 |
ঢাকা: আগামীতে নির্বাচনে নিজেদের পক্ষে আনতে জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিক খেলা চলছে বলে মত দিয়েছে বিবিসি সংলাপে প্যানেল বক্তা ও দর্শকরা। জামায়াত নিষিদ্ধ করার অনেক আগেই সুযোগ থাকলেও তা করা হয়নি। সরকার বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে এখন রাজনীতি করছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলা সংলাপে প্যানেল আলোচনায় এরকম মতামতও প্রকাশ করা হয়েছে।
সংলাপে প্যানেল বক্তা ছিলেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রীম কোট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান।
মৌসূমী রুপা নামের একজন দর্শক প্রশ্ন করেন শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে যে ছয়দফা দাবি দেওয়া হয়েছে তা আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব কী না?
এর উত্তরে শাহরিয়ার কবির বলেন, বাস্তবায়ন না হওয়ার কোন কারণ নেই। যে কোন সময় জামায়াত নিষিদ্ধ হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল যে কোন সময় চাইলেই জামায়াতের বিচার করতে পারবে। এজন্য নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি রিট করা হবে।জামায়াত সাংবিধানিক দল তবে সংবিধান বিরোধী কাজ করলে আদালত তাদের নিষিদ্ধ করতে পারবে।
এলিনা খান বলেন, শাহবাগ সত্যিকার অর্থে জনজাগরণ। যত দ্রুত সম্ভব সংসদে উথাপন করলে বাস্তবায়ন সম্ভব। শাহবাগের দাবিগুলো যদি আইন সম্মত হয় তবে আমার ব্যক্তিগত সমর্থন আছে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন জামায়াত নিষিদ্ধ হলে রাজনীতিক ঝুকিঁ হবে কী না ? জানতে চায়লে এলিনা খান বলেন, নিষিদ্ধ হলে পরিস্থিতি আরো মারাত্মক হবে। এই বিষয়টি বিবেচনা আনতে হবে। দর্শকের মধ্যে অনেকইে মত দেন জামায়াত নিষিদ্ধ বিষয়ে জাতিসংঘের সহায়তা নেওয়ার ।
দশর্কদের কয়েকজন প্রশ্ন করেন জামায়াত নিষিদ্ধ হলে তাদের জনশক্তি বিএনপিতে যোগ দিতে চাইলে বিএনপি কী করবে? জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি সরকারের কাজ। তারা নিষিদ্ধ হলে আওয়ামী লীগেও যোগ দিতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার জামায়াত নিষিদ্ধ ব্যাপারে এরইমধ্যে আইনে পাশ করেছে। কিন্তু আইনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এই আইনটি সরকারই স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ হলে আমরা বিবেচনা করবো। আইনটি নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সরকার জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলছে। কারণ এ খেলা ৯৬ হয়েছে এখনও চলছে। কাজেই সব দিক বিবেচনা করে সিন্ধান্ত নিতে হবে।
এই প্রশ্নেবর জবাবে কামরুল ইসলাম বলেন, প্রজন্ম চত্বর থেকে যে ছয়দফা দাবি, তা মানা সম্ভব। অচিরেই সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে রাজিব হত্যার বিচারে সরকার চেষ্টা করছে।
জামায়াত নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গ মন্ত্রী বলেন, একটা রিট প্যান্ডিং আছে। আরেকটা রিট দায়ের হলে একত্রে শুনানি হবে। এছাড়া সংশোধিত আন্তজাতিক যুদ্ধপরাধ আইনেও জামায়াত বিচার করা যাবে। গোলাম আযম বা কামারুজ্জামান এর রায়ে ফাইন্ডিংস হয়, তবে ট্রাইব্যুনাল ২০/২ ধারা অনুযায়ী অর্থদণ্ড ও নিষিদ্ধ করতে পারবে।
সংসদে আমাদের সংখ্যাগরিষ্টতা আছে তাই যেকোন অপশনে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা যাবে। ছয়দফা দাবি বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
উত্তরে জয়নূল আবেদীন বলেন, সংশোধনী আইনে ট্রাইব্যুনাল জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে কোন নির্দেশ দিতে পারে না। তবে সরকার যদি আবেদন করে তবেই নির্দেশ দিতে পারে।
আমিরুল ইসলাম নামে একজন দর্শক প্রশ্ন করেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করলে তাদের জনবলকে কীভাবে দমন করবেন ?
এর উত্তরে কামরুল ইসলাম বলেন, সংসদের দিকে তাকালেই বুঝা যাবে জামায়াতের জনসমর্থন আছে কী না। মাত্র দুটি আসন পেয়েছে। তাদের আচরণ খুবই খারাপ। তাদের নিষিদ্ধ করতে কোন দ্বিধাদ্বন্দে¦র কারণ নেই। তাদের কারণে আমরা রাজনৈতিক ঝুঁকিতে আছি। জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে জনমত তৈরি করতেই এতোদিন আমরা সময় নিয়েছি।
মন্ত্রী এমন মন্তব্যে জয়নুল আবেদীন প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনি কী আইনমন্ত্রী নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে জামায়াত মতিঝিলে সমাবেশ করছে। আর আপনি বলছেন পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আপনি আইনের গণ্ডির মধ্যে সীমাবন্ধ থাকবেন।
একজন দর্শক প্রশ্ন করেন জামায়াত নিষিদ্ধের আগে তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ করা ঠিক কী না ?
এর উত্তরে শাহবিয়ার কবির বলেন, এটি আইনি বিষয়। যদি ইসলামী ব্যাংক জঙ্গি কাজে অর্থায়ন করে তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা নিবে। তবে মনে রাখতে হবে জামায়াত আইনি সংগঠন। সভা সমাবেশ করার অধিকার তাদের আছে। তারা যদি সভা সমাবশে করতে চায় তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে। তবে সন্ত্রাসী কার্যত্রুম করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।
এমন সময় এক দর্শক মন্তব্য করেন, শাহবিরার কবিরকে বলেছিলেন,সব যুদ্ধপরাধীর বিচার করা হবে? দর্শক প্রশ্ন রাখেন তাহলে মানবতা বিরোধী অপরাধে সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে কেন? সরকারের মধ্যে অনেকেই মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। তাদের কেন বিচার হচ্ছে না?
শাহবাগের বিএনপি কেন সমর্থন দিলো না একজন দর্শক প্রশ্নের জবারের জয়নুল আবেদীন বলেন, এটি বিএনপির রাজনৈতিক সিন্ধান্ত। কিন্তু শাহবাগের আন্দোলনের নেতৃত্বের বিষয়টি বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব পর্যবেক্ষণ করছে।
এলিনা খান বলেন, শুধু জামায়াত নয় সরকার ও বিরোধী দলে অনেক যুদ্ধাপরাধী আছে। তাদের বিচার করতে হবে। জামায়াত এমন একটি দল যাদের দুই দলই কাজে লাগায়। তারা সরে গেলেই তাদের জনসমর্থন থাকবে না।
কামরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী জামায়াত কোন সখ্যতা নেই। সত্য কথা হলো ৯৬ জামায়াত আওয়ামী লীগ এক দাবিতে আন্দোলন করেছে কিন্তু একত্রে নয়। তিনি বলেন, আজকে যাদের বিচার হচ্ছে সরকারের মধ্যে কোন যুদ্ধাপরাধী থাকে আমাকে প্রমাণ দেন কালকের মধ্যে বিচার শূরু করবো।
সঞ্চালক আকবর হোসেন শেখ হাসিনা ও গোলাম আযমের একত্রে ছবি বিষয়টি তুলতে আইন প্রতিমন্ত্রী এর প্রমাণ চান।
রাজিবের ব্লগে যে লেখা কী না তা অনুসন্ধানে দুই একদিনের মধ্যে তথ্যানুন্ধান কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান কামরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ সময়: ২১২২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২২,২০১৩
এনএম/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর