 |
ঢাকা: গত এক বছরেও ভিক্ষুক জরিপের কাজ শেষ করতে পারেনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজকল্যাণ অধিদফতর এ জরিপ কার্যক্রম চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে গত ২০১১-১২ অর্থবছরে ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এজন্য এ খাতে ৭ কোটি টাকা অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় গত বছর সেপ্টেম্বরে ঢাকা মহানগরীতে ভিক্ষুক জরিপ ও ভিক্ষুকদের একটি ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করা হয়। একজন ভিক্ষুকের ডাটাবেজ তৈরিতে ২৪০ টাকা হিসাবে দশটি এনজিওকে সম্পৃক্ত করা হয় এ কাজে। কিন্তু প্রায় এক বছরেও ভিক্ষুক জরিপের কাজ শেষ হয়নি।
এদিকে জরিপের কাজ শেষ না হলেও বরাদ্দ ৭ কোটি টাকার প্রায় পুরোটাই ব্যয় হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি যেসব এনজিওকে জরিপ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, এদের কারোরই এ ধরনের কাজে অভিজ্ঞতা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
যে দশটি এনজিওকে ভিক্ষুক জরিপ ও ডাটাবেজ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- হিতৈষী বাংলাদেশ, আর্স বাংলাদেশ, অপরাজেয় বাংলাদেশ, জনসেবা কেন্দ্র, অ্যাসোসিয়েশন ফর রিনোভেশন অফ কমিউনিটি হেলথ এডুকেশন সার্ভিস, কান্ট্রি ভিশন, বেডো, সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি এবং বিআরসিটি।
জরীপ কাজ শেষ না হওয়ায় গত জুন মাসে ময়মনসিংহে প্রকল্পটির উদ্বোধন করার পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। যদিও বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘‘ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে ঢাকা মহানগরীর ১০ হাজার ভিক্ষুকের ওপর জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। জরিপকৃতদের মধ্যে ২ হাজার জনকে ময়মনসিংহ, বরিশাল, ঢাকা ও জামালপুর জেলায় পুনর্বাসনের কাজ চলছে।’’
এদিকে মূল প্রকল্পের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে না পারলেও চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘‘ঢাকা মহানগরীকে ১০টি জোনে ভাগ করে এ জরিপ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এনজিওগুলোকে তাদের জরিপ প্রতিবেদন আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেগুলোকে শ্রেণীবিন্যাসের মাধ্যমে একটি ডাটাবেজ তৈরি করে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’’
এ পর্যন্ত কতজন ভিক্ষুকের জরিপ কাজ সম্পন্ন হয়েছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে পৃথক একটি সূত্রমতে, এ সংখ্যা এক হাজার বা এর কিছু বেশি হতে পারে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, নির্বাচিত ভিক্ষুকরা যাতে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন, সেজন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে তাদের রিকশা, ভ্যান বা টং ঘর প্রদান কিংবা নগদ অর্থও (সাড়ে ২৩ হাজার টাকা) দেওয়া হতে পারে।
সূত্রমতে, অধিদফতরের আগ্রহ নগদ অর্থ প্রদানেই। আর যে এনজিওগুলো জরিপ কার্যক্রম চালাচ্ছে তাদের মাধ্যমেই এ অর্থ দেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ সময়: ২০৩৫ ঘন্টা, আগস্ট ১৯, ২০১২
এসআর/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর