারা এসেছিলো জ্বরের ঘনক। আর আমি দণ্ডায়মান ভূমির সরোজ, কখনো পদ্মপাতায় টলোমল।
কেউ গোর ভাঙছে, ঘুম ছিঁড়ছে কিংবা অন্ধকারে চুষে খাচ্ছে আপন ঠোঁটের রক্ত। আর বিকলাঙ্গ বাসনা ঝরে পড়ছে ঝড়ের ফাঁক গলে, ঘনায়মান জ্বর। এই ডুবোজ্বর বানালো আমার গল্পের শরীর। তারা বাইশটি করাত দাঁতহীন করে একটি অরণ্যের কাছে পুজো দিলে আমি নিশ্চুপারতি। তারাবাতি ধীরে মুঠোর ভিতর ভস্মহিমালয়। আঁখিঠার কাঙাল কেকা, শার্টের পকেটে শুকিয়ে যাওয়া তিনটি দোয়েল, ঘ্রাণবহ। নির্জন স্বরমণ্ডলে ডুবে যাওয়া আঙুল ভুলিয়ে দিলে নারী ও মদ-- কাউকে খুঁজি না গীতবিতানে। কেউ ঘুরছে। খুলে দিচ্ছে সর্বোচ্চ গীতবিতান, রবীন্দ্রনাথের ললিত বৈকল্য।
তারা বললো আমাকে পাওয়া গিয়েছিলো বুড়ি পিথিয়ার ভাঁজপড়া চোখের কোলে, নিষ্পলক। আমি আনন্দিত—অ্যাপোলোর অহম ও অবিমৃষ্য খেলা। আমি কাজল নই, তারপরও কেউ আকাশ ঘেটে তছনছ করে আষাঢ়ের তৃতীয় দিবস। তারা রক্তের রঙ পাল্টে ধুয়ে দিচ্ছে স্বপ্নের বর্জ্য এবং লালা।
ভাসমান বেলুন
কী এক বোতল। ভাঙা ছাপাখানা। পরস্পর পাশাপাশি। বোতল হতে চেয়েছিলো কালি। একতাড়া কাগজ পড়ে আছে পায়ের কাছে। শাদাত্বক তার খেয়ে গেছে বয়েসি ঝাড়ুদার। নিষিদ্ধ গল্পরা মাথায় আটকে গেছে। কার মাথার ভিতর রক্ত হয়ে আছে থোকা থোকা বে-দানা? হা হা তোলে রাবারের বোতলের ভিতর জমে আছে পানি আর পণিরের শ্বাস। উত্তরার চোখে বৃহন্নলাও কামনা হয়ে থাকে। তারপর খালি বোতল স্বপ্ন দেখে— হতে চায় উত্তরা, চায় বিরাটের নির্লোভ উত্তরাধিকার।
কালি সব ছাপা হয়ে গেছে। সব কাগজ কালির জাতক। সব গল্প নিষিদ্ধ নয় বলে
ভাসমান বেলুন আর ঝুলন্ত হাওয়াইমিঠাই হয়ে আছে।
ছায়াপথের ধূলি
এখন মুঠো খুললেই আঙুল হারানোর ভয়। ভেঙে গেছি মাঝরাতে শহরের পথ। এই শহর শুয়ে আছে, শুয়ে আছে পাটগন্ধডোবার মনকেমনকরা যাতনায়। আমাকে খুঁড়ে এনে এখানে ফেলে দিলো পলিস্টার তারা। ছায়াপথের ধূলি ধরে কবে চুরমার হয়ে গেছে অর্কিড বারান্দার লালা ও রস! রসদ ছিলো কিছু দূরান্তের পণ্যবাহী হারানো খোঁয়াড়ে। মহিষের স্বরে ভুলে যাই বহুদূর জংলার বহর। তোমাদের ত্বক স্যাঁতসেঁতে রোগের উন্মুল ক্ষত। ক্ষতের ভাঁজে ফুরোয় ভোর।
ভোর ছিলো হাতের পাঁচটি আঙুল। উপসর্গের কথা নয়, ধরে ছিলাম মুঠোতে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৫ ঘণ্টা, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২