 |
ঢাকা: আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে পরাজিত (উৎখাত) করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি একই সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আশা প্রকাশ করেন।
সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত “বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, আগামী দিনের নেতৃত্ব ও তারেক রহমান” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।
ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবির, বিএমএ’র সাবেক সভাপতি ডা. এম এ মাজেদ, কবি আল মুজাহিদী, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, ডা. মুস্তাহিদুর রহমান ও চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল এসময় ছাত্রদলকে বিভিন্ন ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ে আলোচনাসভার মাধ্যমে দেশের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তিনি ছাত্রসমাজকে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মানবতাবিরোধী এ সরকারকে পরাজিত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল করতে বাধ্য করার আহ্বান জানান।
তিনি তারেক রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের উত্তরসুরি আখ্যায়িত করে বলেন, “তারেক রহমান দেশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক।”
তিনি বলেন, “বিশ্ব প্রতিযোগিতার এ যুগে দেশকে টিকিয়ে রাখতে আগামী দিনে তারেক রহমানের বিকল্প নেই।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশে আজ আইনের শাসন নেই। দেশ এখন অন্ধকারে। আমাদের নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এ সরকার কিছুই বলে না। রাজনৈতিক নেতাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্যাতন। দুর্বিসহ হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জীবন। সীমান্ত-হত্যা নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে গেছে। কিন্তু এ নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা নেই। তাদের একটাই উদ্দেশ্য, ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা। আর এ জন্যেই তারা আদালতের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করে ক্ষমতায় থাকার উপযোগী করেছে।”
তিনি বলেন, “এ নিয়ে কথা বলা যাবে না। কিছু বললেই সংবিধান লঙ্ঘন হবে। সুতরাং এটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংবিধান হতে পারে না।”
তিনি আরো বলেন, “নিদারুণ সময় পার করছে দেশ। অন্ধকার সময়। যে আশায় এ দেশের মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছিল, সে আশা এবং স্বপ্নকে খান খান করে দিয়েছে তারা। আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিবাদী সরকার। এদের চেহারা আবার পূর্বের মতো ফুটে উঠেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের ভাষায় এরা ফ্যাসিস্ট। তারা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দানবীয়ভাবে জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা স্বনির্ভরতায় বিশ্বাস করে না। পরনির্ভরতাশীলতা বিশ্বাস করে বলেই সকল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে।”
অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, “বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসবে। শেখ হাসিনাসহ তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনকারীদের বিচার করা হবে।”
এছাড়া রিভিউ করে আইনের মাধ্যমে আবারও খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হবে-- এটা তার বিশ্বাস বলে জানান অ্যাড. জয়নাল।
আদালতের রায়ে সংবিধান সংশোধন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবির বলেন, “এ রায় জনগণের রায় না। এ রায়ে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়নি।”
তিনি বলেন, “শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন কোনোটাই আদালতের রায়ে হয়নি। সে আদালত কীভাবে স্বাধীনতার ঘোষক ও জাতির পিতা নির্ধারণ করে?”
বাংলাদেশ সময়: ২০২০ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০১২
এসএমএ/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর; আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com